বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:৫৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম
শিরোনাম
মোংলা বন্দর আধুনিকায়নে ৪,০৬৮ কোটি টাকার মেগা প্রকল্প ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী মনপুরা সরকারি ডিগ্রী কলেজে এইচএসসির ফলাফলে চরম বিপর্যয়, ১৫৮ পরীক্ষার্থীর ১২৮ জনই অকৃতকার্য চট্টগ্রামে চাঞ্চল্যকর অপহরণ, ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি মামলার প্রধান আসামি “নূরু” গ্রেপ্তার। আগামীকাল মোংলা বন্দরে প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে উন্নয়নের আশার আলো মনপুরায় স্বামী পরিত্যক্ত নারীকে মারধর ও শ্লীলতা হানির অভিযোগে যুবদল নেতা আটক। সুন্দরবনে বন-বিভাগের অভিযানে ফাঁদে আটকা বন্যপ্রাণী ফিরে গেল বনে উদ্দার ১৪৮ ফাঁদ জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান দিবসে ডেঙ্গু সচেতনতা ও বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত ভুয়া এনআইডি বানিয়ে কোটি টাকার সার বাণিজ্য, নেপথ্যে ফ্যাসিস্ট দোসর ইউসুফ। কাট্টলী সিটি কর্পোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের নতুন একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন! চট্টগ্রামে ‘সুকণ্ঠ সংগীত বিদ্যার্থী পরিষদ’-এর আয়োজনে ‘পঞ্চার্ণব’

মনপুরা সরকারি ডিগ্রী কলেজে এইচএসসির ফলাফলে চরম বিপর্যয়, ১৫৮ পরীক্ষার্থীর ১২৮ জনই অকৃতকার্য

দিগন্তের বার্তা ২৪ ডেস্ক : / ২৯ বার পঠিত
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ৩:৩৬ অপরাহ্ণ

আবদুল্লাহ জুয়েল, মনপুরা ( ভোলা) প্রতিনিধি : ভোলার মনপুরার একমাত্র সরকারি কলেজে ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষার ফলাফলে চরম বিপর্যয় ঘটেছে। কলেজটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে গত ২৫ বছরের মধ্যে এইচএসসি ফলাফলে এত বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটেনি।

এমন হতাশাজনক ফলাফলে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা আঙ্গুল তুলছেন অধ্যক্ষ ও শিক্ষকদের বিরুদ্ধে। তারা অভিযোগ করে জানান, অধ্যক্ষ সহ বেশিরভাগ শিক্ষক বহিরাগত হওয়ায় তারা মাসের পর মাস ক্লাস করেনি। তাই ফলাফলে চরম বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটেছে।

এ বছর কলেজটি থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১৫৮ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে মাত্র ৩০ জন। অকৃতকার্য হয়েছে ১২৮ জন। পাসের হার মাত্র ১৮ দশমিক ৯৯ শতাংশ।

এইদিকে বাণিজ্য বিভাগ থেকে পাশ করেনি কোন পরীক্ষার্থী। পাশাপাশি বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পাশ করেছে মাত্র পাঁচজন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে অকৃতকার্য শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা জানান, মনপুরা সরকারি ডিগ্রী কলেজের অধিকাংশ শিক্ষক বহিরাগত হওয়ায় তাঁরা নিয়মিত কলেজে উপস্থিত থাকেন না। নিয়মিত ক্লাসের পরিবর্তে অনেক শিক্ষক রোটেশন পদ্ধতিতে পাঠদান করেন। এইচএসসি ও ডিগ্রি শাখায় একই বিষয়ে একাধিক প্রভাষক থাকায় এক সপ্তাহ একজন এবং পরবর্তী সপ্তাহে অন্যজন ক্লাস নেন বলে অভিযোগ তাঁদের। এতে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি কলেজে কার্যকর প্রশাসনিক তদারকি ও জবাবদিহিতার অভাব রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।

এছাড়াও কলেজটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ভাস্কর চন্দ্র নন্দী গত রমযান মাসে ছুটিতে বাড়িতে যাওয়ার পর কোরবানীর ঈদের পর এসেছেন। এইছাড়াও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। তিনি এই বছর এইএসসি পরীক্ষা চলাকালীন কলেজে ছিলেন না বলেও অভিযোগ তাদের।

এদিকে কলেজের শরীরচর্চা শিক্ষক বাবু রসরাজ সহ একধিক প্রভাষক মাসে শেষে এসে বেতন তুলে আবার চলে যায়। একদিন এসে পুরো মাসের স্বাক্ষর করে চলে যাওয়ার অভিযোগ করছেন শিক্ষার্থীরা।

জানা যায়, মনপুরা সরকারি ডিগ্রী কলেজে প্রভাষক ও সহকারি অধ্যাপক সহ ২৫ জন শিক্ষক কর্মরত। এদের মধ্যে ৯ জন শিক্ষক উপস্থিত থাকলেও ১৬ জন শিক্ষক নিয়মিত থাকে না ও ক্লাশ না করার অভিযোগ রয়েছে। এবছর এইচএসসি পরীক্ষায় বাণিজ্য বিভাগ থেকে ৩ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে ৩ জনই ফেল করেন, বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ১৯ শিক্ষার্থীর মধ্যে ১৪ জন ফেল করে, ৫ জন কৃতকার্য হয়, মানবিক বিভাগ থেকে ১৩৬ জনের মধ্যে ১১১জন ফেল করে ২৫ জন কৃতকার্য হয়।

অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা জানান, নিয়মিত ক্লাসের ব্যবস্থা সহ শিক্ষক প্রভাষকদের কলেজে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে পারলে এমন ফলাফল বিপর্যয় হবে না। এছাড়াও ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধান করে যথাযথ কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবী করেন অভিভাকরা।

এই ব্যাপারে ঢাকায় অবস্থান করা মনপুরা সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ভাস্কর নন্দী মোবাইফোনে জানান, ফলাফল বিপর্যয়ে আমরা বিস্মিত। ফলাফলে বিপর্যয়ের শিক্ষকদের নিয়ে বসে প্রকৃত কারণ উদঘাটন করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

শিক্ষকদের নিয়মিত ক্লাস না করার বিষয়ে তিনি জানান, আমাদের প্রতিটি বিষয়ে দুই জন করে শিক্ষক রয়েছে। প্রতিদিন একজন শিক্ষক ক্লাস নেয়।

Facebook Comments Box


এই ক্যাটাগরির আরও খবর
এক ক্লিকে বিভাগের খবর