নিজস্ব প্রতিনিধি : চট্টগ্রামে ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ব্যবহার করে সরকারি সারের ডিলারশিপ বাগিয়ে নেওয়া এবং বিভিন্ন ব্যাংক থেকে কোটি কোটি টাকা লোন তোলার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে এক আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ওই ব্যক্তির নাম ইউসুফ খান, যিনি মেসার্স রুবেল এন্টারপ্রাইজ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক।
অনুসন্ধানে তাদের জালিয়াতির এক ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। জানা গেছে, ‘আক্তার এন্ড ব্রাদার্স’ নামের একটি বৈধ সারের ডিলারশিপের মালিক নাসির সাহেব গত ১০ বছর ধরে বিভিন্ন ঝামেলার কারণে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। এই সুযোগটিকে কাজে লাগিয়ে মেসার্স রুবেল এন্টারপ্রাইজের মালিক ইউসুফ খান এবং তার সহযোগী মাহবুব বিগত ১০ বছর ধরে আক্তার এন্ড ব্রাদার্সের বরাদ্দকৃত সরকারি সারের মাল ভুয়া ও জাল সইয়ের মাধ্যমে নিয়মিত উত্তোলন করে আসছেন। নাসির সাহেবের অনুপস্থিতিতে প্রতি মাসের এই বিশাল সারের কোটা জালিয়াতির মাধ্যমে তুলে তারা কালোবাজারে চড়া দামে বিক্রি করে আসছিলেন, যা এতদিন বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে সম্পূর্ণ ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিল।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, শুধু এই সই জালিয়াতি বা ভুয়া ডিলারশিপই নয়, ইউসুফ খান চট্টগ্রামের কুখ্যাত কালোবাজারি ‘ব্লাক মিজান’-এর সাথে সখ্যতা গড়ে তুলেছেন। এই চক্রের সাথে যুক্ত হয়ে মাহবুব সারের বাজার ও দাম নিয়ন্ত্রণে মূল মাফিয়া সিন্ডিকেটের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এই সিন্ডিকেটটি প্রতি বস্তা সার উত্তোলনে ১০ টাকা করে অবৈধ চাঁদা নির্ধারণ করেছে। এছাড়া কালোবাজারি, ভেজাল সার তৈরি এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ও সীমান্ত এলাকায় সারের অবৈধ পাচার কার্যক্রমের মূল পরিচালনার দায়িত্বও রয়েছে এই মাহবুবের ওপর।
অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, ইউসুফ খান রাউজানের শীর্ষ সন্ত্রাসী ও বর্তমানে পলাতক করিম জুইন্নার রাজনৈতিক শীর্ষ ব্যক্তি বা আশ্রয়দাতা হিসেবে পরিচিত। করিম জুইন্নার সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক এবং রাজনৈতিক প্রভাবকে কাজে লাগিয়েই ইউসুফ খান এই সারের কালোবাজারি ও মাফিয়া সিন্ডিকেট এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করছেন।
এই পুরো সিন্ডিকেটটি সরকারের ভর্তুকি দেওয়া কোটি কোটি টাকার সরকারি সার দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাচার করে আসছিল। এর ফলে একদিকে যেমন সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে কৃষকেরা ন্যায্য মূল্যে সার পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ব্যবসায়ী জানান, ব্লাক মিজান ও ইউসুফ খান সিন্ডিকেটটি মাঝিরঘাটসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন ঘাট ও গোডাউন থেকে রাতের আঁধারে সার ও ভেজাল সার পাচার করে। তাদের এই অবৈধ সাম্রাজ্যের কারণে প্রকৃত ও সৎ ব্যবসায়ীরাও চরম কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন।
১০ বছরের এই সই জালিয়াতি, চাঁদাবাজি এবং সার পাচারের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষ, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন মহল। ভুয়া আইডি ব্যবহারকারী ইউসুফ খান,
কালোবাজারি ব্লাক মিজান এবং মাফিয়া চক্রের অন্যতম হোতা ইউসুফ খান তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি উঠেছে।