শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
শিরোনাম
আকবরশাহে স্বেচ্ছাসেবক দলের বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভা অনুষ্ঠিত। মিয়ানমারে ইউরিয়া পাচার ও দেশজুড়ে ভেজাল সারের সাম্রাজ্য: নেপথ্যে ‘ব্ল্যাক’ মিজান ও ‘জিপসাম’ জাহাঙ্গীরের সিন্ডিকেট। মনপুরায় মনোয়ারা বেগম মহিলা কলেজের নবীন বরণ অনুষ্ঠিত স্কুলে ক্লাসের চেয়ে বিল-ভাউচার বড় কেন? লিলি হুইপড শিয়া বডিওয়াশকে বর্ষসেরা পণ্য ঘোষণা কালিয়াকৈরের মৌচাকে ‘দারচিনি’ রেস্টুরেন্টের বর্ণাঢ্য উদ্বোধন ভালো কাজের স্বীকৃতি পাচ্ছেন মনপুরার দুই সিপিপি স্বেচ্ছাসেবী মনপুরায় বিআরডিবি সভাপতি পদে নির্বাচিত যুবদল নেতা শেখ ফরিদ রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা: শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন শুনানি ১৫ অক্টোবর ইরানকে পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তিতে থাকার আহ্বান রাশিয়ার

মিয়ানমারে ইউরিয়া পাচার ও দেশজুড়ে ভেজাল সারের সাম্রাজ্য: নেপথ্যে ‘ব্ল্যাক’ মিজান ও ‘জিপসাম’ জাহাঙ্গীরের সিন্ডিকেট।

দিগন্তের বার্তা ২৪ ডেস্ক : / ৫১ বার পঠিত
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:০২ অপরাহ্ণ

​নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম: দেশের কৃষি খাতের জন্য অত্যন্ত জরুরি উপাদান সরকারি ইউরিয়া সার পার্শ্ববর্তী দেশ মিয়ানমারে পাচার এবং রাজধানী সংলগ্ন এলাকায় ক্ষতিকর ভেজাল সার তৈরি করে দেশজুড়ে বাজারজাতকরণের একটি ভয়ংকর ও শক্তিশালী সিন্ডিকেটের সন্ধান পাওয়া গেছে। চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের বাঁশবাড়িয়া ও কুমিরা ঘাটকে প্রধান রুট হিসেবে ব্যবহার করে এই চোরাচালান চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছে।

​সম্প্রতি সীতাকুণ্ডের বাঁশবাড়িয়া ঘাটে বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের ধারাবাহিক অভিযানে এই চক্রের বড় একটি চালান ধরা পড়ে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চালানো অভিযানে মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে আসা বিপুল পরিমাণ ইউরিয়া সার এবং তা বহনের কাজে ব্যবহৃত বেশ কয়েকটি ট্রাক ও গাড়ি জব্দ করা হয়।

​অনুসন্ধানে জানা যায়, এই আন্তর্জাতিক সার পাচারকারী চক্রের মূল হোতা হিসেবে কাজ করছে ‘মুন এন্টারপ্রাইজ’-এর স্বত্বাধিকারী ‘ব্ল্যাক’ মিজানুর রহমান। তার অন্যতম প্রধান ব্যবসায়িক পার্টনার এবং একটি হত্যা মামলার আসামি হাজী জাহাঙ্গীর (যিনি এলাকায় ‘জিপসাম জাহাঙ্গীর’ নামে পরিচিত) এই সিন্ডিকেটের অন্যতম অর্থদাতা ও পরিচালক।

​অভিযোগ রয়েছে, বিতর্কিত এই চক্রটি প্রভাব খাটাতে নানা রাজনৈতিক পরিচয় ও অপরাধ জগতের তকমা ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। এমনকি শিবির নেতা নাসিরের অনুসারী পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন সময় গণমাধ্যম কর্মী ও সংশ্লিষ্টদের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। তারা কথায় কথায় “নাসিরের পক্ষ থেকে নাসির এই করবে, সেই করবে” বলে নানা হুমকি-ধামকি দিয়ে তাদের অবৈধ অপকর্ম ঢাকা দেওয়ার চেষ্টা চালায়। সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের আমল থেকে শুরু করে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পরও চক্রটির মূল হোতারা প্রভাব ও ব্যক্তিগত পরিবহন ব্যবহার করে এই অবৈধ ব্যবসা সচল রেখেছে। এছাড়া ‘সফি ট্রেডার্স’-এর মালিক ছাত্রলীগ নেতা মোঃ রুবেল আজিম এবং তাদের প্রতিনিধি মোহাম্মদ সেলিম এই পাচার চক্রের মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রম ও ঘাট এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।

​দেশের একমাত্র সার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান টিএসপি (TSP) ও ডিএপি (DAP) উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ থাকার সুযোগ নিয়ে এই চক্রটি দেশজুড়ে নকল ও ভেজাল সারের সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে। ঢাকার সাভারের হেমায়েতপুর, আবদুল্লাহপুর এবং আলিপুর ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় সম্পূর্ণ অবৈধভাবে জিপসাম জাহাঙ্গীর ও ব্ল্যাক মিজানের মালিকানাধীন একাধিক দুই নম্বর সার তৈরির কারখানা গড়ে উঠেছে। এসব কারখানায় উৎপাদিত মারাত্মক ক্ষতিকর ও ভেজাল সার প্রশাসনের নাকের ডগায় জিপসাম জাহাঙ্গীরের নিজস্ব পরিবহনে করে সারা বাংলাদেশে সরবরাহ করা হচ্ছে, যা দেশের কৃষি জমি ও কৃষকদের জন্য বড় বিপর্যয় ডেকে আনছে।

​অভিযোগ উঠেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এই চক্রটি রাতারাতি রাজনৈতিক খোলস পাল্টে বর্তমান পরিস্থিতির সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে। জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির দক্ষিণ জেলার স্থানীয় প্রভাবশালী নেতা এবং মহানগরের কিছু অসাধু নেতার মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ম্যানেজ করে এই চোরাচালান ব্যবসা টিকিয়ে রাখা হয়েছে।

​সর্বশেষ বাঁশবাড়িয়া ঘাটে কোস্টগার্ড কর্তৃক পাচারকালের গাড়ি ও সার জব্দের পর সীতাকুণ্ড ও মিরসরাই উপজেলা কৃষি অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা এবং স্থানীয় বিএনপি ঘরানার কয়েকজন নেতা অবৈধভাবে তদবির বাণিজ্যে লিপ্ত হয়েছেন। তারা বিভিন্ন মহল থেকে চাপ সৃষ্টি করে জব্দকৃত গাড়ি ও চোরাই সারের চালান ছাড়িয়ে নেওয়ার জন্য জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে জানা গেছে।

​দেশের সম্পদ বিদেশে পাচার এবং ভেজাল সার দিয়ে কৃষিখাত ধ্বংসের এই মহোৎসব বন্ধে ক্ষুব্ধ স্থানীয় সচেতন মহল। এই কালোবাজারি ও আন্তর্জাতিক চোরাচালান চক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত এবং কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক, জেলা প্রশাসন এবং চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের ডিআইজি ও এসপি মহোদয়ের নিকট জোর দাবি জানানো হয়েছে। অন্যথায় দেশের অর্থনীতি ও খাদ্য নিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

Facebook Comments Box


এই ক্যাটাগরির আরও খবর
এক ক্লিকে বিভাগের খবর