নিজস্ব প্রতিনিধি :চট্টগ্রাম–৮ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ্ব এরশাদ উল্লাহ বলেছেন, নির্বাচনকে ঘিরে নিরাপত্তাহীনতা ও সন্ত্রাসী তৎপরতা বন্ধ না হলে জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। সন্ত্রাসীদের হাতে অবৈধ অস্ত্র থাকলে নির্বাচনী পরিবেশ স্বাভাবিক থাকে না। তাই আসন্ন নির্বাচনের আগে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সরকারকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে নগরীর পাঁচলাইশ এলাকার একটি অভিজাত রেস্টুরেন্টে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
এরশাদ উল্লাহ বলেন, “সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রথম শর্ত হচ্ছে নিরাপদ পরিবেশ। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে এখনই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন জরুরি।” তিনি অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার বন্ধে এবং অস্ত্র উদ্ধারে যৌথবাহিনীকে আরও সক্রিয় করার আহ্বান জানান।
নির্বাচনী প্রচারণাকালে তাঁর ওপর সংঘটিত হামলা, ঢাকায় হাদি হত্যাকাণ্ড এবং চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের গুলিতে র্যাব কর্মকর্তার নিহত হওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, এসব ঘটনা প্রমাণ করে যে সন্ত্রাস এখনো বড় হুমকি হিসেবে রয়ে গেছে। তিনি এসব ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, অবিলম্বে দোষীদের আইনের আওতায় আনতে হবে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এরশাদ উল্লাহ জানান, নির্বাচনে জয়ী হলে তিনি এলাকার উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবেন। বিশেষ করে দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত কালুরঘাট সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু করাই হবে তাঁর প্রথম দায়িত্ব। এই সেতু বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রামের দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
মতবিনিময় সভায় চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান, যুগ্ম আহ্বায়ক এম এ আজিজ, কাজী বেলাল উদ্দিন, সফিকুর রহমান স্বপন, হারুন জামান, নিয়াজ মোহাম্মদ খান, শাহ আলম, আর ইউ চৌধুরী শাহীন, শওকত আজম খাজা, ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, আহম্মেদুল আলম চৌধুরী রাসেল, শিহাব উদ্দিন মুবিনসহ মহানগর বিএনপির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়াও যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের মহানগর ও দক্ষিণ জেলা পর্যায়ের নেতারা সভায় অংশ নেন। উপস্থিত নেতারা নির্বাচনপূর্ব সহিংসতা বন্ধ ও শান্তিপূর্ণ ভোটের পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকার দাবি জানান।