নিজস্ব প্রতিনিধি : কুয়াকাটার নীল সমুদ্র দেখে অসংখ্য স্মৃতি নিয়ে বাড়ি ফেরার কথা ছিল। পরিবারের সঙ্গে হাসিমুখে সেই গল্প ভাগাভাগি করারও অপেক্ষা ছিল। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস,ফেরার পথেই নিভে গেল সরকারি বরহামগঞ্জ কলেজের শিক্ষার্থী জাহিদ হাওলাদারের (২৩) জীবনের প্রদীপ।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকাল ৬ টার দিকে পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কের খলিশাখালী এলাকায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান তিনি। জাহিদ মাদারীপুরের শিবচর পৌরসভার বাসিন্দা শাহিন হাওলাদারের একমাত্র ছেলে।
স্বজনরা জানান, গত পরশু আট বন্ধু চারটি মোটরসাইকেলে করে কুয়াকাটা ভ্রমণে যান। আনন্দঘন সময় কাটিয়ে শুক্রবার সকালে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন তারা। পথে বৃষ্টির কারণে কিছু সময় খলিশাখালী এলাকায় একটি গাছের নিচে আশ্রয় নেন। বৃষ্টি থেমে গেলে আবার যাত্রা শুরু করেন। কিছুদূর এগোতেই জাহিদের মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গ্রীন লাইন পরিবহনের একটি বাসের নিচে চলে যায়। মুহূর্তেই তিনি সড়কে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন।
বন্ধুরা ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত আর বাঁচানো যায়নি। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
নিহতের খালাতো ভাই সায়েম বলেন, কয়েক মুহূর্ত আগেও আমরা সবাই একসঙ্গে ছিলাম। হঠাৎ সব শেষ হয়ে গেল। চোখের সামনেই জাহিদকে হারালাম।
একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ বাবা শাহিন হাওলাদার। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ছেলে বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে গিয়েছিল। কে জানত, সেই ভ্রমণই হবে তার জীবনের শেষ যাত্রা!
পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আফতাব উদ্দিন জানান, হাসপাতালে আনার আগেই জাহিদের মৃত্যু হয়েছিল। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা শেষে মরদেহ আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
পটুয়াখালী সদর থানার অফিসার ইনচার্জ, মোঃ মনিরুজ্জামান বলেন,খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”
একটি আনন্দভ্রমণ, কিছু স্বপ্ন, আর পরিবারের অপেক্ষা,সবকিছুই শেষ হয়ে গেল একটি সড়ক দুর্ঘটনায়। যে ছেলের ফিরে আসার অপেক্ষায় ছিল পরিবার, সে ফিরল নিথর দেহ হয়ে। তার মৃত্যুতে পরিবার, বন্ধু ও স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।