নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, দেশের অর্থনীতি এখনও মূলত কৃষি, তৈরি পোশাক ও প্রবাসী আয়ের ওপর নির্ভরশীল। তবে সময়ের চাহিদা অনুযায়ী চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ওষুধশিল্প এবং সেমিকন্ডাক্টর চিপ শিল্পের মতো সম্ভাবনাময় খাতে গুরুত্ব দিতে হবে। এ জন্য দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা এখন সবচেয়ে বড় প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
রবিবার (৫ এপ্রিল) দুপুরে চট্টগ্রাম থিয়েটার ইনস্টিটিউট হলে “বিশ্বমুখী হই, আমাদের সাথে” স্লোগানে আনশিন জাপানিজ ল্যাঙ্গুয়েজ ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড কনসালটেন্সির আয়োজনে জাপানে এপ্রিল ২০২৬ সেশনে উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে ভিসাপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা ও “ভিসা সফলতা উদযাপন” অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে মেয়র বলেন, বিশ্ববাজারে সেমিকন্ডাক্টর চিপের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে এবং বাংলাদেশ চাইলে এ খাতে নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে পারে। তিনি তরুণদের উদ্দেশ্যে বলেন, “নিজেদের দক্ষ করে গড়ে তুলুন—তবেই একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণ সম্ভব হবে।”
আনশিন জাপান কনসালটেন্সির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এম এম তারিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক ছিলেন ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. নাজিম উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এসডিজি ইয়ুথ ফোরামের সভাপতি নোমান উল্লাহ বাহার, ওয়েল আপ টেকনোলজির পরিচালক বখতিয়ার হোসেন, নিপ্পন একাডেমির শিক্ষক শাহেদুল ইসলাম এবং যুব সংগঠক জসিম উদ্দিন চৌধুরীসহ অন্যান্যরা।
মেয়র আরও বলেন, জাপান শুধু উচ্চশিক্ষার গন্তব্য নয়; এটি শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ ও সৃজনশীলতার এক অনন্য পাঠশালা। সেখানে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে শিক্ষার্থীরা নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার পাশাপাশি দেশের সুনামও বৃদ্ধি করতে পারবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
নগর ব্যবস্থাপনায় পরিবেশবান্ধব উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, শহরকে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ রাখতে বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর করতে হবে। প্লাস্টিক ও জৈব বর্জ্য পুনঃব্যবহারের মাধ্যমে সার, বিদ্যুৎ ও বিকল্প জ্বালানি উৎপাদনের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।
বিদেশে গমন প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, শুধুমাত্র কর্মসংস্থানের জন্য নয়, বরং উন্নত দেশের প্রযুক্তি ও দক্ষতা অর্জন করে তা দেশে প্রয়োগ করার মানসিকতা থাকতে হবে—এটাই প্রকৃত দেশপ্রেমের বহিঃপ্রকাশ।
ভাষা শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ইংরেজির পাশাপাশি জাপানি, আরবি ও কোরীয় ভাষায় দক্ষতা আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ায়। এ লক্ষ্যে সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে কারিগরি ও ভাষা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে এম এম তারিকুল ইসলাম বলেন, শৃঙ্খলা, অধ্যবসায় ও সততার বিকল্প নেই। শিক্ষার্থীদের এসব মূল্যবোধ ধারণ করে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
মুখ্য আলোচক প্রফেসর ড. নাজিম উদ্দিন বলেন, জাপানের উন্নত শিক্ষা ও গবেষণা পরিবেশ শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে এবং দেশে ফিরে তারা জাতীয় উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবে।
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে ভিসাপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের ফুলেল শুভেচ্ছা, ক্রেস্ট ও সম্মাননা প্রদান করা হয় এবং তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করা হয়।