শেখ তাইজুল ইসলাম মোংলা বাগেরহাট প্রতিনিধি: বাগেরহাটের মোংলায় একের পর এক বাড়িতে চুরির অভিযোগে অভিযুক্ত এক যুবকের বিরুদ্ধে সালিশে চুরির কথা স্বীকার করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী টাকা ও মালামাল ফেরত না দিয়ে উল্টো তাঁদের বিরুদ্ধে থানায় চাঁদাবাজির অভিযোগ করেছেন ওই যুবক। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে চাঞ্চল্যের।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোংলা উপজেলার সুন্দরবন ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের গোড়া বাঁশতলা এলাকার মৃত আব্দুল খালেক শেখের ছেলে কাওছার শেখের বিরুদ্ধে একাধিক বাড়িতে চুরির অভিযোগ তুলেছেন এলাকাবাসী।
ভুক্তভোগী রমজান খানের অভিযোগ, তাঁর ঘরের সিঁধ কেটে ভেতরে প্রবেশ করে নগদ ৫ হাজার ৫০০ টাকা ও একটি মোবাইল ফোন চুরি করা হয়। পরে সালিশে অভিযুক্ত যুবক চুরির কথা স্বীকার করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। তবে এখনো টাকা ও মালামাল ফেরত পাননি বলে দাবি তাঁর।
অন্যদিকে, খালেক মিয়ার অভিযোগ, তাঁর বাড়িতে দুই দফায় চুরি হয়েছে। প্রথমবার ৩৬ হাজার টাকা চুরি হয়। দ্বিতীয়বার চুরির চেষ্টা করার সময় অভিযুক্তকে হাতেনাতে আটক করা হয় বলে জানান তিনি। সালিশে টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করেন এই ভুক্তভোগী।
এ ছাড়া আঁখি ইসলাম নামে এক নারী অভিযোগ করেন, তাঁর বাড়ি থেকে নগদ টাকা, মোবাইল ফোন ও এটিএম কার্ডসহ একটি ব্যাগ চুরি হয়। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর তাঁকে ভয়ভীতি দেখানো হয় বলে দাবি করেন তিনি। পরে আত্মীয়ের মাধ্যমে তাঁর মোবাইল ফোনটি ফেরত পান বলে জানান।
স্থানীয় বিএনপি নেতা আনোয়ার হাওলাদার অভিযোগ করেন, সালিশে চুরির কথা স্বীকার এবং ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতির পরও ভুক্তভোগীরা তাঁদের পাওনা বুঝে পাননি। বরং সালিশে অংশ নেওয়া ব্যক্তি ও ভুক্তভোগীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ দায়েরের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, সালিশের দিন সকালে চিলা বাজারে দুটি মোবাইল ফোন ও টাকা চুরির অভিযোগে কাওছারকে আটক করে ছিলেন স্থানীয়রা। এ সময় তাঁর কাছে ইয়াবা পাওয়া গেছে বলেও দাবি তাঁদের। এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে হরিণ শিকারের অভিযোগ ও এ-সংক্রান্ত মামলার কথা শিকার করেছেন কাওছার নিজেই।
এদিকে, চুরির অভিযোগ, সালিশে ক্ষতিপূরণের প্রতিশ্রুতি এবং পাল্টা চাঁদাবাজির অভিযোগ—সব মিলিয়ে এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে ক্ষোভের।
ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন, চুরি হওয়া টাকা ও মালামালের ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি হয়রানিমূলক অভিযোগ থেকে মুক্তি পাওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী।