চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: সৌদি প্রবাসী নূর মোহাম্মদের কষ্টার্জিত অর্থে নির্মিত ভবনের জমির দলিলে জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। চট্টগ্রাম নগরীর গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকা আগ্রাবাদ সিডিএ আবাসিক এলাকায় এ ঘটনায় প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
নূর মোহাম্মদ ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে ওই এলাকায় জমি নিয়ে ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেন। এ জন্য ‘বিল্ড কিং প্রপার্টিজ কোম্পানি’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে ‘বিল্ড কিং সুইট হোম’ নামের স্থাপনা নির্মাণ শুরু করেন। নির্মাণকাজের সার্বিক তদারকির দায়িত্ব দেন পূর্বপরিচিত ওসমান ফারুককে। অভিযোগ রয়েছে, কোনো পুঁজি বিনিয়োগ না করেই ওসমান ফারুক প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
নূর মোহাম্মদের দাবি, জমির মালিকদের সঙ্গে আলোচনা ও চুক্তি শেষে তাদের নগদ অর্থ পরিশোধ করে তিনি সেখানে ভবন নির্মাণ করেন। তবে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর তিনি জানতে পারেন, যে জমির ওপর ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছে, সেই জমির দলিলে বিএস খতিয়ানের দাগ নম্বর জালভাবে তৈরি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ওসমান ফারুকের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগ করেন নূর মোহাম্মদ। পরে তিনি আইনের আশ্রয় নিয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ষষ্ঠ আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটির তদন্তভার দেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই)।
দীর্ঘ তদন্ত শেষে জমির দলিলে জালিয়াতির বিষয়টি উঠে আসে পিবিআইয়ের তদন্তে। তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিলের পর আদালত আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বলে মামলার সংশ্লিষ্টরা জানান।
প্রবাসী নূর মোহাম্মদের অভিযোগ, নিজের কষ্টার্জিত অর্থে স্বপ্নের ভবন নির্মাণ করেও জাল দলিলের কারণে তাকে প্রতারণার শিকার হতে হয়েছে। পিবিআইয়ের তদন্ত ও আদালতের কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে এখন তিনি ন্যায়বিচার পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন।