নিজস্ব প্রতিবেদকঃ চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ড উপজেলার ১ নং সৈয়দপুর ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের মহানগর এলাকায় মরহুম রুহুল আমিন মাস্টারের বসতবাড়িতে এক ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। গত ২৪ মার্চ [মঙ্গলবার] দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত এই ন্যাক্কারজনক হামলা চালায়। এতে স্হানীয় এমরান ও নয়নের নেতৃত্বে হামালায় (৫০/৬০) জনের একটি দল অংশ নেয় বলে জানা যায়। এ-ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুরে দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোটায় সজ্জিত হয়ে এমরান ও নয়নের নেতৃত্বে ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি বিশাল দুর্বৃত্ত দল রুহুল আমিন মাস্টারের বাড়িতে চড়াও হয়। কোনো প্রকার উসকানি ছাড়াই তারা বসতবাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় এবং লুটপাটের চেষ্টা করে।
হামলার সময় বাড়িতে থাকা মহিলা ও শিশুদের বেধড়ক মারধর করে দূর্বৃত্তরা। এসময় পরিবারের অন্যান্য বৃদ্ধা নারী ও শিশুরা আতঙ্কে দিভ্রান্ত হয়ে পড়েন। জীবন বাঁচাতে তারা স্থানীয় এলাকাবাসীর সহযোগিতা চেয়ে চিৎকার করতে থাকেন। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, মরহুম রুহুল আমিন মাস্টার এলাকায় অত্যন্ত সজ্জন ও সম্মানিত ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার পরিবারের সাথে কারও কোনো পূর্বশত্রুতা বা বিরোধের তথ্য পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য যে, রুহুল আমিন মাস্টারের এক সন্তান বর্তমানে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে এএসআই (ASI) পদে কর্মরত রয়েছেন। একজন আইনশৃঙ্ক্ষলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যর পরিবার এভাবে প্রকাশ্য দিবালোকে হামলার শিকার হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও নিরাপত্তার অভাব বোধ তৈরি হয়েছে।
হামলার পর থেকে পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বর্তমানে ঐ বাড়িতে রুহুল আমিন মাস্টারের সহধর্মিণী চরম নিরাপত্তা হীনতা ও জীবনঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন। পরিবারের সদস্যরা আশঙ্কা করছেন, দুর্বৃত্তরা যেকোনো সময় আবারও বড় ধরনের কোনো অঘটন ঘটাতে পারে।
এ-ঘটনায় সৈয়দপুর ইউনিয়নের বাসিন্দারা ক্ষোভ ও তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, এলাকায় দীর্ঘদিনের যে সামাজিক সম্প্রীতি রয়েছে, এ ধরনের ন্যাক্কারজনক হামলা তা নষ্ট করবে। আমরা চাই এই ঘটনার সাথে জড়িত প্রত্যেককে চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক। এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী পরিবার রুহুল আমিন মাস্টারের পরিবারের সদস্যদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং শান্তিপূর্ণ বসবাসের পরিবেশ তৈরি করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।