নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড, কুমিরা ও মিরসরাই ঘাট দিয়ে অবৈধভাবে ইউরিয়া সার পাচারের ঘটনায় মূল হোতাদের আড়াল করতে নানা মহলে তদবির ও কোটি টাকার ‘ডেমারেজ বাণিজ্যের’ অভিযোগ উঠেছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই পাচার চক্রের মূল চালিকাশক্তি মাঝিরঘাটের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও মুন এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মিজান ওরফে ‘ব্ল্যাক মিজান’ এবং তার সহযোগী পারভেজ। শত কোটি টাকার মালিক এই ব্ল্যাক মিজান ও তার সিন্ডিকেটকে আইনের আওতায় আনতে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও সার-বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতির জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় সাধারণ ব্যবসায়ী ও ভুক্তভোগী কৃষকেরা।
সম্প্রতি সীতাকুণ্ডের বাঁশবাড়িয়া ও কুমিরা ঘাট এবং মিরসরাইয়ের ইছাখালী উপকূলীয় এলাকা থেকে অবৈধভাবে পাচারের সময় বিপুল পরিমাণ ইউরিয়া সার ভর্তি গাড়ি জব্দ করে কোস্ট গার্ড ও স্থানীয় প্রশাসন। বর্তমানে ৪টি গাড়ি মিরসরাই ভূমি প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে এবং অবশিষ্ট ৫টি গাড়ি সীতাকুণ্ড উপজেলা কৃষি অফিসের জিম্মায় রয়েছে। গোপন সূত্রে জানা গেছে, সারের প্রকৃত মালিকের নাম গোপন রাখতে এবং গাড়িগুলো প্রশাসন থেকে ছাড়িয়ে নিতে প্রতি গাড়ির পেছনে প্রতিদিন ৩,০০০ টাকা করে ডেমারেজ দিচ্ছে এই চক্রটি
অভিযোগ উঠেছে, নিজেদের আড়াল করতে এই সিন্ডিকেট মাঝিরঘাটের ক্ষুদ্র ট্রান্সপোর্ট সাধারণ ব্যবসায়ীদের নাম জড়িয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে মিথ্যা তথ্য প্রচারের চেষ্টা করেছে। অথচ অনুসন্ধানে একজন ব্যবসায়ী জানান সাধারণ পরিবহন ব্যবসায়ীরা সারের কোনো ডিলারশিপ বা এই পাচারের সাথে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
এদিকে, ঘটনাটি তদন্তে গঠিত ৪ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি-কে বিভ্রান্ত করতে বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশন (বিএফএ) চট্টগ্রাম ইউনিটের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন নেতা প্রশাসনকে ভুল তথ্য দিয়ে আসল অপরাধীদের বাঁচানোর চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ সাধারণ ব্যবসায়ীদের।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ব্ল্যাক মিজান ও পারভেজ বর্তমানে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিতে অফিস বন্ধ করে আত্মগোপনে রয়েছেন এবং ছদ্মবেশে চলাফেরা করছেন। অভিযোগ রয়েছে, সাবেক আওয়ামী লীগ কাউন্সিলর গোলাম মো. জুবায়ের এবং প্রয়াত এক শ্রমিক নেতার স্ত্রীর সাথে মিজানের গভীর ব্যবসায়িক ও ব্যক্তিগত যোগাযোগ রয়েছে। এছাড়া বর্তমান পরিস্থিতিতে নিজেকে বাঁচাতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের নাম ভাঙিয়ে প্রশাসন ও সাংবাদিকদের হুমকি ধমকি দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
চট্টগ্রামে নিজের ও স্ত্রীর নামে বিলাসবহুল ফ্ল্যাট এবং কোটি টাকার গাড়িতে চড়ে বেড়ানো এই ব্ল্যাক মিজানের ভেজাল সারের কারণে চরম ক্ষতির মুখে পড়ছেন প্রান্তিক কৃষকেরা।
সাধারণ ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর দাবি, কোনো প্রকার তদবির বা অর্থের প্রভাবের কাছে নত না হয়ে তদন্ত কমিটিকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে হবে। দেশের সার খাতকে পাচার ও ভেজালমুক্ত করতে অবিলম্বে ‘ব্ল্যাক মিজান’ ও ‘পারভেজ’সহ এই চক্রের সাথে জড়িত সকলকে আইনের আওতায় আনার জন্য চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসকের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করা হয়েছে।