নিজস্ব প্রতিনিধি : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেছেন, চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হলেও কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন এখনো অধরা রয়ে গেছে। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দেশে একটি সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও সেটি বিতর্কমুক্ত না থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক। ঐ নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় গিয়ে প্রায় ৭০ শতাংশ জনগণের গণভোটের রায় বাতিলের মাধ্যমে সরকার আবারও ফ্যাসিবাদী শাসনের দিকে ধাবিত হচ্ছে।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) বিকাল ৫টায় গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে চট্টগ্রাম মহানগরীর ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে জমিয়াতুল ফালাহ জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত গণমিছিল ও সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, জুলাই সনদকে উপেক্ষা করা এবং গণভোটের রায় বাতিলের ষড়যন্ত্র প্রমাণ করে বিএনপি ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে ক্ষমতায় গেছে। ফলে তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে জলাঞ্জলি দিয়ে জাতির সঙ্গে প্রতারণা করছে। এর পরিণতি ভালো হবে না। তিনি বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে ফ্যাসিবাদ পুনঃপ্রতিষ্ঠার যে কোনো ষড়যন্ত্র জনগণ রুখে দেবে।
মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, সরকারদলীয় সিন্ডিকেটের কারণে দেশে জ্বালানি খাতে চরম নৈরাজ্য চলছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম লাগামহীনভাবে বাড়ছে। এতে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে দুইবার এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়িয়ে প্রায় ৫০০ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। অথচ সরকারের মন্ত্রী-এমপিরা ব্যর্থতার দায় স্বীকার না করে উল্টো জনগণের সঙ্গে তামাশা করছেন। এভাবে কোনো দেশ চলতে পারে না।
তিনি আরও বলেন, ছাত্রদল ও যুবদল যেভাবে চট্টগ্রাম সিটি কলেজে ছাত্রদের ওপর রামদা নিয়ে হামলা চালিয়েছে এবং প্রকাশ্যে অস্ত্রের ঝনঝনানি দেখিয়েছে, তাতে মনে হচ্ছে ছাত্রদল-বিএনপি সরকারকে খাদের কিনারায় ঠেলে দিচ্ছে। সরকার নিজেদের ছাত্র সংগঠনের মাধ্যমে ছাত্রসমাজকে ক্ষিপ্ত করে তুলছে। তিনি বলেন, চট্টগ্রামের ঘটনার পর সরকার যদি জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করে ছাত্রদলের সন্ত্রাসীদের আটক করত, তবে ডাকসু নেতাদের ওপর থানার ভেতরে হামলা করা কিংবা কুমিল্লা পলিটেকনিক ও ঈশ্বরদী কলেজে হামলা করার সাহস তারা পেত না। সরকারদলীয় নেতাকর্মীরা একের পর এক মব সৃষ্টি করছে, আর সরকার নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে মব সন্ত্রাসকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে।
১১ দলীয় ঐক্যে চট্টগ্রাম মহানগরীর সমন্বয়ক ও চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মোহাম্মদ উল্লাহর সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন নেজামে ইসলাম পার্টির চট্টগ্রাম মহানগরীর আমীর মাওলানা জিয়াউল হোসাইন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস চট্টগ্রাম মহানগরীর সেক্রেটারি মাওলানা রিদুয়ানুল ওয়াহেদ, চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিন, খেলাফত মজলিস চট্টগ্রাম মহানগরীর সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মোস্তাফা কামাল, এনসিপির নগর যুগ্ম সমন্বয়ক জোবায়ের হোসাইন, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির নগর সভাপতি আবু মোজাফফর মোহাম্মদ আনাস, খেলাফত আন্দোলন মহানগর সভাপতি মাওলানা আতিক বিন ওসমান, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি মুহাম্মদ সৈয়দ গিয়াস উদ্দীন আলম, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির নগর সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল মোতালেব এবং লেবার পার্টি চট্টগ্রাম মহানগর সহ-সভাপতি মুজিবুর রহমান।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা খাইরুল বাশার, ফয়সাল মুহাম্মদ ইউনুস, মহানগরীর সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. সিদ্দিকুর রহমান, মহানগর সাংগঠনিক সম্পাদক ও শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি এস এম লুৎফর রহমান, নেজামে ইসলাম পার্টির মহানগর নেতা অধ্যাপক নজরুল ইসলাম চৌধুরী, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির মহানগর সহ-সভাপতি শাহ আলম, এনসিপির মহানগর যুগ্ম সমন্বয়ক আরিফ মঈনউদ্দীন, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির মহানগর সেক্রেটারি জাফর আহমদ চৌধুরী, বিডিপি মহানগর সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শেখ জোবায়ের মাহমুদ, চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য আবু হেনা মোস্তফা কামাল, হামেদ হাসান ইলাহী, আমির হোছাইন, অধ্যক্ষ মাওলানা জাকের হোসাইন, ফারুকে আজম, মোহাম্মদ ইসমাইল ও ড. আ ম ম মাসরুর হোসাইনসহ বিভিন্ন দলের নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশ শেষে একটি গণমিছিল জমিয়াতুল ফালাহ জামে মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে বের হয়ে নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে চট্টগ্রামের জিইসি মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।