নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম: বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬
চট্টগ্রামে ১৯৯৬ সালের ৯ এপ্রিলের রক্তাক্ত ঘটনায় নিহত শহীদদের স্মরণে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দিনব্যাপী কর্মসূচি পালন করেছে। নগরীর ফিরিঙ্গী বাজার ওয়ার্ড বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনগুলোর উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচির মধ্যে ছিল মিলাদ ও দোয়া মাহফিল এবং আলোচনা সভা।
দলীয় সূত্র জানায়, ওইদিন বিকেলে আবু ছৈয়দ দোভাষ জামে মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। পরে ফিরিঙ্গী বাজার ওয়ার্ড বিএনপির কার্যালয়ে এক স্মরণসভা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন ফিরিঙ্গী বাজার ওয়ার্ড বিএনপির আহ্বায়ক মোহাম্মদ সাদেকুর রহমান রিপন এবং সঞ্চালনা করেন সদস্য সচিব জাহেদ আহমেদ। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন নগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে নাজিমুর রহমান বলেন, ১৯৯৬ সালের ৯ এপ্রিল চট্টগ্রামের মাটিতে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি কলঙ্কজনক অধ্যায়। তিনি অভিযোগ করেন, নিরস্ত্র নেতাকর্মীদের ওপর নৃশংস হামলা চালিয়ে যেভাবে প্রাণহানি ঘটানো হয়েছিল, তা গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের পরিপন্থী। শহীদদের আত্মত্যাগ বৃথা যাবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, অতীতে যারা সহিংসতার মাধ্যমে জনগণের কণ্ঠরোধ করতে চেয়েছে, ইতিহাস তাদের ক্ষমা করেনি। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ এবং সহনশীল রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন নগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হারুন জামান ও শওকত আজম খাজা, সাবেক সহ-সভাপতি এম এ হালিম, কোতোয়ালী থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব জাকির হোসেন, সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আকতার খানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।এছাড়া বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালের ৯ এপ্রিল তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার চট্টগ্রাম আউটার স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সমাবেশে যোগ দিতে যাওয়ার পথে নিউমার্কেট এলাকায় গুলিতে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের কয়েকজন নেতাকর্মী নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ছাত্রদল নেতা আবদুল কাইয়ুম, যুবনেতা আজাদ বলী খান, শিক্ষিকা জাহানারা বেগম এবং শ্রমিকনেতা আবদুর রহমানসহ আরও অনেকে ছিলেন।
সভায় বক্তারা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, তাদের আত্মত্যাগের চেতনা ধারণ করে সংগঠনকে সুসংগঠিত করতে হবে এবং একটি গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ রাষ্ট্র গঠনে সবাইকে ভূমিকা রাখতে হবে।