সেনবাগ(নোয়াখালী)প্রতিনিধি: আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর শিক্ষায় এআই ভিত্তিক প্রযুক্তির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার ছিলোনিয়া ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমধর্মী ও সময়োপযোগী “Robotics Workshop”। ডিজিটাল যুগের চাহিদা পূরণে শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তি নির্ভর আধুনিক শিক্ষার প্রসারে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
বৃহস্পতিবার ছিলোনিয়া ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ে সেনবাগের আলোচিত মানবিক সংগঠন “সৈয়দ হারুন ফাউন্ডেশনে “র পৃষ্ঠপোষকতা এবং উপজেলা প্রশাসনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এ কর্মশালায় প্রায় ১২০ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। কর্মশালায় রোবোটিক্স, প্রোগ্রামিং এবং প্রযুক্তির মৌলিক বিষয়গুলো হাতে-কলমে শেখানো হয়, যা শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ ও আগ্রহ সৃষ্টি করে।
কর্মশালায় টিউটর হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (KUET)-এর শিল্প প্রকৌশল ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের ২৪ ব্যাচের চারজন শিক্ষার্থী। তাদের তত্ত্বাবধানে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে প্রযুক্তির ব্যবহারিক দিক সম্পর্কে ধারণা লাভ করে এবং নিজেদের সৃজনশীলতা ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ পায়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সেনবাগ উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব মুহসিয়া তাবাসসুম।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আব্দুল্লাহ , আইসিটি অফিসার আব্দুর রহিম, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামাল উদ্দিন।
বক্তারা বলেন- “বর্তমান বিশ্ব প্রযুক্তিনির্ভর। তাই শিক্ষার্থীদের আধুনিক প্রযুক্তির সাথে সম্পৃক্ত করা সময়ের দাবি। এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষ ও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলবে।”
সৈয়দ হারুন ফাউন্ডেশনের আহ্বায়ক মোঃ ইমরান হোসেন ভূঁইয়া ও সদস্য সচিব মাহামুদুর রহমান রাকিব জানান, গ্রামীণ পর্যায়ে প্রযুক্তি শিক্ষার প্রসার ঘটাতে এই উদ্যোগ একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সেনবাগ উপজেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পর্যায়ক্রমে রোবোটিক্স ওয়ার্কশপ চালু করতে স্থানীয় সামাজিক সংগঠন ও সমাজের বিত্তশালীরা এগিয়ে আসবেন। এ ক্ষেত্রে সৈয়দ হারুন ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও টপস্টার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব লায়ন সৈয়দ হারুন এমজেএফ- এর অবদান হোক অনুকরণীয়।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় সুধীজনেরা এ উদ্যোগকে যুগোপযোগী ও প্রশংসনীয় হিসেবে অভিহিত করেন। তাদের মতে, এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রযুক্তি বিষয়ে আগ্রহ সৃষ্টি এবং ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
এই রোবোটিক্স ওয়ার্কশপ আধুনিক শিক্ষার পথে একটি অনুপ্রেরণামূলক পদক্ষেপ, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে প্রযুক্তিনির্ভর, সৃজনশীল এবং আত্মনির্ভরশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অতিথি, শিক্ষার্থী অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ লায়ন সৈয়দ হারুন এমজেএফ সাহেবের এমন প্রশংসনীয় উদ্যোগের জন্য তাকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।