ছোটন চৌধুরী, মাটিরাঙ্গা প্রতিনিধি: খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলায় সূর্যমুখী চাষে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছেন কৃষকরা। বাম্পার ফলনে যেমন কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে, তেমনি হলুদ রঙে ছেয়ে থাকা সূর্যমুখীর বাগান এখন রীতিমতো বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শনার্থীরা ভিড় করছেন এই সূর্যমুখী ক্ষেত দেখতে।
সরেজমিনে মাটিরাঙ্গা উপজেলার নতুনপাড়া ও সাপমারা এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, একের পর এক জমিতে সূর্যের দিকে মুখ তুলে দাঁড়িয়ে আছে সারি সারি সূর্যমুখী ফুল। ফুলের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে অনেক দর্শনার্থী ছবি তুলছেন, কেউ কেউ পরিবার-পরিজন নিয়ে সময় কাটাচ্ছেন প্রকৃতির মাঝে।
নতুনপাড়া এলাকার কৃষাণী যশোদা রাণি ত্রিপুরা জানান, তিনি এক বিঘা জমিতে সূর্যমুখী চাষ করেছেন। এতে তার মোট খরচ হয়েছে প্রায় ১০ হাজার টাকা। ফলন ভালো হওয়ায় এবার তিনি লাভের মুখ দেখবেন বলে আশা করছেন। তিনি বলেন, “আগে ধান বা সবজি চাষ করতাম, কিন্তু সূর্যমুখীতে খরচ কম আর লাভ বেশি। এবার ফলন দেখে আমি খুবই খুশি।”
কৃষকদের এই সাফল্যের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে উপজেলা কৃষি বিভাগের সহায়তা। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে কৃষকদের উন্নত জাতের বীজ, চাষাবাদ পদ্ধতি সম্পর্কে পরামর্শ এবং নিয়মিত তদারকি করা হয়েছে। কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, সূর্যমুখী একটি লাভজনক তেলবীজ ফসল। কম সময়ে উৎপাদন সম্ভব হওয়ায় এবং বাজারে চাহিদা বেশি থাকায় কৃষকদের এ ফসলে আগ্রহ বাড়ছে।
স্থানীয়রা বলছেন, সূর্যমুখী চাষ শুধু কৃষকের আর্থিক স্বচ্ছলতাই বাড়াচ্ছে না, বরং এলাকার সৌন্দর্যও বাড়িয়ে তুলেছে। অনেকেই মনে করছেন, পরিকল্পিতভাবে এই সূর্যমুখী ক্ষেতগুলোকে ঘিরে কৃষিভিত্তিক পর্যটনের সুযোগ তৈরি করা গেলে স্থানীয় অর্থনীতিতে আরও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
সব মিলিয়ে মাটিরাঙ্গায় সূর্যমুখী চাষ এখন শুধু একটি কৃষি উদ্যোগ নয়, বরং কৃষক, দর্শনার্থী ও এলাকার মানুষের জন্য আনন্দ আর সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে।