চট্টগ্রাম প্রতিনিধি : দীর্ঘদিন পর বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের চট্টগ্রাম আগমনকে কেন্দ্র করে নগরীজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক কৌতূহল, আলোচনা ও প্রত্যাশা। রাজনৈতিক অঙ্গনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মাঝেও এ সফর ঘিরে আলাদা আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আয়োজকরা বলছেন, এটি কোনো প্রচলিত রাজনৈতিক সমাবেশ নয়; বরং দল-মত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে একটি বৃহৎ জনসমাগমে রূপ নিতে যাচ্ছে।
এ উপলক্ষে সোমবার (১৯ জানুয়ারি) নগরীর মেহেদীবাগে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলন ও সম্মেলন প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থীসহ দলীয় শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
সংবাদ সম্মেলনে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, আগামী ২৪ জানুয়ারি রাতে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান চট্টগ্রামে পৌঁছাবেন এবং সেদিন রাতেই নগরীতে অবস্থান করবেন। পরদিন ২৫ জানুয়ারি সকাল ১১টায় তিনি ঐতিহাসিক পলোগ্রাউন্ড মাঠে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য দেবেন। এ উপলক্ষে চট্টগ্রাম মহানগর ছাড়াও জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষের আগমন ঘটবে বলে আয়োজকরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আমীর খসরু বলেন, “এটি কোনো দলীয় রাজনৈতিক শোডাউন নয়। তারেক রহমানের আগমনকে ঘিরে চট্টগ্রামে যে জনসমাগম হতে যাচ্ছে, তা হবে সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে একটি গণসমাবেশ। এখানে শুধু বিএনপির নেতাকর্মী নয়, সাধারণ মানুষও স্বতঃস্ফূর্তভাবে উপস্থিত থাকবেন।”
তিনি আরও বলেন, তারেক রহমানের এই সফর কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ নয়। এটি মূলত জনগণের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। দীর্ঘদিন পর তার সরাসরি উপস্থিতি চট্টগ্রামের মানুষের মধ্যে ভিন্নমাত্রার আবেগ ও প্রত্যাশার জন্ম দিয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২৫ জানুয়ারি পলোগ্রাউন্ড মাঠে তারেক রহমান মূলত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেবেন। তবে এই বক্তব্য সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। সকাল থেকেই মাঠ ও আশপাশের এলাকায় মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি থাকবে বলে ধারণা করছেন আয়োজকরা।
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “চট্টগ্রামে এর আগে বহু রাজনৈতিক সমাবেশ হয়েছে। কিন্তু এবারের সমাগম হবে ব্যতিক্রম। দীর্ঘদিন পর তারেক রহমান নিজে এসে মানুষের সঙ্গে কথা বলবেন—এই বিষয়টি মানুষ ভিন্নভাবে দেখছে ও গ্রহণ করছে। এটি কোনো একক দলের কর্মসূচি নয়; এটি একটি জনসম্পৃক্ত আয়োজন।
সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, এই আয়োজনকে ঘিরে কোনো ধরনের রাজনৈতিক স্লোগান, শোডাউন কিংবা দলীয় প্রদর্শনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। বরং শান্তিপূর্ণ, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও সর্বজনগ্রাহ্য পরিবেশ নিশ্চিত করাই আয়োজকদের প্রধান লক্ষ্য।
নগরীর বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ড ছাড়াও চট্টগ্রাম জেলার নানা উপজেলা থেকে সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেবেন বলে প্রস্তুতি সভায় জানানো হয়। আয়োজকদের মতে, রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে অনেকেই তারেক রহমানকে সরাসরি দেখতে এবং তার বক্তব্য শুনতে পলোগ্রাউন্ড মাঠে আসবেন—যার ফলে এবারের জনসমাগম হবে ভিন্নমাত্রার।
নেতারা বলেন, তারেক রহমানের এই সফর চট্টগ্রামের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে। দীর্ঘ বিরতির পর তার সরাসরি উপস্থিতি শুধু রাজনৈতিক অঙ্গনেই নয়, সাধারণ মানুষের মাঝেও নতুন আলোচনা, মূল্যায়ন ও প্রত্যাশার সৃষ্টি করেছে।