সেনবাগ(নোয়াখালী)প্রতিনিধি:নোয়াখালীর সেনবাগের আলোচিত মানবিক ফাউন্ডেশন সৈয়দ হারুন ফাউন্ডেশনের নিয়মিত মানবিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এবার লাখপতি নির্বাচিত হলেন হতদরিদ্র হরমুজা বেগম ও বাক প্রতিবন্ধী মাসুদ।এছাড়া ৯জন হতদরিদ্র পেলেন স্বপ্নের বাজার।
শুক্রবার (২৯ মে) বাদ মাগরিব সৈয়দ রুহুল আমিন স্মৃতি একাডেমি প্রাঙ্গণে আয়োজিত সংগঠনের বার্ষিক সাধারণ সভা,লাখপতি নির্বাচন ও স্বপ্নের বাজার পাওয়া ব্যক্তি নির্বাচন অনুষ্ঠানে লটারির মাধ্যমে এবারের ২জন লাখপতি ও ৯ জন স্বপ্নের বাজার প্রাপ্তদের নাম ঘোষণা করা হয়।
সৈয়দ হারুন ফাউন্ডেশন আয়োজিত ঝমকালো এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টপস্টার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সৈয়দ হারুন ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা লায়ন সৈয়দ হারুন এমজেএফ।
এসময় উপস্থিত ছিলেন এসএফ গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সৈয়দা সাজেদা রশীদ শেলী, ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা ও সৈয়দ রুহুল আমিন স্মৃতি একাডেমির সিইও আবদুস সাত্তার বিএসসি, চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক হুমায়ুন কবির, ছিলোনিয়া ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. কামাল উদ্দিন,শাহাদাত হোসেন খান,সমাজসেবক হারুনুর রশীদ, আবু ইউসুফ, নিজাম উদ্দিন চৌধুরী, মির্জা সোলাইমান, হোসেন শহিদ সোহরাওয়ার্দী, মিজানুর রহমান ভূঁইয়া, ও সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
অনুষ্ঠানে লটারির মাধ্যমে চলতি বছরের দুইজন নতুন লাখপতি নির্বাচিত হন। তারা হলেন অর্জুনতলা ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের বাকপ্রতিবন্ধী মাসুদ এবং ৮নং ওয়ার্ডের হরমুজা বেগম। বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হলে উপস্থিত মানুষের করতালিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো অনুষ্ঠানস্থল।
একইসঙ্গে ‘স্বপ্নের বাজার’ কর্মসূচির আওতায় ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ড থেকে লটারির মাধ্যমে ৯ জনকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। তারা হলেন— ১ নং ওয়ার্ডের মনিরের স্ত্রী, ২ নং ওয়ার্ডের পুষ্প বেগম, ৩ নং ওয়ার্ডের মো.হেদায়েত উল্লাহ, ৪ নং ওয়ার্ডের রেজিয়া বেগম, ৫ নং ওয়ার্ডের আবদুল হক চৌকিদার,৬নং ওয়ার্ডের জেসমিন আক্তার,৭নং ওয়ার্ডের নুরুল আমিন,৮ নং ওয়ার্ডের মো: ইউসুফ ৯ নং ওয়ার্ডের মো: সামা।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করা সৈয়দ হারুন ফাউন্ডেশন এ পর্যন্ত মোট ৯ জনকে লাখপতি হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে।পাশাপাশি ‘স্বপ্নের বাজার’ কর্মসূচির আওতায় আর্থিকভাবে অসচ্ছল ও সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষদের লটারির মাধ্যমে নির্বাচন করে তাদের পছন্দ অনুযায়ী বড় মাছ, মুরগি, গরু ও খাসির মাংস, কাঁচাবাজার, মুদি সামগ্রী ও ফলমূল কিনে দেওয়া হয়। চলতি বছরের ৯ জনসহ এ পর্যন্ত ১৮ জন এই সুবিধা পেয়েছেন।
শুধু তাই নয়, শিক্ষা,ক্রিড়া ও মানবিক কর্মকাণ্ডেও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখে চলেছে সংগঠনটি। বিভিন্ন সময়ে মেধাবী শিক্ষার্থীদের আর্থিক অনুদান ও সনদ প্রদান করা হয়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় ৫০০ শিক্ষার্থী এই সুবিধা পেয়েছে। এছাড়া ২০২৫ সাল থেকে সেনবাগ উপজেলায় সর্বোচ্চ নম্বরপ্রাপ্ত একজন ছাত্র ও একজন ছাত্রীকে গোল্ড মেডেল প্রদান কর্মসূচি চালু করা হয়েছে।
ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা যায়, অর্জুনতলা ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডের অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সহায়তা এবং দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে নিয়মিত। এ পর্যন্ত ৩০০-এর বেশি শিক্ষার্থী ও ২০০-এর বেশি রোগী আর্থিক সহায়তা পেয়েছেন।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে আগামী এক বছরের জন্য ভোটের মাধ্যমে সৈয়দ হারুন ফাউন্ডেশনের নতুন আহ্বায়ক হিসেবে মাহমুদুর রহমান রাকিব এবং সদস্য সচিব হিসেবে মাইন উদ্দিন নির্বাচিত হন।বিদায়ী সদস্যদের সংবর্ধনা, সার্টিফিকেট ও ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সৈয়দ হারুন ফাউন্ডেশন ইতোমধ্যে সেনবাগের সাধারণ মানুষের আস্থা ও ভালোবাসার সংগঠনে পরিণত হয়েছে বলে অনুষ্ঠানে বক্তারা অভিমত ব্যক্ত করেন।
এসময় আমন্ত্রিত অতিথি সহ প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিকগণ উপস্থিত ছিলেন।সবশেষে আমন্ত্রিত অতিথি,লাখপতি ও স্বপ্নের বাজার প্রাপ্তদের নিয়ে নৈশ ভোজের আয়োজন করা হয়।