চট্টগ্রাম : প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ ও পুনর্ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে অংশীদারিত্ব নবায়ন করেছে ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেড (ইউবিএল), চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) এবং ইয়াং পাওয়ার ইন সোশ্যাল অ্যাকশন (ইপসা)। নতুন এই সমঝোতার আওতায় আগামী আরও দুই বছর যৌথভাবে কাজ করবে প্রতিষ্ঠানগুলো।
সোমবার চট্টগ্রামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী (এস), বিএন; ইপসার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ আরিফুর রহমান; ইউনিলিভার বাংলাদেশের সিইও ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর রুহুল কুদ্দুস খান এবং প্রতিষ্ঠানটির করপোরেট অ্যাফেয়ার্স, পার্টনারশিপস ও কমিউনিকেশনস পরিচালক শামিমা আক্তার।
২০২২ সাল থেকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ৪১টি ওয়ার্ডে প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ভ্যালু চেইন উন্নয়নে কাজ করছে এই উদ্যোগ। এর মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতাকর্মী, স্ক্র্যাপ ক্রেতা (ভাঙারিওয়ালা) ও রিসাইক্লারদের একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যবস্থার আওতায় আনা হয়েছে। একইসঙ্গে প্রণোদনাভিত্তিক মডেলের মাধ্যমে স্বল্পমূল্যের প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
উদ্যোগের আওতায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা এবং মৌলিক ব্যবসায়িক দক্ষতা বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। পাশাপাশি বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের নিরাপত্তা সরঞ্জাম ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা সুবিধাও দেওয়া হয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় এ পর্যন্ত ৩ হাজার পরিচ্ছন্নতাকর্মী এবং ২২০ জন স্ক্র্যাপ ক্রেতাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রায় ২ হাজার পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে নিরাপত্তা সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয়েছে। ২০২৫ সালে চালু করা হয় গ্রুপ লাইফ ইন্স্যুরেন্স সুবিধা, যার মাধ্যমে ১ হাজার ৮২৭ জন অংশগ্রহণকারী দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু বা অক্ষমতার ক্ষেত্রে আর্থিক সুরক্ষার আওতায় এসেছেন।
কমিউনিটি সম্পৃক্ততা কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রায় ২৫ হাজার পরিবার এবং বিভিন্ন স্কুল ও মাদ্রাসার ১০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর কাছে সচেতনতামূলক বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এ কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানানো হয়।
২০২২ সালের জুন থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ৩২ হাজার টনের বেশি প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ করা হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশ ছিল ফ্লেক্সিবল প্লাস্টিক। এছাড়া অংশগ্রহণকারী স্ক্র্যাপ ক্রেতাদের অর্ধেক এখন ট্রেড লাইসেন্সধারী এবং সকল অংশগ্রহণকারীর সক্রিয় ব্যাংক হিসাব রয়েছে।
অনুষ্ঠানে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, নগর বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে কার্যকর করতে সিটি করপোরেশন, বেসরকারি খাত ও সিভিল সোসাইটির সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যৌথভাবে কাজের মাধ্যমে ওয়ার্ড পর্যায়ে সেবার মানোন্নয়নের পাশাপাশি পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলাও সম্ভব হবে।
ইউনিলিভার বাংলাদেশের সিইও রুহুল কুদ্দুস খান বলেন, প্লাস্টিক বর্জ্য সমস্যা মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা ও কাঠামোগত পরিবর্তন প্রয়োজন। চসিক ও ইপসার সঙ্গে চলমান অংশীদারিত্ব বর্জ্য সংগ্রহ ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং টেকসই নগর ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ইপসার প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ আরিফুর রহমান বলেন, এই উদ্যোগ অনানুষ্ঠানিক খাতের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের আরও সংগঠিত ব্যবস্থার আওতায় আনছে, যা তাদের আয়, নিরাপত্তা ও সামাজিক স্বীকৃতি বৃদ্ধিতে সহায়তা করছে।
অনুষ্ঠানে প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বিশেষ অবদানের জন্য দুইজন বর্জ্য সংগ্রাহক এবং দুইজন স্ক্র্যাপ ক্রেতাকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।
নবায়নকৃত এই অংশীদারিত্বের আওতায় প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি কমিউনিটি পর্যায়ে আচরণগত পরিবর্তনেও গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।