চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের দুঃশাসনের সময় দলের নেতাকর্মীদের পাশে থেকে আইনজীবীরা যে সাহসী ও আপসহীন ভূমিকা পালন করেছেন, তা ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। বিশেষ করে ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ কর্মসূচিতে আইনজীবীদের দৃঢ় অবস্থান গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।
তিনি বলেন, দলের দুঃসময়ে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম ও চট্টগ্রাম সনাতনী আইনজীবী পরিষদের নেতৃবৃন্দ যেভাবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন, তা শুধু দলের জন্য নয়—দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
মঙ্গলবার রাতে চট্টগ্রামে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম ও চট্টগ্রাম সনাতনী আইনজীবী পরিষদের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
তিনি আরও বলেন, আগামী দিনের সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। ধর্ম, বর্ণ ও শ্রেণিভেদ ভুলে সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে একটি সহনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই—যেখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই সমান অধিকার নিয়ে বসবাস করবে। রেইনবো নেশনের মতো বৈচিত্র্যের মধ্যেই আমাদের শক্তি।”
জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট তারেক আহমেদের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম সাজ্জাদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুস সাত্তার এবং সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হাসান আলী চৌধুরী।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা জিপি অ্যাডভোকেট আবুল কাশেম চৌধুরী, মহানগর পিপি অ্যাডভোকেট মফিজুল হক ভূঁইয়া, পিপি অ্যাডভোকেট এস ইউ নুরুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট আব্দুস সাত্তার সরোয়ার, অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ, অ্যাডভোকেট আবুল হাসান শাহাবুদ্দিন, অ্যাডভোকেট মধুসূদন দত্ত, অ্যাডভোকেট কাজী সিরাজ, অ্যাডভোকেট জহুরুল আলম, অ্যাডভোকেট ইফতেখার হোসেন চৌধুরী, অ্যাডভোকেট শিপন কুমার দে, অ্যাডভোকেট সেলিমা খানমসহ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম ও সনাতনী আইনজীবী পরিষদের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
মতবিনিময় সভায় বক্তারা বলেন, দেশে আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় আইনজীবীদের ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা আরও জোরদার করতে হবে। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও মানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।