মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ০৮:৩৪ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
সংবাদ শিরোনাম :

পাহাড়ের ঢালুতে টমেটো চাষ করে সফল কৃষক আবু সাঈদ ; অর্ধ কোটি টাকা বিক্রির স্বপ্ন

দিগন্তের বার্তা ২৪ ডেস্ক : / ২৯ বার পঠিত
আপডেট : শুক্রবার, ১৫ মার্চ, ২০২৪, ৮:২১ অপরাহ্ণ

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি: মাত্র চার একর পাহাড়ের ঢালু জমিতে চাষ করা টমেটো প্রায় অর্ধ কোটি টাকা বিক্রির স্বপ্ন দেখছেন কৃষক মো. আবু সাঈদ। যেখানে চলতি মৌসুমে জেলার অধিকাংশ টমেটো চাষি ভাইরাসের কবলে পরে লোকসানে পরেছেন।

সম্প্রতি শান্তিপুরের সীমান্তঘেঁষা মেস্তরীর চর এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে,পাহাড়ের ঢালে মাচায় ঝুলছে হলুদ-সবুজে মিশেল টমেটো। পাহাড়ের উপরে মাচায় সবুজ, হলুদ আর পাকা টমেটোগুলো সূর্যের আলোয় ঝলমল করছে। শ্রমিকদের সাথে টমেটো গাছের পরিচর্যার পাশাপাশি গাছ থেকে পাকা টমেটো তুলছেন কৃষক মো. আবু সাঈদ।

খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলার শান্তিপুরের সীমান্ত ঘেঁষা মেস্ত্রীর চর এলাকায় প্রাথমিকভাবে ১২ একর পাহাড় লিজ নিয়ে ৪ একর ঢালু ভুমিতে টমেটো চাষ করে এলাকায় ব্যপক সাড়া ফেলেছেন তিনি। নিজের অর্থনৈতিক সাফল্যের পাশাপাশি অনেক বেকারের কর্মসংস্থান করেছেন এ স্বপ্নবাজ কৃষক।

আবু সাঈদ জানান, ঢাকা থেকে ২০২২ সালে এ এলাকায় এক বন্ধুর ফলজ বাগানে বেড়াতে আসেন তিনি। পাহাড়ের বিস্তীর্ণ জমিতে তামাক চাষ দেখে বিস্মিত হন। তখনই ব্যাপক সম্ভাবনাময় জমিতে তামাকের পরিবর্তে সবজিসহ অন্যান্য ফসল চাষে আগ্রহী হয়ে ওঠেন।

অক্টোবর মাসের শেষের দিকে তিনি চার একর পাহাড়ের ঢালু জমিতে স্মার্ট-১২১৭ জাতের টমেটোর চারা রোপণ করেন। এ জাতের টমেটো গাছ প্রতি গড়ে ৮-১০ কেজি পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়। একর প্রতি গড় ফলন ৪০-৪৫ টন। ফল ডিম্বাকৃতির শক্ত এবং আকর্ষণীয় লাল বর্ণের হয়। একই সাথে বীজ বপনের ৬০-৬৫ দিনের মধ্যেই ফল সংগ্রহ শুরু করা যায়। স্মার্ট -১২১৭ জাতের টমেটোর প্রতিটি গাছ টমেটোর ভারে নুইয়ে পরে। গাছ পরে যাওয়া ঠেকাতে বাঁশের খুঁটিতে বেঁধে দিতে হয়।

মো. আবু সাঈদের জমিতে ১০/১২ জন শ্রমিক মাসিক বেতনে স্থায়ীভাবে কাজ করার পাশাপাশি অস্থায়ী ভিত্তিতে আরো ৫/৭জন শ্রমিক কাজ করে থাকেন। পর্যায়ক্রমে একই জমিতে আরো বিভিন্ন জাতের সবজির উৎপাদন করা হবে বলে জানান মো. আবু সাইদ।

এ জমি থেকে এক থেকে দেড় লাখ কেজি টমেটো বিক্রি করতে পারবেন জানিয়ে তিনি বলেন, মিড আরলি জাতের হবার দরুন টমেটোর দর আশানুরূপ না হলেও চলমান বাজার দর হিসেবে ৪০ থেকে ৪৫ লাখ টাকার টমেটো বিক্রি করতে পারবেন। টমেটো উৎপাদনে ১৬ লাখ টাকা খরচ হবে বলেও জানান এ কৃষি উদ্যেক্তা।

পাহাড়ের উচু ভূমিতে ফলজ বাগানের পাশাপাশি পর্যাপ্ত পরিচর্যা করে সবজি চাষ করলে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব জানিয়ে আবু সাইদ বলেন, পাহাড়ের ঢালুতে টমেটো চাষ করায় টমেটোতে রোগের পাদুর্ভাব কম দেখা গেছে। দেশের অন্যান্য স্থানে বর্ষা মৌসুমে জমি তলিয়ে যায় বিধায় ফসলের হানি ঘটে।বর্ষায় পাহাড়ের উপর পানি জমে থাকে না বিধায় এখানে সকল ধরনের ফসল উৎপাদন করা সম্ভব। তবে শুষ্ক মৌসুমে সেচের ব্যবস্থা করা একটু কষ্টসাধ্য।

কৃষি উদ্যক্তা মো. আবু সাইদের জমিতে কাজ করা শ্রমিক মো. আমির হোসেন বলেন, এখানে কাজ করে পাহাড়ের ঢালে সবজি চাষ আয়ত্ত করছি। পরবর্তীতে নিজেই উদ্যোগ গ্রহণ করে ফসলের চাষ করবো।

কৃষি উদ্যক্তা মো. আবু সাইদের এমন উদ্যোগ অনুকরনীয় উল্লেখ করে মাটিরাঙ্গা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. সবুজ আলী বলেন, বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ের উপরে সবজি চাষ সহজেই করা যায়। শুষ্ক মৌসুমে অধিকাংশ জায়গায় সেচ দেওয়া সম্ভব না হওয়ায় চাষ ব্যায়বহুল এবং কষ্টসাধ্য। তবে সমতল জমির পাশাপাশি পাহাড়ের ঢালুতে টমেটো চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। যার অনন্য দৃষ্টান্ত কৃষক মো. আবু সাঈদ।

Facebook Comments Box


এ জাতীয় আরও খবর
এক ক্লিকে বিভাগের খবর