শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ১২:৩১ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
সংবাদ শিরোনাম :

বান্দরবানের লামা উপজেলায় তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন কার্যকারিতার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

দিগন্তের বার্তা ২৪ ডেস্ক : / ১৯৬ বার পঠিত
আপডেট : শনিবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৩, ৩:৫৫ অপরাহ্ণ

কে এইচ মহসিন লামা,বান্দরবানঃদেশব্যাপী তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন লঙ্ঘন: তামাক কোম্পানি বেপরোয়া” শীর্ষক সংবাদ সম্মেলন করেছে বেসরকারী এনজিও এনজেড একতা মহিলা সমিতি। সরকারের উচ্চ মহল গুলোকে স্মারক লিপি দিয়েছেন এনজেড একতা মহিলা সমিতির কর্তৃপক্ষ। এর সহযোগিতায় ছিলেন, বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট।

১৪ অক্টোবর বেলা ১১টায় জাতীয় তামাকমুক্ত দিবস-২০২৩ উপলক্ষে এনজেড ক্যাম্পাস হলরুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রবন্ধ উপস্থাপন করে সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক আনোয়ারা বেগম।
এ সময় উপস্থিতি ছিলেন লামা প্রেসক্লাব সভাপতি বাবু প্রিয়দর্শী বড়ুয়া, আবুল কালাম আজাদ, কামুরুজ্জামান, তৈয়ব আলী, বেলাল উদিন মোহাম্মদ ইলিয়াস, সমছুদ্দোজা রফিকুল ইসলাম, কে এইচ মহসিনসহ ১৮ জন।

নির্বাহী পরিচালক আনোয়ারা বেগম বলেন সরকার ২০৪০ সালের মধ্যে দেশকে তামাকমুক্ত করতে নানা কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। অথচ তামাক কোম্পানিগুলো তার উল্টা পথে চলছে। সরকারের জনস্বাস্থ্য রক্ষার এই মহৎ উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করতে নানা অপচেষ্টা চালাচ্ছেন।

এ অপচেষ্টার মূল উদ্দেশ্য, দেশের তরুণ সমাজকে ধূমপানের দিকে আকৃষ্ট করা, তারা আইন ভঙ্গ করে বিজ্ঞাপন করার পাশাপাশি, প্রণোদনা, রেস্টুরেন্টে ধূমপানের স্থান তৈরি, বিশ্ববিদ্যালয়ে দূত নিয়োগ করছে। প্রজন্মকে ধূমপায়ী বানিয়ে বাণিজ্য করাই তাদের উদ্দেশ্য। দেশে ব্যবসা করা ২টি বিদেশী সিগারেট কোম্পানি এই বেআইনী কার্যক্রমে নেতৃত্ব দিচ্ছে। দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা সংক্রামক রোগের চাপে বিপর্যন্ত। হৃদরোগ, স্ট্রোক, ক্যান্সার এই তিন সংক্রামক রোগের অন্যতম প্রধান কারণ তামাকের ব্যবহার।

দেশের তিন কোটির বেশি মানুষ তামাক ব্যবহার করে। আর এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে তামাক ত্যাগ করাতে সরকার নানা উদ্যোগে নিয়েছে।অপরদিকে কোম্পানিগুলো আইন ভঙ্গ করে নতুন ধূমপায়ী তৈরি এবং দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে বিপর্যন্ত করতে নানা অপকৌশল অবলম্বন করছে।

বাংলাদেশে ১ লক্ষ ৬১ হাজার মানুষ মারা যায়। ১৫ লক্ষাধিক মানুষ তামাক ব্যবহার করে।
জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে ২০০৫ সালে ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন’ প্রণয়ন এবং সংশ্লিষ্ট বিধি জারি করা হয়। এই আইনের অন্যতম লক্ষ্য দেশে তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার ক্রমান্বয়ে কমিয়ে আনা এবং নতুনদের তামাক ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করা। তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের ধারা-৫ এ তামাকজাত দ্রব্যের বিজ্ঞাপন, প্রচারণা ও পৃষ্ঠপোষকতা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

সম্প্রতি দেশের ৫টি সিটি কর্পোরেশন, ১৬টি জেলা ও ৩২টি পৌরসভায় পরিচালিত জরিপে ২২,৭২৩ টি বিক্রয় কেন্দ্রে তামাকজাত দ্রব্যের বিজ্ঞাপন ও প্রচারণা কার্যক্রমের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো কোম্পানি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তরুণদের সম্পৃক্ত করে ‘ব্যাটল অব মাইন্ড’ ‘এক্সসিড’ ইত্যাদি নামে প্রচারণামূলক কর্মসূচি চালাচ্ছে। সরকারের ২০৪০ সালের মধ্যে তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যকে ব্যাহত করতে বিদ্যমান তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনে প্রত্যক্ষ প্রচার-প্রচারণা, বিজ্ঞাপন ও প্রণোদনা নিষিদ্ধ হওয়ায় তামাক কোম্পানিগুলো এসব কর্মসূচির মাধ্যমে তাদের নাম ও ব্র্যান্ডকে তরুণদের কাছে নিয়ে যাচ্ছে।

গবেষণায় দেখা যায়, তামাকের নেশায় আসক্তদের অধিকাংশ তরুণ ও কিশোর বয়সে ধূমপান শুরু করে। তাদের মধ্যে বন্ধুবান্ধব ও বিজ্ঞাপনের প্রভাব বেশি লক্ষ্য করা যায়।

তামাক কোম্পানি কোনভাবেই রাষ্ট্রীয় আইনের ঊর্ধ্বে নয়। জনস্বাস্থ্যকে প্রধান্য দিয়ে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন শক্তিশালীকরণ ও তা বাস্তবায়নের মাধ্যমে তামাক কোম্পানিগুলোকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে ‘তামাকমুক্ত বাংলাদেশ’ অর্জন ত্বরান্বিত হবে,বলে মনে করেন বক্তারা।

Facebook Comments Box


এ জাতীয় আরও খবর
এক ক্লিকে বিভাগের খবর