শনিবার, ০২ মার্চ ২০২৪, ০২:৫৪ অপরাহ্ন

সাগরিকায় ইলিয়াসের সাম্রাজ্যে সক্রিয় নাছির গ্যাং

দিগন্তের বার্তা ২৪ ডেস্ক : / ৩৬৬ বার পঠিত
আপডেট : বুধবার, ৭ জুন, ২০২৩, ৮:৫৪ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিনিধি ঃ চট্টগ্রাম নগরীর পাহাড়তলী থানাধীন সাগরিকা শিল্পাঞ্চল এলাকায় আলোচিত জোড়া খুনের পর ইলিয়াছ ও তার সহযোগীরা গ্রেফতারের পর। কিছুদিন স্থানীয় সন্ত্রাসী ও কিশোর গ্যাং গা ঢাকা দিয়ে থাকলেও এখন আবার নতুন উদ্যমে চাঁদাবাজিসহ নানান সন্ত্রাসী কর্মকান্ড শুরু করেছে। স্থানীয় নাছির-বাল্লা ও রকি আগে থেকেই গ্রেফতার ইলিয়াছ গ্রুপের হয়ে সাগরিকা এলাকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও যানবাহন থেকে চাঁদা আদায় করতো। জোড়া খুনের ঘটনার পর কিছুদিন ইলিয়াছের এই গ্রুপটি ধরাছোঁয়ার বাহিরে চলে যায়।

পরবর্তিতে জোড়া খুনের অভিযুক্তরা গ্রেফতারের পর এক এক করে নাছির উদ্দীন ও তার ভাই মিনহাজ উদ্দিন প্রকাশ বাল্লা, রকিসহ একটি কিশোর গ্যাং গ্রুপ সাগরিকা এলাকায় ফিরে আসে। গত দুই সপ্তাহ আগে এলাকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি ও গণপরিবহন থেকে টাকা দাবি করছে মর্মে অভিযোগ উঠলেও কেউ সহজে মুখ খুলছিলো না। কারণ হিসেবে ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, নাছির উলটো থানা পুলিশের ভয় দেখাচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় পাহাড়তলী থানার ও ফাঁড়ির কতিপয় পুলিশ অফিসারের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় যুবদলের চিহ্নিত ক্যাডার নাছির উদ্দিন প্রকাশ মাতাল নাছির এখন অনেকটা প্রকাশ্যে বিভিন্ন স্থানে জোরপূর্বক কাজের নামে অর্থ দাবি করছে। যুবদলের চিহ্নিত এই ক্যাডার এখন নিয়মিত পাহাড়তলী থানায় যাতায়াত করছে বলে একাধিক তথ্য প্রমাণ বাংলাদেশ বুলেটিনের হাতে এসেছে ৷ নাছিরকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ পাইয়ে দিতে কতিপয় অফিসার বিভিন্নজনকে রিতিমতন থানায় ডেকে এনে চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সরেজমিন অনুসন্ধানে এ সকল অভিযোগের বেশির ভাগেরই মিলেছে চাঞ্চল্যকর সত্যতা।

গত ৬ জুন দুপুরে সাগরিকা রোডের একটি হিমায়িত মৎস প্রক্রিয়াজাত কারখানায় মাছের সরবরাহ, কর্কশিট রিসাইকেল কাজে নিয়োজিত মাঝিদের নাছির ও বাল্লা ‘কর্কশিট’ এর কাজ দেয়ার জন্য চাপ দেয়। এসময় শ্রমিকরা নাছিরের সাথে কাজ করবে না বলে জানালে, নাছির সাগরিকা এলাকায় তাদেরকে কাজ করতে দেয়া হবে না মর্মে হুমকি দেয়। এই ঘটনায় ৬ জুন রাতে শ্রমিকদের পক্ষে ফজলুর রহমান সোহাগ পাহাড়তলী থানায় সাধারণ ডায়েরি করে। সোহাগ বাংলাদেশ বুলেটিনকে জানান, উত্তর কাট্টলীর মৃত নুর নবীর ছেলে নাছির উদ্দিন ও মিনহাজ উদ্দিন বাবলা প্রকাশ বাল্লা এক সময় আমাদের কাজ করতো। তারা (নাছির ও তার গ্রুপ) আমাদের ওপর নানান জুলুম অত্যাচার করায় নিরুপায় হয়ে আমরা স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহায়তায় আমাদের সংগঠন বাংলাদেশ এক্সপোর্টেবল ফিশ সাপ্লাইয়ার্স কো-অপারেটিভ সোসাইটি লি. এর মাধ্যমে অন্য একজনের সাথে চুক্তি করে। আজ দীর্ঘদিন আমরা নিরাপদে, নির্বিঘ্নে সাগরিকা এলাকার বিভিন্ন ফিসারিজ কারখানায় কাজ করছি।

স্থানীয়দের চাপে নাছির ও তার ভাই বাল্লা আমাদের কারখানার আসেপাশেও আর আসেনি। কিন্তু সম্প্রতি নাছির মদ্যপ অবস্থায় এসে আমাদেরকে জোর করে কাজ দেয়ার কথা বলে। কাজ না দিলে গাড়ী প্রতি টাকা দিতে হবে। অন্যথায় সাগরিকা এলাকায় কাউকে কাজ করতে দেয়া হবে না বলে হুমকি দেয়। আমরা সন্ধ্যায় এই সংক্রান্ত অভিযোগ জানাতে থানায় গেলে দায়িত্বরত অফিসার কোন জিডি নেয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেয়। সেই অফিসার আমাদেরকে বেশি রাজনীতি না করতে ধমক দেয়। আমাদেরকে কে থানায় পাঠিয়েছে সেটা জানতে চান। আমরা দেশের অন্য এলাকা থেকে এখানে কাজ করতে এসেছি সুতরাং এখানে আমাদের কোন রাজনীতি বা উদ্দেশ্য নেই বলে জানালেও অফিসার আমাদের ধমক দিয়ে ফিরিয়ে দেয়। পরে রাতে বিষয়টি পাহাড়তলী থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমানকে জানালে তিনি তাৎক্ষণিক জিডি এন্ট্রি করে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয় বলে জানান সোহাগ।

কেন থানার অফিসার যুবদল নেতা নাছিরের বিরুদ্ধে জিডি নিয়ে চায়নি সেই তথ্য উদঘাটন করতে গেলে বেরিয়ে এসেছে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। যা অনেকটা কেঁচো খুড়তে গিয়ে সাপ বেরুনোর মতন অবস্থা। রফিক নামের এক ব্যক্তি সাগরিকা এলাকায় দীর্ঘদিন কর্কসীটের কাজ করে। গত প্রায় দুই সপ্তাহ আগে নাছির তাকেও কাজ দেয়ার জন্য নানানভাবে চাপ দেয়। এক পর্যায়ে নাছির রফিককে থানায় ডেকেছে বলে সন্ধ্যায় থানায় নিয়ে যায়। সেখানে সাদা পোষাকে থাকা এক অফিসার নাছিরকে কাজ দিতে রফিককে পরামর্শ দেয়। রফিক বাংলাদেশ বুলেটিনের কাছে এই ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেছেন, ‘প্রায় ১৫ দিন আগে আমাকে নাছির থানার অফিসার ডেকে বলে থানায় নিয়ে যায়। সেখানে একজন অফিসার আমাকে বলে নাছিরকে কাজ দিতে। আমি সেই অফিসারকে বলি বর্তমানে আমরা একজনকে দিয়ে কাজ করাই সুতরাং দুইজনকে কাজ দেয়া সম্ভব না৷’

অনুসন্ধানে জানা গেছে, থানা পুলিশেরই অসাধু সদস্যরা নাছিরের সাথে বড় অংকের লেনদেনের বিনিময়ে সাগরিকা এলাকায় প্রভাব বিস্তারের সুযোগ করে দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। থানার এস আই পদ মর্যাদার দুইজন অফিসার নাছিরকে সেল্টার দিচ্ছে বলে জানাগেছে ৷ মূলত ইলিয়াসের রেখে যাওয়া সাম্রাজ্য নাছিরের হাতে তুলে দিয়ে নিয়মিত অবৈধ আয়ের ভাগ পেতে এই যোগসাজশ চলছে বলে স্থানীয় ব্যবসায়ী, বিভিন্ন কারখানা ও পরিবহনের সাথে জড়িত মালিক শ্রমিকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলাকার একটি আবাসিক হোটেলের মালিক বলেন, ‘হোটেল চালাতে হলে মাসিক ৫ হাজার টাকা দেয়া লাগবে। এই কারণে অনেক হোটেলে এখন অবৈধ কাজ চলছে। মূলত চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের দিয়ে নানাভাবে চাপ প্রয়োগ করে পরে কতিপয় পুলিশ অফিসার এসে একটা দফারফা করে বলে জানান তিনি।’

এই বিষয়ে পাহাড়তলী থানার অফিসার ইনচার্জ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমার সুস্পষ্ট ম্যাসেজ, আমার থানা এলাকায় কেউই কারও কাছ থেকে টাকা নিতে পারবে না। এসব অপকর্মে যে বা যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া যাবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। থানায় কাউকে ডেকে কাউকে কাজ দেয়ার কথা বলার সুযোগ নেই উল্লেখ করে ওসি মোস্তাফিজুর রহমান এমন কিছু হয়েছে বলে আমার জানা নেই। ইলিয়াছ ও তার সহযোগীরা অলরেডি কারাগারে। এখন যদি আবার কেউ এমন অপকর্ম ঘটায় তাহলে তাদেরকেও জেলে যেতে হবে বলে জানান তিনি।

Facebook Comments Box


এ জাতীয় আরও খবর
এক ক্লিকে বিভাগের খবর