শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ১২:৩৩ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
সংবাদ শিরোনাম :

তীব্র তাপদাহ যেভাবে বাংলাদেশের অন্য ভয়াবহ দুর্যোগে পরিণত হতে পারে

দিগন্তের বার্তা ২৪ ডেস্ক : / ১১৩ বার পঠিত
আপডেট : শুক্রবার, ১২ মে, ২০২৩, ৫:০৬ অপরাহ্ণ

শাফিন হাসান তাহমীদ:চলতি বছর স্মরণকালের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড দেখেছে দেশবাসী। আবহাওয়া অধিদপ্তরের হিসাবে যেখানে গত ৬০ বছরে এপ্রিল মাসে সারা দেশের গড় তাপমাত্রা ছিলো ৩৩.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সেখানে এবারে প্রথম ১৬ দিনের গড় তাপমাত্রা এরচেয়ে ১ থেকে ৬ ডিগ্রি পর্যন্ত বেশি ছিলো।

বিশেষ করে এবছর সেসময় পবিত্র রমজান মাস চলছিলো বলে দুর্ভোগ অন্যরকমের মাত্রা পায়। এমনকি মে মাস প্রায় অর্ধাংশে এসে পৌঁছালেও রাজধানীবাসী সেরকম প্রশান্তিদায়ক ঝড়-বৃষ্টির দেখা পাচ্ছেন না। যদিও আকাশে কিছুটা মেঘের আভাস দেখা দেওয়ায় গরমের তেজ কিছুটা হলেও কমেছে।

অন্যদিকে বাংলাদেশের পাশাপাশি প্রতিবেশী ভারত ও পাকিস্তানের অধিবাসীরাও গত কয়েক দশকের মধ্যে রেকর্ড সর্বোচ্চ তাপমাত্রা অনুভব করছেন। আর বিষয়টির ভয়াবহতা নিয়ে গেল মাসে বিখ্যাত ব্রিটিশ ম্যাগাজিন ‘দি ইকোনোমিস্ট’-এর পাতায় ছাপা হয়েছিলো বেশ বড়োসড়ো এক প্রতিবেদন। যার চুম্বক অংশ নিয়েই রইলো আজকের এই আয়োজন।

কেন ক্রমেই বেড়ে চলেছে তাপমাত্রা?
এবছর হঠাৎ করেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বাতাসের আদ্রতা এবং সর্বনিম্ন আবহাওয়া বেড়ে যায়। যেমন – এপ্রিলে রাজধানীর স্বাভাবিক আদ্রতার মান ৭১ শতাংশ হলেও, এবারে সেটি বেশ কয়েকবার ৮০ শতাংশের বেশি চলে গিয়েছিলো। আবার, একই সময়ে ঢাকার সর্বনিম্ন স্বাভাবিক তাপমাত্রা ২৩ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলেও চলতি বছর সেটি কয়েক ডিগ্রি বেশি ছিলো।

এর পাশাপাশি বৈশ্বিক উষ্ণতা এবং ক্রমবর্ধমান গ্রিনহাউজ গ্যাসের নিঃস্বরণ পরিস্থিতিকে করে তুলছে আরো ভয়াবহ। এমনকি পৃথিবীর তাপমাত্রা যদি শিল্পবিপ্লব পূর্ববর্তী সময়ের চেয়ে মাত্র ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়ে যায়, তাহলে এমন ঘটনা আরো নিয়মিতভাবে ঘটার সমূহ আশঙ্কা রয়েছে।

তীব্র তাপদাহের ক্ষতি‘দি ইকোনোমিস্ট’-এর মতে উপমহাদেশের পাকিস্তানের অর্ধাংশ থেকে ভারত হয়ে বাংলাদেশ – এই অঞ্চলে প্রায় ৭০ কোটিরও বেশি মানুষের বাস যা পৃথিবীর অন্যতম গরীব, ঘনবসতিপূর্ণ এবং গ্রীষ্মপ্রবণ এলাকায় পরিণত হয়েছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, তাপমাত্রা এবং বাতাসের আদ্রতার সম্মিলিত পরিস্থিতি যখন দেহের তাপমাত্রা তথা ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করে ফেলে তখন সেটি স্তন্যপায়ী প্রাণিদের শরীরে প্রচণ্ড ঘাম উৎপাদনের পেছনে ভূমিকা রাখে।

এরকম আবহাওয়া মস্তিষ্কের ক্ষতি এবং কিডনি ও হৃদযন্ত্রকে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এমনকি ২০০০ থেকে ২০১৯ সালের মাঝে দক্ষিণ এশিয়া প্রতিবছর ১ লাখ ১০ হাজার গরমজনিত মৃত্যু প্রত্যক্ষ করেছে। পাশাপাশি এটি খেটে-খাওয়া মানুষদের কর্মক্ষমতার ওপরও বিরূপ প্রভাব ফেলছে, যা সার্বিকভাবে এসব শ্রমনির্ভরশীল দেশের অর্থনীতির জন্য ভয়ানক। একই সঙ্গে গবেষকদের আশঙ্কা সত্যি হলে উপমহাদেশের এসব অঞ্চলের অনেক ঘনবসতিপূর্ণ শহর ধীরে ধীরে কিছু সময়ের জন্য বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়বে। এমনকি শক্তিশালী সরকারি ব্যবস্থাও এই দুর্যোগ সামাল দিতে বিপাকে পড়তে পারে।

তাহলে এর সমাধান?
ভারতের গান্ধীনগরে অবস্থিত ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউট অফ পাবলিক হেলথের পরিচালক কর্তৃক গৃহীত একটি ব্যবস্থা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কিছুটা প্রভাব ফেলতে পারে যেখানে সাধারণ মানুষদের কাছে বৈরি আবহাওয়ার ব্যাপারে নিয়মিত সতর্কবার্তা পাঠানো হয় এবং সবাইকে কোনো ভবনের ভেতরে অবস্থান করার অনুরোধ জানায় স্থানীয় প্রশাসন। সেই সাথে মানুষকে প্রচুর পানি পান করতে উদ্বুদ্ধ করা হয় এবং জরুরি সেবাগুলো সার্বক্ষণিক সচল থাকে। তবে এর পাশাপাশি পরিকল্পিত নগরায়নের ওপরও জোর প্রয়োগ করছেন গবেষকরা।

Facebook Comments Box


এ জাতীয় আরও খবর
এক ক্লিকে বিভাগের খবর