শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ১২:৫৪ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
সংবাদ শিরোনাম :

অনৈতিক সুবিধায় ব্যর্থ ও দালালদের প্রশ্রয় না দেয়ায় বিআরটিএ এর বিরুদ্ধে অপপ্রচার

দিগন্তের বার্তা ২৪ ডেস্ক : / ১৭৫ বার পঠিত
আপডেট : শনিবার, ৬ মে, ২০২৩, ১১:০৫ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক : অনৈতিক সুবিধা আদায় করতে ব্যর্থ হয়ে চট্টগ্রাম বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) বিরুদ্ধে অপ্রপ্রচারে নেমেছে একটি চক্র। চক্রটি অবৈধ সুবিধা আদায়ে ব্যর্থ হয়ে বিআরটিএ’র বিরুদ্ধে নানা জায়গায় প্রপাগান্ডা ছড়িয়ে দিচ্ছে। চট্টগ্রাম বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি-বিআরটিএ’র সব কার্যক্রমে গতি এসেছে।

বিভিন্ন সেবা করা হয়েছে ডিজিটিলাইজড। ফলে সেবগ্রহিতা কোন ধরণের হয়রানি ছাড়াই পাচ্ছেন কাঙ্খিত সেবা। সেবা ডিজিটিলাইজড হওয়ায় দালালদের ‘ভাত’ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে এক শ্রেণির সিন্ডিকেট সরকারের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন করতে বিআরটিএ’র বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে নেমেছে। বিষয়টি সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের গোয়েন্দা সংস্থাতে জানানো হয়েছে। চট্টগ্রামের বিআরটিএ অফিস সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায়, সড়ক যোগাযোগ ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সচিব এবিএমআমিন উল্লাহ নূরী, ও বিআরটিএ চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদের মজুমদারের সার্বিক সহযোগীতায় বিভিন্ন সেবা কার্যক্রমে গতিশীলতা এসেছে। ফলে চট্টগ্রামের সর্বস্তরের মানুষ, মোটর যান মালিক, বিভিন্ন শ্রমিক ইউনিয়ন এবং পেশাজীবী মানুষসহ বিআরটিএর অংশীজনের সার্বিক সহযোগিতা ও পরামর্শে বিআরটিএ সেবা কার্যক্রম পরিচালনা হয়ে থাকে। বিশেষ করে করোনা কালীন সময়ে বিএরটিএ’র কার্যক্রম ছিল চোখে পড়ার মত। বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী জীবনের ঝু^ঁকি নিয়ে ট্যাক্স শনাক্তকরণ নম্বর সনদ আপডেটসহ অন্যান্য কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করেছেন। করোনায় বিআরটিএ’ র কাযক্রম সচল রাখতে গিয়ে সেলিম রেজা নামে এক কর্মকর্তার প্রাণ দিতে হয়েছে। সরকারের রাজস্ব আদায়ে গতিশীলতা এসেছে কয়েকগুণ। এছাড়াও বিভিন্ন সময় চট্টগ্রামে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়কারী গণপরিবহণের বিরুদ্ধে আবারও অভিযান চালিয়েছেন বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) ভ্রাম্যমাণ আদালত।

সংশ্লিষ্টরা জানান, চট্টগ্রাম বিআরটিএ’তে দালালের উৎপাত ছাড়াই খুব সহজেই সব সেবা খুশি বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ। সরকারী প্রতিষ্ঠান বিআরটিএর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে অনৈতিক সুবিধা নিতে অনিবন্ধিত সংগঠন থ্রি-হুইলার অটোটেম্পো মালিক চালক আন্দোলন কমিটির ব্যানারে। তারা সড়কে নৈরাজ্য সৃষ্টির পায়তারা করছে দীর্ঘদিন ধরে। চট্টগ্রাম অটোরিকশা-অটোটেম্পো শ্রমিক লীগ রেজি নম্বর- চট্ট -১৪৬৯ এর সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম খোকনসহ আরও কয়েকজনের একটি সিন্ডিকেট। গত বছরের ২৩শে জুলাই চট্টগ্রাম অটোরিকশা – অটোটেম্পো শ্রমিক লীগ রেজি. নং- চট্ট -১৪৬৯ এর সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম খোকনের বিরুদ্ধে একই সংগঠনের তিন নেতা সাবেক সভাপতি উজ্জল বিশ্বাস,বর্তমান কমিটির মো. ইলিয়াস, অর্থ সম্পাদক মো. ইউসুফ চট্টগ্রাম বিভাগীয় শ্রম দপ্তর, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ-(সিএমপি) দুর্নীতি দমন কমিশন কমিশন- (দুদক), চট্টগ্রাম বিআরটিএসহ বিভিন্ন দফতরে লিখিত অভিযোগ দেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম খোকন এর বিরুদ্ধে উক্ত নেতারা অভিযোগ করেন, শ্রমিক স্বার্থ বিরোধী গঠনতন্ত্র পরিপন্থি কর্মকান্ড পরিচালনার মাধ্যমে সাধারণ শ্রমিকদের ব্যবহার করে স্বনামে বেনামে চট্টগ্রাম বিআরটিএ কার্যালয়ে কর্মরত কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন ব্যক্তির বিরুদ্ধে নামে-বেনামে অভিযোগ দিয়ে কতিপয় সাংবাদিকদের ব্যবহার করে অনৈতিক ফায়দা নিয়ে সড়ক পরিবহণে নৈরাজ্য সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে। বিআরটিএ কার্যালয়ে দালালী করতে না পেরে অপপ্রচার চালাচ্ছে-‘সিএনজি ফোর স্ট্রোক থ্রি হুইলার নীতিমালা’ লঙ্ঘন করে ১৩ হাজারের অধিক সিএনজি নিবন্ধন দেয়া হয়েছে। যা সম্পূর্ণ বানোয়াট, মিথ্যা ও ভুয়া। প্রকৃত তথ্য হচ্ছে- ১৩০০০ সিএনজির মধ্যে স্ক্র্যাপ করা হয়েছে ১২৮৪৮, নিবন্ধন নিয়েছে ১২৮৪৬টি। একইভাবে গাড়ি নিবন্ধন স্যাফটয়ার ভিত্তিক বা ডিজিটাল হওয়াতে এখানে অনুমোদনের বেশি সিএনজি নিবন্ধন দেয়ার কোন সুযোগ নেই।

২০০১ সাল থেকে চট্টগ্রম মহানগরীতে ১৩ হাজার, ঢাকা মহানগরীতে ১৩ হাজার মোট ২৬ হাজার সিএনজি অটোরিকশা নিবন্ধন দিয়েছিল বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ বিআরটিএ। এই সব সিএনজি অটোরিকশা নিবন্ধনের সময় মেয়াদ বা আয়ুষ্কাল নির্ধারণ করা হয়েছিল ৯ বছর। পরে মালিক ও চালকদের দাবির মুখে তিন দফায় অটোরিকশাগুলোর মেয়াদ বাড়িয়ে ১৫ বছর করা হয়। যে কারণে পরিবেশগত ক্ষতির প্রভাবমুক্ত হতে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে প্রতিস্থাপন করা হয়। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সভাপতি উজ্জ্বল বিশ্বাস জানান, নজরুল ইসলাম খোকন আমাদের সংগঠনের কেউ নন। সে মূলত অবৈধ সংগঠনের ব্যানারে সিএনজি অটোরিক্সা চোরাই সিন্ডিকেটের সক্রিয় সদস্য। আমাদের সংগঠনের সঙ্গে তার কোন সম্পর্ক নেই। খোকনের নানা অপকর্মের কারণে ২০১৬ সাল থেকে ওই সংগঠন ত্যাগ করেছি। সে চট্টগ্রাম বিআরটিএ ও ট্রাফিক পুলিশ থেকে অনৈতিক সুবিধা আদায় করতে না পেরে এখন অপপ্রচার চালাচ্ছে। অথচ সে যে সংগঠনের পরিচয় দিচ্ছে ওই
সংগঠনের নির্বাচন, বার্ষিক হিসাব দাখিল, সদস্য হলনাগাদ, গঠনতন্ত্র পরিপন্থি কর্মকান্ডের মাধ্যমে সংগঠনকে লিমিটেড কোম্পানি রূপান্তর করেছে। এসবের বিরুদ্ধে নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ শ্রম দপ্তরের পরিচালক বরাবরে অভিযোগ দেয়া হয়েছে।

এমনকি আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা বানোয়াট হয়রানিমূলক মামলা করেছে সে। এক কথায় তার অনৈতিক কর্মকান্ডের প্রশ্রয় না দিলেও অভিযোগ আর মামলা দেয়া তার একমাত্র পেশা ও নেশায় পরিণত হয়েছে।

চট্টগ্রাম বিভাগ বিআরটিএ’র পরিচালক শফিকুজ্জামান ভুঁঞা জানান, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কাউকে অপপ্রচার করতে সুযোগ দেয়া হবে না। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি করার চেষ্টা করলে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

Facebook Comments Box


এ জাতীয় আরও খবর
এক ক্লিকে বিভাগের খবর