1. admin@digonterbarta24.com : admin :
বৃহস্পতিবার, ২০ জানুয়ারী ২০২২, ১২:০০ পূর্বাহ্ন

হাতিয়ায় কোস্টগার্ডের বিরুদ্ধে নির্যাতন ও মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ

দিগন্তের বার্তা ২৪ ডেস্ক
  • সময় : শুক্রবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০২২
  • ১৪৩ বার পঠিত

ছায়েদ আহমেদ, হাতিয়া প্রতিনিধি : নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার জাহাজমারা ইউনিয়নের সিডিএসপি বাজার এলাকার কাউছার(৪৫) নামের এক নিরীহ ব্যক্তিকে নিজ বাড়ি থেকে রাতে তুলে নিয়ে নির্যাতন ও মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে ।

রাতে এরেস্ট ও পরে সাজানো মামলায় ফাঁসানোর এমন অভিযোগ কোস্টগার্ডের বিরুদ্ধে ঘটনার শুরু থেকে করে আসছে বলে পরিবার ও স্থানীয়রা জানায় । কাউছার(৪৫) জাহাজমারা ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের আবু তাহেরর ছেলে। সে ওমান প্রবাসী,গত সাত মাস আগে দেশে এসে বর্তমানে সে জেলে পেশায় জড়িত।

জানা যায় , গত সপ্তাহে কাউছারের সাথে শাহেদ নামের এক প্রতিবেশীর কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। প্রতিবেশী শাহেদ স্থানীয় মনির মেম্বারের ফিশিং বোটের মাঝি ওদিকে একই ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের বেলাল মাঝির আত্মীয়, এই বেলাল মাঝির সাথে কোস্টগার্ডের সখ্যতা রয়েছে। ফলতঃ এই শাহেদ,বেলাল মাঝি,মনির মেম্বার এবং বাবলুগং’দের উপর সন্দেহের তীর ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্থানীয়দের। তারা বলেন, এই চক্রান্তকারী ও ষড়যন্ত্রকারীরা কোস্ট গার্ডকে ব্যবহার করে অস্রহীন এই নিরীহ ব্যক্তিকে রাতে এরেস্ট করে পরদিন হাতিয়া থানায় সাজানো মামলা দায়ের করে। মামলায় উল্লেখ করে যে, কাউছার সুইজবাজার এলাকায় অস্র বিক্রি করার সময় কোস্ট গার্ডের হাতে ধরা পড়েন, যাহা সম্পূর্ণ মিথ্যা। স্থানীয়রা আরও জানায় যে, সিডিএসপি বাজার থেকে সুইজের বাজার সাড়ে তিন মাইল দূরে।

কাউছারের গ্রেফতার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসী ক্ষোভে ফেটে পড়ে এবং তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ঘটনায় সাজানো মামলা প্রত্যাহারের দাবি করে ।
ভুক্তভোগীর পরিবার জানায় :
কাওছারকে কোস্ট গার্ডের লোকেরা ঘর থেকে ধরে মারধর করে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। কাউছারের স্ত্রী রহিমা(৩৫) জানায়, তার স্বামী বোটের জন্য রসি কিনে আনে, রাত দশটার পর ঘরে এসে,রাতের খাওয়ার খেয়ে শুয়ে পড়েন। তার দশ মিনিট পর কোস্টগার্ডের লোকেরা দরজায় লাথিমেরে, ঘরে ঢুকে তার স্বামীকে বেদম প্রহার করে এবং তাদের ছোট্ট শিশুপুত্র রাহাত(৫) কে জিজ্ঞেস করে তোদের লাকড়ি ঘর কোথায়। পরে লাকড়ি ঘরে নিয়ে পুরাতন আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার দেখিয়ে তাকে নিয়ে যায়।
কাউছারের পিতা আবু তাহের কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, তার ছেলের প্রতি জুলম করা হয়েছে, তিনি এর সুষ্ঠু বিচার চান। কাউছারের স্ত্রী এবং মেয়ে লিপি (১০) জানান, কোস্ট গার্ডের নির্যাতন ও তাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ভীড় জমায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, কোস্ট গার্ডের সাথে আসা মুখোশধারী চার-পাঁচজন লোক কোস্ট গার্ডের সাথে সুরমিলিয়ে কথা বলে এবং তাদের সাথে থাকা একজন ভুক্তভোগীর ছোট্ট শিশুপুত্র রাহাতকে লাঠি দিয়ে আঘাত করে, এতে রাহাতের মাথার সামনের বাম অংশ পেটে যায়। এলাকাবাসী জানান, তাকে আমরা কখনো কোন ধরনের অসামাজিক ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করতে দেখিনি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, স্থানীয় সাইফুল্লাহ বেলাল, সাহরাজ,লিটন, নাছির,জহুর ইসলাম,মিলন সহ বহু মানুষ এই ঘটনাকে একটা গভীর চক্রান্ত ও ষঢ়যন্ত্র বলে উল্লেখ করেন। তারা বলেন, ইহা খুব হতাশাজনক, আমরাতো কেউ নিরাপদ নই, এরা কখন যে কার উপর এমন ষড়যন্ত্র করে বসে..!

জাহাজমারা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মাছুম বিল্লাহ জানান :এটা সম্পূর্ণ সাজানো এক ষড়যন্ত্র। তদন্তে আসা পুলিশি টীমের সামনে- কাউছারের বাড়িতে পাঁচ’শ ও সুইজের বাজার হাজার খানেক লোক এর প্রতিবাদ জানায়। তিনি বলেন, কোস্ট গার্ড জোর পূর্বক জব্দতালিকায় সাক্ষী হিসেবে যাদের নাম নেয় পরে তারা বৃহস্পতিবার(১৩ জানুয়ারি) তদন্তে আসা পুলিশি তদন্তটীমকে বলেন, আমরা এর কিচ্ছু জানিনা।

এ বিষয়ে স্থানীয় জন-অসন্তোষের কথা হাতিয়া দক্ষিণ জোন কোস্টগার্ড কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইফতেখারুল আলমকে জানালে তিনি বলেন, মানুষ বললে বলুক। আমরা তো অস্রপেয়েছি। হাতিয়া থানার তদন্ত ওসি, কাঞ্চন কান্তি বলেন, মামলা হয়েছে এবং আসামি চালান দেয়া হয়েছে আর বিষয়টির তদন্ত চলছে।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (১১ জানুয়ারি) রাতে কোস্ট গার্ড আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার দেখিয়ে কাউছারকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত © দিগন্তের বার্তা ২৪
Theme Customized BY Theme Park BD