1. admin@digonterbarta24.com : admin :
শনিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২১, ১০:০৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
নিরাপদ সড়ক উপহার দেয়া আমাদের সকলের দায়িত্বঃ উপ-পরিচালক জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস সিএমপি’র ট্রাফিক বিভাগের লিফলেট বিতরণ খামারপাড়া বিশ্বলতা জনকল্যাণ বৌদ্ধ বিহারে ৩২তম দানোত্তম কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠিত বেগম খালেদা জিয়া’র সুস্থতা কামনায় গাজীপুর মহানগর ছাত্রদলের উদ্যোগে দোয়া মাহফিল নলছিটিতে আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস পালিত ফ্রেন্ডশিপ’র উদ্যোগে প্যারাভেট প্রশিক্ষণের সনদ বিতরণ রাঙ্গামাটিতে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত ভুলতা জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে হাইওয়ে পুলিশ ফাড়ির নানা কর্মসূচি পালিত শ্রীমঙ্গলে নিরাপদ সড়কের দাবিতে বর্ণাঢ্য র‌্যালী শ্রীমঙ্গলে রামকৃষ্ণ সেবা আশ্রমে মৌন প্রতিবাদ

হাটহাজারী পৌরসভার বিদ্যুৎ বিভাগ চলে অষ্টম শ্রেণির লাইনম্যান দিয়ে

দিগন্তের বার্তা ২৪ ডেস্ক
  • সময় : মঙ্গলবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ৩৯ বার পঠিত

আব্দুল আউয়াল রোকনঃ দীর্ঘ ৯ বছর ধরে অষ্টম শ্রেণি পাশ বিদ্যুৎ লাইনম্যান মনোয়ারকে দিয়ে চলছে হাটহাজারী পৌরসভার বিদ্যুৎ বিভাগ।প্রতিটি পৌরসভায় বিদ্যুৎ বিভাগে ২ জন উপ সহকারী প্রকৌশলী থাকলেও হাটহাজারী পৌরসভায় কোন প্রকৌশলী নাই। আছে শুধুমাত্র একজন লাইনম্যান। শুধু একজন লাইনম্যানকে দিয়েই চলছে হাটহাজারী পৌরসভার বিদ্যুৎ বিভাগ। এতদিন ধরে কেন কোন প্রকৌশলী নিয়োগ দেয়া হচ্ছেনা এই প্রশ্ন সব পৌরবাসীর। লোকবল সংকটের কারণে পৌরবাসীর বিদ্যুৎ সেবায় ব্যাঘাত ঘটছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

হাটহাজারী পৌরসভার বিদ্যুতের লাইনম্যান মনোয়ারের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর অভিযোগের অন্ত নেই। বিগত ২০১৮ সালে ২৫ নভেম্বর পৌর প্রশাসকের নিকট একজন প্রকৌশলীসহ মনোয়ারের বিরুদ্ধে স্মারকলিপি দেওয়া হলেও বহাল তবিয়তে থেকে যায় মনোয়ার। তার বিরুদ্ধে জমা হওয়া অভিযোগের সাথে সাথে দিন দিন আরও দাপুটে হয়ে উঠছে মনোয়ার এমনটাই দাবী স্থানীয়দের।

পৌরসভার বিদ্যুৎ বিভাগের মোটর সাইকেল ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে মনোয়ারের বিরুদ্ধে। নিজ কর্মক্ষেত্র পৌরসভা হলেও তাকে অন্যান্য জায়গায়ও বিদ্যুতের কাজ করতে দেখা যায়। সবাইকে সে পৌরসভার কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দেয়। তার চাল-চলন দেখে কেউ বুঝতে পারবেনা তার শিক্ষাগত যোগ্যতা কী বা সে পৌরসভার কর্মকর্তা নাকি কর্মচারী।

একাধিক সুত্রে জানা যায়, পৌরসভার পশ্চিমে ফায়ার সেন্টারের সাথে লাগোয়া জমি কিনেছে মনোয়ার, সহকারী প্রকৌশলী এবং সাবেক পিআইও নিয়াজ মোরশেদসহ আরো কয়েকজনের সাথে মিলে এ জায়গা কিনেছেন বলে স্থানীয় অনেকেই অভিযোগ করেন। এই জায়গায় যাতায়াতের জন্য করেছেন মজবুত রাস্তা ও ব্রীজ। এদের সাথে মিলেই মূলত মনোয়ার গড়ে তুলেন অনিয়মের পাহাড়। পৌরসভা আর উপজেলা বলতে গেলে মনোয়ারদের হাতে জিম্মি। তাদের যৌথ মেলবন্ধনে গড়ে উঠেছে আধিপত্য আর অনিয়মের সিন্ডিকেট।

পৌরসভার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মচারী প্রতিবেদককে জানান, ১৬তম গ্রেডে অষ্টম শ্রেণি পাশ একজন বিদ্যুৎ লাইনম্যান ৯৩০০ মূল বেতন সহ সব মিলিয়ে ১৫ থেকে ১৬ হাজার টাকা বেতন পান প্রতি মাসে।কিন্তু মনোয়ার এই অল্প বেতন পেয়েও থাকেন বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে যার আনুমানিক ভাড়া ৯ হাজার টাকা। এরপর আনুষাঙ্গিক সব খরচ মিলে তার মাসিক ব্যয় দাঁড়ায় ২৫/৩০ হাজার টাকার ও বেশি। আমরাও তো একই গ্রেডে চাকরি করি কিন্তু এই দুর্মুল্যের বাজারে এই স্বল্প বেতনে সাধারনভাবে চলতেও আমাদের কষ্ট হয়।

হাটহাজারী পৌরসভা এলাকায় মনোয়ার সুপারভাইজার হিসেবে পরিচিত। তার দাপটে পৌরবাসীরা তটস্থ। মনোয়ারের কারণে পৌরসভার নাগরিকেরা ইমার্জেন্সি বিদ্যুৎ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন অনেক সেবা প্রার্থী।

মনোয়ার মোটরসাইকেল নিয়ে সারাদিন পৌরসভার এ প্রান্ত থেকে প্রান্ত দাঁপিয়ে বেড়ান। কর্মরত অন্যান্য কর্মচারীরা তাকে স্যার বলেও সম্বোধন করতে বাধ্য হন এমন অভিযোগ করেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মচারী।

পৌরসভার বিভিন্ন উন্নয়ন কাজের ঠিকাদার হিসেবে মনোয়ার মাঠে নানা প্রকল্পের সাইটে ব্যস্থ থাকেন বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ঠিকাদার ও ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন। সরকারি চাকরি করেও মনোয়ার কীভাবে ঠিকাদারী কাজ করেন এ প্রশ্ন অভিযোগকারীদের। দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে পৌরসভা এ নিয়ে জনমনে অনেক ক্ষোভ। এলাকাবাসী সরকারি কর্মচারিদের এসব অনিয়ম তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

পৌরসভায় কর্মরত একজন জানান, পৌরসভার সব কাজের বেশির ভাগ বিল মনোয়ারের নামে হয়। বিল কিংবা ক্যাশ বই দেখলেই দেখবেন প্রায় সব বিলে রয়েছে তার স্বাক্ষর। যদি মনোয়ার কে ম্যানেজ করা যায় তাহলে অন্যায় করলেও ছাড় পাওয়া যাবে। ধরতে গেলে মনোয়ারই এ পৌরসভার সব কিছু। গ্রামের বাড়ীতে তৈরী করেছেন দালানকোটাও। আমরা এটাও শুনেছি তার নাকি কক্সবাজারে জায়গা আছে।

পৌরসভার বাসিন্দা ও আওয়ামী লীগের নেতা উদয় সেন নিজের ফেসবুকে লিখেছেন “হাটহাজারীর মানুষকে বোকা বানিয়ে কিছু দালাল সৃষ্টি করেছে, তার মধ্যে পৌরসভার লাইনম্যান মনোয়ারের মাধ্যমে অনেক টাকার ধান্দাবাজি করেছে। তার একটি প্রমাণ হল আনোয়ার কোম্পানি থেকে মনোয়ার ৫ লাখ টাকা নেন ইউএনও রুহুল আমিনকে ম্যানেজ করতে। কাজ না করেই মনোয়ার সে টাকা আত্মসাৎ করে। সে ৫ লাখ টাকা থেকে আড়াই লাখ টাকা আনোয়ার কোম্পানিকে দিলেও বাকি টাকা সে এখনও দেয়নি”।

গোপন সূত্রে জানা যায়, পৌর এলাকার বিভিন্ন উৎস থেকে সদ্য বিদায়ী ইউএনও’র কথা বলে টাকা তোলেন এ মনোয়ার। এমনকি সদ্য বিদায়ী ইউএনও’কে ম্যানেজ করতো মনোয়ার আর বাসায় পরিবারকে ম্যানেজ করতো মনোয়ারের স্ত্রী। এ সুযোগে মনোয়ার হয়ে উঠে সবার কাছে স্যার।

পৌর সহায়ক কমিটির কয়েকজন সদস্য জানান, আমরা নামমাত্র সদস্য। কারণ বিভিন্ন অনিয়ম আর দূর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলি তার জন্য আমাদের কে তেমন ডাকেন না এবং ডাকলেও যাই না। পৌরসভার শুরুতে সহকারী প্রকৌশলী বেলাল আর মনোয়ারসহ যারা চাকরিতে যোগদান করেছেন অদ্যবধি পর্যন্ত তারা কর্মরত রয়েছেন। তো তারা দূর্নীতি না করে কে করবে। শুধু তা নয় হাটহাজারীতে কোন সরকারী কর্মকর্তা আর কর্মচারী আসলে সহজে যেতে চান না। কারণ এখানে অনিয়ম আর দূর্নীতি করা খুবই সহজ।

পৌরসভার বিদ্যুৎ লাইনম্যান মনোয়ার হোসেন এর কাছে জানতে চাইলে এ প্রতিবেদককে জানান, এখানে আসলে কেবলমাত্র সিভিল বিভাগে প্রকৌশলী আছেন। বিদ্যুৎ বিভাগে কোন প্রকৌশলী নেই। শুধু আমি একজন লাইনম্যান আছি এবং মাস্টার রুলে ৩ জন হেল্পার আছেন। আমার ব্যাপারে কে কি বলে তা বলতে পারবনা। এ বিষয়ে পৌর কর্তৃপক্ষই ভাল জানেন। তবে আমি সুপারভাইজার হিসেবে কাজ করি।

পৌর সচিব বিপ্লব চন্দ্র মুহরী বলেন, জনবল সংকট থাকায় মনোয়ার হোসেন সুপারভাইজার হিসেবে কাজ করে। এখন পর্যন্ত পৌরসভার বিদ্যুৎ বিভাগে কোন প্রকৌশলী নিয়োগ দেয়া হয়নি। তবে একজন বিদ্যুৎ লাইনম্যান আছে। এছাড়াও মাস্টার রুলে ৩ জনকে নেওয়া হয়েছে। এর বাইরে মনোয়ার কি করে তা আমার জানা নেই।

এ বিষয়ে জানতে পৌর প্রশাসক মো: শাহীদুল আলমের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত © দিগন্তের বার্তা ২৪
Theme Customized BY Theme Park BD