1. admin@digonterbarta24.com : admin :
সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৪:৩৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
নগরীতে চোলাইমদ সহ গ্রেফতার ১ মেজর সিনহা হত্যা মামলার তৃতীয় দফায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু প্রধানমন্ত্রীর আপত্তিকর ছবি ফেসবুকে পোস্ট করায় আকতারের ৭ বছরের কারাদণ্ড যে কোনো সময় খালেদার মুক্তি বাতিল করতে পারে সরকার ফেনীর সোনাগাজীতে আ’লীগের মেয়র প্রার্থীর সমর্থকসহ ১৪ জন আটক রাশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে এলোপাতাড়ি গুলি, ৫ জন নিহত জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী মানবাধিকার ফাউন্ডেশন থেকে প্রত্যয়ন পত্র তুলে দেন সভাপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী ডেমরা প্রেস ক্লাব স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক গাড়িচালক মালেক কে ৩০ বছর কারাদণ্ড কক্সবাজারের মহেশখালী ও কুতুবদিয়ায় নির্বাচনী সহিংসতায় নিহত ২

সিলভী চৌধুরী’র উদ্যোক্তা হওয়ার গল্প

দিগন্তের বার্তা ২৪ ডেস্ক
  • সময় : শুক্রবার, ২৭ আগস্ট, ২০২১
  • ৪৩৭ বার পঠিত

দিগন্তেরবার্তা২৪,ডেস্কঃচট্টগ্রামের মেয়ে “সিলভী চৌধুরী”।যিনি একজন সফল উদ্যোক্তা, সফল ব্যবসায়ী। তিনি ২০১৯ সাল থেকে চালিয়ে যান জীবন সংগ্রামের একটি অংশ অনলাইন ব্যবসা।তবে থেমে থাকেননি তিনি। দুর্গম পথ এবং ব্যার্থতার গ্লানি উপেক্ষা করে আজ সাফল্যর দ্বারপ্রান্তে”সিলভী চৌধুরী“।হাটি হাটি পা পা করে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে সাথে নিয়ে তিনি হয়ে উঠেন চট্টগ্রামের সফল নারী উদ্যোক্তা।

”উদ্যোক্তা হওয়ার গল্প নিয়ে টেকজুমের এবারের আয়োজন।চট্টগ্রামের মেয়ে “সিলভী চৌধুরী” এর উদ্যোক্তা হয়ে ওঠা নিয়ে বিস্তারিত জানাচ্ছেন দিগন্তের বার্তা ২৪ এর স্টাফ রিপোর্টার। পাঠকদের উদ্দেশ্যে সাক্ষাৎকারটি তুলে ধরা হলো-

আপনার সম্পর্কে বলুন?
আমি সিলভী চৌধুরী। নোয়াখালীর মেয়ে হলেও চট্টগ্রামে স্থায়ী বাসিন্দা। পড়ালেখা চট্টগ্রামে। মনোবিজ্ঞান বিভাগে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর করা। বৈবাহিক দিক দিয়ে আমি বিবাহিত। স্বামী ও একটি সন্তান নিয়ে আমার ছোট পরিবার।

ব্যবসার শুরুর গল্পটা শুনতে চাই?
হঠাৎ করে আমার ব্যবসা তে আসা। আমার পত্রিক পরিবার এর দিক দিয়ে সবাই চেয়েছেন আমি তাদের মতই চাকরিজীবী হই। কিন্তু স্বামীর উৎসাহে আর আমার ইচ্ছায় আমি ব্যবসা করতে ইচ্ছুক হই ‌। আমার স্বামী একজন ব্যবসায়ী। তাই তার কাছ থেকে উৎসাহিত হয়ে আমি ব্যবসা করার চিন্তা করি।

কি কি নিয়ে পণ্য কাজ করছেন ?

আমি প্রথমে একজন ইন্টেরিয়র ডিজাইনার প্রায় আট বছর যাবত এ পেশায় নিয়োজিত ছিলাম। নিজের একটি প্রতিষ্ঠান আছে আর্টিস্টিক নামে। সাথে একজন আমদানিকারক। যার দ্বারা আমি জাপান থেকে অতি মূল্যবান যন্ত্রাংশ এবং গাড়ি আমদানি করে। প্রতিষ্ঠানের নাম নুসরাত কর্পোরেশন।গত দু’বছর ধরে আমি নিজেকে আরেকটি নতুন রুপে সবার মাঝে উপস্থাপন করেছি। তা হল আমি একজন মেকআপ আর্টিস্ট। মেকআপ করতে ভালো লাগে তা থেকেই এটাকে পেশা হিসেবে নেওয়া। মানুষকে সাজাতে রঙিন করতে কার না ভালো লাগে তাই সুন্দরভাবে সাজিয়ে তোলার জন্য আমি মেকআপ এর উপরে নয় দশ টা সার্টিফিকেট অর্জন করেছি। তারা হচ্ছেন বাংলাদেশ অনেক পরিচিত এবং নামকরা ট্রেইনার। যাদের প্রশিক্ষণ নিয়ে আমি নিজেকে অনেক পরিপূর্ণ যোগ্যতায় প্রস্তুত করেছি।পেইজ Glowing Face by Silvee বড় পোল হালিশহর চট্টগ্রাম এ অবস্থিত। যাদের সার্ভিস এর প্রয়োজন হয় ফোনে বা পেইজের ইনবক্সে কনফার্ম করেন।

কোন ধরনের চিন্তা ভাবনা থেকে এমন পণ্য নিয়ে কাজ করার পরিকল্পনা ছিল?
আসলে কোন চিন্তাভাবনা থেকে না হঠাৎ করে এই ব্যবসা করা। শুরু করার পরে কিছু পরিকল্পনা তো অবশ্যই করতে হয়েছে। আমার তিনটা ব্যবসা তিন রকমের। একটির সাথে অন্যটির কোনই মিল নেই। ইচ্ছা আছে মানুষকে ভাল কিছু দেওয়ার। তাই আমার তিনটি ব্যবসায়ী সেবামূলক ব্যবসা। একটা ছেলে যদি এতগুলো কাজ করতে পারে তাহলে মেয়েরা কেন পারবে না। সৎ পরিশ্রমী চরিত্রবান সাহস থাকলে অবশ্যই যেকোনো পরিকল্পনা বাস্তব করা যায়।

উদ্যোক্তা জীবনে সফল হতে কাদের ভূমিকা বেশি ছিল?

উদ্যোক্তা জীবনে সফল হতে যাদের ভূমিকা বেশি যদি বলি সবার প্রথমে বলব আমার স্বামীর। তার উৎসাহে আমার এতটুকু পথ চলা।১১ বছর বিয়ে হবার পরে অনেক মেয়েদের আর কিছুই করার থাকেনা। কিন্তু আমি পড়ালেখা করেছি । সাথে নতুন নতুন ব্যবসা দাঁড় করিয়েছে। ফ্যামিলিকে সামলিয়েছি। কিন্তু যত ঝড় ঝাপটা আসুক উনি আমার পাশে ছিলেন। আর যারা জীবনে সফল হয়েছেন তাদের জীবনী তাদের চিন্তা ধারা আমাকে কাজ করার আগ্রহ বাড়িয়ে দিয়েছে। বিবাহিত জীবনে পরিবারের সাহায্য ছাড়া কোনভাবে কোন মেয়ে কাজ করতে পারেনা। যা আমি করে দেখিয়েছি। আর আমার আশেপাশের বন্ধু-বান্ধব বড় বোন ছোট বোন সবারই ভালোবাসা ও অনুপ্রেরণা আমাকে এতটুকু নিয়ে এসেছে। যার জন্য খোদার কাছে আমি অশেষ কৃতজ্ঞ।

আপনার উদ্যোগের সাফল্যের কথা জানতে চাই?
আমি একজন সরল-সহজ মনের মানুষ। আমাকে কাজের থেকেও মানুষ আপন করে নেয় আগে। আমি যাদের সাথে কাজ করেছি আমার ইন্টেরিয়র লাইফে তারা এখনো আমাকে উৎসাহিত করে আবার কাজে ফিরে এসো। এটা আমার বড় পাওয়া ।একটি ছোট দুর্ঘটনার কারণে আমি আমার ইন্টেরিয়র বিজনেসটা অফ রেখেছি কিছুদিন যাবত। কিন্তু তারা আমাকে এখনো মনে করে এখনো ভালোবাসে।আর গত দু’বছর যাবৎ আমি মেকআপ আর্টিস্ট হিসেবে চট্টগ্রামে মোটামুটি পরিচিত হয়েছি। চট্টগ্রামে অনেক বড় বড় গার্লস গ্রুপ আছে যারা তাদের অনুষ্ঠানে আমাকে যেতে আমন্ত্রণ করে। এটা আমার কাছে অনেক বড় পাওয়া। এবং আমাকে যখন বলে আপু তোমার কাজ আমাদের অনেক ভালো লাগে এবং সুন্দর হয় তখন নিজের কাছে খুব গর্ববোধ হয়। কিছুদিন আগেও চট্টগ্রামের সবচেয়ে বড় গার্লস গ্রুপ গার্লস প্রায়োরিটি নারী দিবস পালন করেছে সেখানে আমি আমার হাতের সাজানো কিছু মডেল এর কেটওয়ার্ক  উপস্থাপন করেছি। যা খুব সাড়া পেয়েছি।

ব্যবসা নিয়ে আপনার পরিকল্পনা কি?
আমার এখন বাসায় একটি ছোট হোম স্টুডিও আছে মেকাপের। আশা করি সবার ভালোবাসা সাপোর্ট পেলে আমি এই স্টুডিও টাকে আরো বড় করতে চাই।

বিগত ঈদে এবং লকডাউনে ব্যবসা কেমন ছিলো?
বিগত ঈদ এবং লকডাউন ব্যবসা খুব ভাল ছিল এটা বলা দায়,আসলে করোনা পৃথিবীর সব কিছুই বদলে দিয়েছে, মানুষের জীবনধারণ পুরোটাই ওলট পালট বললেই চলে। এ সময় ব্যবসা ভালো হবে এটা চিন্তা করা থেকে বেঁচে থাকাটা অনেক মূল্যবান ছিল আমাদের জন্য। আমি ও আমার পরিবার নিয়ে করোণা আক্রান্ত ছিলাম। আল্লাহর রহমতে সবাই ভালো আছি। লকডাউন এর কারণে সবকিছু বন্ধ হয়েছিল। সেই হিসেবে কারোই কোন ব্যবসা হয়নি। লস এর খাতায় নাম লিখতে হয়েছে বেশি।

উদ্যোক্তা জীবনের শুরু কতদিন ধরে এবং রেভিনিউ কেমন?
অন্যান্য বিজনেস গুলো আমার পুরনো বিজনেস। ওগুলোর রেভিনিউ আলহামদুলিল্লাহ ভালো এবং পরিচিতি ও ভালো। কিন্তু আমার মেক-আপ আর্টিস্টের পরিচিতি একটু কম। কারণ আমি যখন কাজ শুরু করি তারপর পরে করোনার উপদ্রব বেড়ে যায়। তারপর লকডাউন। আলহামদুলিল্লাহ আল্লার রহমতে আমি আমার দু’বছরের ইনকাম দিয়ে দুটো বড় বড় কোর্স করেছি।

পরিশেষে স্রোতাদের উদ্দ্যেশে কিছু বলুন?
স্রোতা বলতে কেউ নেই, আমরা সবাই বলতেই বেশি পছন্দ করি। কিন্তু একান্তই যারা আমার কথা শুনতে চায় আমি তাদের জন্য বলতে পারি। আমরা কেউ সমাজে পরিচিত না, সময় করে নিজেকে পরিচিত করে তুলতে হবে আমাদের প্রত্যেককে। আমার মত একটা ইন্টারভিউর জন্য হলেও, অবথা নিজের কথাগুলো সাবলিল ভাবে বলার জন্য হলেও। সব থেকে বড় বিষয় হচ্ছে কাজের বিকল্প নেই, আমরা যে যা পারি তা দিয়েই শুরু করা উচিত। বলা যায় না কখন সফলতা দরজায় চলে আসে, আর কখন নিউজ রিপোর্টার, তাই কাজ করে যাওয়াই আসল উদ্দেশ্য হোক। প্রত্যেকে একজন উদ্যোক্তা, একজন ব্যবসায়ী হয়ে উঠুক। নিজের পরিচয়ে বাঁচার থেকে আর কিছুতে এত গর্ব নেই।কোভিড ১৯ সে সবাই বাসায় থাকার চেষ্টা করবেন, প্রয়জনে মাস্ক পরে বাইরে বের হবেন, আমার জন্য দোয়া করবেন।ধন্যবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত © দিগন্তের বার্তা ২৪
Theme Customized BY Theme Park BD