1. admin@digonterbarta24.com : admin :
শনিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২২, ১১:৫৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
সাবেক চেয়ারম্যান কামালউদ্দীনের বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ অপর্যাপ্ত চিকিৎসক , উদাসীনতা এবং নানা সমস্যায় জর্জরিত হাতিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বাজার ব্যবসায়ীদের সাথে মতবিনিময় করলেন সেনবাগ পৌর মেয়র জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সব পরীক্ষা স্থগিত দেওয়ানগঞ্জে পৌর সভার উদ্যোগে অসহায় শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ রাত জেগে বজ্য অপসারণ করালেন সেনবাগ পৌর মেয়র ভিপি দুলাল স্বপ্নের আলো ফাউন্ডেশন (এসএএফ)’র শীতবস্ত্র বিতরণ ঝালকাঠিতে মাদক মামলায় ১জনের ৫ বছরের সশ্রম কারাদন্ড নিজাম উদ্দিন পুনরায় সিপিআই নির্বাচিত এসএসসি ২০০২ এবং এইচএসসি ২০০৪ বাংলাদেশ গ্রুপের শীতবস্ত্র বিতরণ-ওয়ার্ম লাভ

সাভারের সফল নারী উদ্যোক্তা “ময়না ইসলাম”

দিগন্তের বার্তা ২৪ ডেস্ক
  • সময় : বৃহস্পতিবার, ২৬ আগস্ট, ২০২১
  • ১২৫০ বার পঠিত

দিগন্তেরবার্তা২৪,ডেস্কঃ চাঁদপুরের মেয়ে “ময়না ইসলাম“।যিনি একজন সফল উদ্যোক্তা, সফল ব্যবসায়ী। তিনি ২০১৯ সাল থেকে চালিয়ে যান জীবন সংগ্রামের একটি অংশ অনলাইন ব্যবসা।তবে থেমে থাকেননি তিনি। দুর্গম পথ এবং ব্যার্থতার গ্লানি উপেক্ষা করে আজ সাফল্যর দ্বারপ্রান্তে”ময়না ইসলাম“।হাটি হাটি পা পা করে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে সাথে নিয়ে তিনি হয়ে উঠেন সাভারের সফল নারী উদ্যোক্তা।

”উদ্যোক্তা হওয়ার গল্প নিয়ে টেকজুমের এবারের আয়োজন।চাঁদপুরের মেয়ে “ময়না ইসলাম” এর উদ্যোক্তা হয়ে ওঠা নিয়ে বিস্তারিত জানাচ্ছেন দিগন্তের বার্তা ২৪ এর স্টাফ রিপোর্টার। পাঠকদের উদ্দেশ্যে সাক্ষাৎকারটি তুলে ধরা হলো-

আপনার সম্পর্কে বলুন?
আসসালামু আলাইকুম, আমি ময়না ইসলাম
একজন উদ্দোক্তা, মেকাপ আর্টিস্ট এবং যা না বললেই নয় তা হলো আমি একজন মা। আমি সাভারের বাসিন্দা কিন্তু আমার বেড়ে উঠা, লেখাপড়া সব আমার জন্মস্থান চাঁদপুরে। আমি চাঁদপুরের মেয়ে বলতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ বোধ করি। তবে যেহেতু আমি সাভারে থাকি তাই আমার ব্যবসার কেন্দ্র হচ্ছে সাভার।

ব্যবসার শুরুর গল্পটা শুনতে চাই?
ব্যবসা শুরু করার পিছনে বিশেষ কোন কারন ছিল না, এক ধরণের ফ্যাশন কাজ করত, ছোট বেলা থেকেই খুব ইচ্ছা ছিল নিজে কিছু করি তাই একদম হুট করেই শুরু করেছি বললেই চলে। এসএসসি পরীক্ষার পর থেকেই নিজে কিছু একটা করব ভাবতাম, সব সময় মনে হত নিজের পায়ে দাঁড়ানোটা খুব দরকার, অন্তত নিজের পরিচয়ে পরিচিত হওয়ার জন্য, সেখান থেকেই শুরু; টিউশনি, প্রাইভেট স্কুলে শিক্ষকতা দিয়েই কাজের শুরু, তবে বর্তমানে আমি একজন উদ্যোক্তা এবং অনলাইন ব্যবসায়ী পরিচয় দিয়ে খুব গর্বিত। কারণ এটা আমার আলাদা পরিচয় বহন করছে।

কি কি নিয়ে পণ্য কাজ করছেন ?
অনলাইনে আমার দুইটি পেইজ আছে। একটি “Fashion Revolution” অন্যটি “Makeup With Moyna

একটু বিস্তারিত বলি, “Fashion Revolution” পেইজ মূলত কসমেটিকস এবং মেয়েদের একান্ত নিত্য প্রয়োজনীয় স্কিন এবং হেয়ার কেয়ার প্রোডাক্ট পাওয়া যায়। আমাদের দেশে এখনো আবহাওয়ার উপর ভিত্তি করে সঠিক মানের স্কিন কেয়ার বা হেয়ার কেয়ার প্রোডাক্ট পাওয়া যায় না, যার ফলে আমরা যা পাচ্ছি তাই দিয়ে নিজেদের সাজিয়ে ফেলছি ফলে আমাদের স্কিনে ব্রণ, রেসেস থেকে বিভিন্ন সমস্যার দেখা মিলছে, আর একটা সময় গিয়ে তা কেন্সারে রূপ নেয়। আমি যেহেতু মফস্বলে বড় হয়েছি তাই আমি এ সমস্যার সম্মুখীন হয়েছি। সেই থেকেই মনে হলো নিজে ভাল কিছু ব্যবহার করি আর অন্যদের সুযোগ করে দেই। যেই ভাবনা সেই কাজ।

এবং আমার দ্বিতীয় পেইজটি একটু ভিন্ন, “Makeup With Moyna” আপনি প্রশ্ন করতে পারেন মেকাপ উইথ ময়নার সাথে আমার উদ্দোক্তা জীবনের সম্পর্ক কি? এই পেইজটি খোলার উদ্দেশ্য ছিল উদ্দোক্তা তৈরি করা, আমি একজন সার্টিফাইড মেকাপ আর্টিস্ট, ব্যবসা আর ছোট বাচ্চা থাকায় সেভাবে কোন সেলন বা পার্লার করা হয়নি তবে ভবিষ্যতে ইচ্ছে আছে।আমাদের দেশে এখনো অনেক মেয়ে আছে যারা সুযোগের অভাবে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করতে পারে না, তাই আমার দ্বারা আমি তাদের সুযোগ করে দিতে চাচ্ছি। আমার ইচ্ছে খুবই অল্প কিছু প্যামেন্ট নিয়ে তাদের মেকাপের স্কিল শেখানো, স্কিল ডেবলপ করা। একেবারেই ফ্রি শিখাতে চাচ্ছিনা না কারন ফ্রি জিনিসের মূল্য থাকে না। যদিও শারীরিক অসুস্থতার জন্য এই কাজটি এখনো শুরু করতে পারিনি, তবে ইনশাআল্লাহ খুব শীগ্রই শুরু করবো।

কোন ধরনের চিন্তা ভাবনা থেকে এমন পণ্য নিয়ে কাজ করার পরিকল্পনা ছিল?
ক্রেতাদের কাছে ভাল কিছু পৌঁছে দেওয়াই মূল লক্ষ্য। তবে আমার সব প্রোডাক্ট বাজেট ফ্রেন্ডলি। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে, আমার মূল টার্গেট স্টুডেন্ট। যারা বাসা থেকে টিফিন বা যাতায়াত ভাড়া থেকে টাকা জমিয়ে আমাদের কাছে একটা পণ্য কিনতে আসে, আর আমরা যদি তা চড়া দামে বিক্রি করি তাহলে তারা যাবে কোথায়, একসময় আমিও স্কুল, কলেজের  স্টুডেন্ট ছিলাম তাই তাদের সমস্যাটা বুঝি।

উদ্যোক্তা জীবনে সফল হতে কাদের ভূমিকা বেশি ছিল?
উদ্যোক্তা জীবনে সফলতার পিছনে আমি যাকে সব থেকে বেশি কাছে পেয়েছি তিনি আমার হাজবেন্ড। তিনি ছাড়া সংসার জীবনে যেমন আমি কেউ না কিছু না, ঠিক তেমনি উদ্যোক্তা হিসেবে সফল হতে তার ভূমিকা আমি বলে শেষ করতে পারব না, এক কথায় সে আমার দেখা অসাধারণ একজন মানুষ, তিনি না থাকলে উদ্দোক্তা হওয়া বা ব্যবসায়ী হয়ে উঠার চিন্তা আমি করতে পারতাম না, আরো একজন হচ্ছেন আমার মা। প্রত্যেকজন মা তার সন্তানের শুভাকাঙ্ক্ষী কিন্তু আমি আমার মাকে বিশেষ ভাবে চিন্তা করি। কারণ এমন অনেক সময় ছিল যখন তিনি নিজে আমাকে মনে করিয়ে দিয়েছেন পার্সেল রেডি করে নিও। সামনে থেকে না বলতে পারলে, তাদের ধন্যবাদ দিয়ে, কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে আমি শেষ করতে পারব না। আল্লাহ্ আমার এমন সব শুভাকাঙ্ক্ষীদের নেক হায়াত দান করুক।

আপনার উদ্যোগের সাফল্যের কথা জানতে চাই?
আমার উদ্যোগের সফলতা তখনই আসে যখন আমি কোন পজেটিভ রিভিও পাই। আর একজন সেলারের কাছে একটা রিভিউ মানেই হীরে,চুনি, পান্নার থেকেও দামী কিছু। আমার কাস্টমারদের এজন্য ধন্যবাদ জানাই। তার থেকে বড় কথা সফলতা পেতে আর ধরে রাখতে কাজের বিকল্প নেই।

ব্যবসা নিয়ে আপনার পরিকল্পনা কি?
ব্যবসা নিয়ে আমার অনেক স্বপ্ন, অনেক পরিকল্পনা আছে। আমি অনলাইন থেকে অফলাইনে এবং দেশের প্রতিটি কোনায় পৌঁছে যেতে চাই একদিন। একদিন আমি অনেক বড় হতে চাই, আমার মত আরো হাজারো মেয়ের কর্মসংস্থান গড়তে চাই।

বিগত ঈদে এবং লকডাউনে ব্যবসা কেমন ছিলো?
বিগত ঈদ এবং লকডাউন ব্যবসা খুব ভাল ছিল এটা বলা দায়, করোনা পরিস্থিতির কারণে আমাদের অনেক শিপমেন্ট আটকে ছিল যার জন্য হাতে পণ্য ছিল না বললেই চলে তাই সময়টা খারাপ গিয়েছে। কিন্তু এই খারাপ সময় থেকেও অনেক কিছু শিখেছি। আশা করি ভবিষ্যতে তা কাজে লাগবে।

উদ্যোক্তা জীবনের শুরু কতদিন ধরে এবং রেভিনিউ কেমন?
উদ্যোক্তা জীবনের শুরু দেড় বছর হবে বড় জোর কিন্তু এরই মাঝে ১০ হাজার নারীর সংস্পর্শে এসেছি,তাদের কাছে পরিচিত হয়েছি, কথা বলেছি, তাদের বুঝেছি, সময় দিয়েছি, কারো কারো সমস্যার সমাধান করেছি। আর দিন শেষে সুন্দর রিভিউ উপহার পেয়েছি। এর থেকে বড় পাওয়া আর কি আছে।১০ হাজার বোনের বিশ্বাসের জায়গায় স্থান পেয়েছি। একজন রিয়েল সেলার এর থেকে বেশি কিছু চাইতে পারে না হয়ত।

পরিশেষে স্রোতাদের উদ্দ্যেশে কিছু বলুন?
স্রোতা বলতে কেউ নেই, আমরা সবাই বলতেই বেশি পছন্দ করি। কিন্তু একান্তই যারা আমার কথা শুনতে চায় আমি তাদের জন্য বলতে পারি। আমরা কেউ সমাজে পরিচিত না, সময় করে নিজেকে পরিচিত করে তুলতে হবে আমাদের প্রত্যেককে। আমার মত একটা ইন্টারভিউর জন্য হলেও, অবথা নিজের কথাগুলো সাবলিল ভাবে বলার জন্য হলেও। সব থেকে বড় বিষয় হচ্ছে কাজের বিকল্প নেই, আমরা যে যা পারি তা দিয়েই শুরু করা উচিত। বলা যায় না কখন সফলতা দরজায় চলে আসে, আর কখন নিউজ রিপোর্টার, তাই কাজ করে যাওয়াই আসল উদ্দেশ্য হোক। প্রত্যেকে একজন উদ্যোক্তা, একজন ব্যবসায়ী হয়ে উঠুক। নিজের পরিচয়ে বাঁচার থেকে আর কিছুতে এত গর্ব নেই।কোভিড ১৯ সে সবাই বাসায় থাকার চেষ্টা করবেন, প্রয়জনে মাস্ক পরে বাইরে বের হবেন, আমার জন্য দোয়া করবেন।ধন্যবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত © দিগন্তের বার্তা ২৪
Theme Customized BY Theme Park BD