1. admin@digonterbarta24.com : admin :
মঙ্গলবার, ৩০ নভেম্বর ২০২১, ১১:১৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
মিরসরাইয়ে শিল্প নগর পরিদর্শনে সৌদি আরবের মন্ত্রীর সেনবাগে জিতেনি নৌকার কোন প্রার্থী চট্টগ্রামের সংবাদপত্র-শিল্পসাহিত্য ও সংস্কৃতির মহীরুহ বটবৃক্ষ এম এ মালেকঃ শুকলাল দাশ স্থানীয় লক্ষ্যভিত্তিক গুচ্ছগ্রাম বাস্তবায়নে ভূমি মন্ত্রণালয় চট্টগ্রামে জেনারেল হাসপাতালে নন কোভিড ইউনিটে আইসিইউ বেড উদ্বোধন দর্শনা থানা পুলিশের অভিযানে মাদকদ্রব্য সহ ২ (দুই) কেজি গাঁজা উদ্ধার কেশবপুরে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশি ২২ জনের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ঝালকাঠিতে ১০০ টাকায় ১৪ তরুণ-তরুণীর পুলিশে চাকরী আন্তঃবাহিনী কাবাডি প্রতিযোগিতা-২০২১ শুরু বিএমপি কমিশনারের সাথে টেলিভিশন চিত্র সাংবাদিক এসোসিয়েশনের সৌজন্য সাক্ষাৎ

হাতিয়ায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভূমি দখলের অভিযোগ

দিগন্তের বার্তা ২৪ ডেস্ক
  • সময় : শুক্রবার, ৬ আগস্ট, ২০২১
  • ১৪৬ বার পঠিত

ছায়েদ আহমেদ,হাতিয়া প্রতিনিধিঃ শুধু বিঘে দুই ছিল মোর ভুঁই, আর সবই গেছে ঋণে।
বাবু বলিলেন,”বুঝেছ উপেন? এই জমি লইব কিনে।” হাতিয়ার মাহমুদুল হক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমি না কিনে কীভাবে জোর জবরদস্তি করে করায়ত্ত করা যায় ভূমি লোভী বাবুরা সে শক্তি-ই রপ্ত করে চলেছে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমি দখলের এমনই এক চিত্রের মিল পাওয়া যায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দুই বিঘা জমিতে,অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়ের প্রয়াত সভাপতির ছেলেদের বিরুদ্ধে।

পশ্চিম সোনাদিয়া চৌরাস্তা মাহমুদুল হক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জায়গা নিয়ে দীর্ঘদিনের এমন জটিলতার খবর পেয়ে বিবিসি নিউজ২৪ সরজমিনে অনুসন্ধানে যায়, মঙ্গলবার ( ৩ আগস্ট)।

বিদ্যালয়ের রেকর্ড পত্র যাচাই করে দেখা যায় আলমগীর হোসেন পিতা মাহমুদুল হক ১৯৯১ খ্রি. বিদ্যালয়ের নামে ৫০ শতক জমি দান করে ১৯৮৭ সালে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে। ১৯৯৪ খ্রি. রেজিস্ট্রি হয়ে ২০১৩ খ্রি. জাতীয়করণ করা হয়। ২০০৪ খ্রি. প্রধান শিক্ষক শাহেদা আক্তার দায়িত্বে থাকা কালীন বিদ্যালয় ভূমি সংক্রান্তে একটি গাফিলতি ধরা পড়ে। ৫০ শতক ভূমির মধ্যে বিদ্যালয় অবস্থিত ১২ শতক জায়গায়। যাহার- দিয়ারা খতিয়ান নং ৪৭২ দাগ নং ১১৬৮ আরএস খতিয়ান নং ৩ দাগ নং ১৪৫৯ আর বাকি ৩৮ শতক ভূমি চৌরাস্তা বাজারের দক্ষিণ পাশে। যাহার দিয়ারা খতিয়ান নং ২৯৪ দাগ নং ২৭১১/২৭১২ উক্ত দুই দাগের ভুয় খতিয়ান সৃজন করে দান করে উক্ত বিষয়ে দাতা ও তৎকালীন কর্তৃপক্ষকে ভুল স্বীকার করে- সম্পূর্ণ জমি বিদ্যালয় অবস্থিত জায়গা রাস্তা পর্যন্ত, যাহা সরকারি জেলা পরিষদের জায়গা ১১৬৭ দাগ ও উন্নয়ন মালিকীয় ১৪৬০ হয়। পরবর্তী ২০.৬.২০০৬ খ্রি. অঙ্গীকার নামার মাধ্যমে দাতা আলমগীর হোসেন দখল বুঝিয়ে পাশে ভবন নির্মাণ করান।

বর্তমান প্রধান শিক্ষক মোঃ হেদায়েতুল্যাহ বিদ্যালয় ভূমি সঠিক নিয়মে কবলা সংশোধনের জন্য বললে- দাতা আলমগীর হোসেন হজ্ব থেকে আসার পর কবলা দিবে বলেন এবং স্থানীয় আলাউদ্দিন নামের জনৈক ব্যক্তির মোকাবিলায় দাতার অবর্তমানে তার ছেলে রিয়াজ উদ্দিন উক্ত সমস্যার সমাধান করবে বলে আশ্বাস দেন। ২০১৯ খ্রি. দাতা আলমগীর হোসেন মৃত্যুবরণ করলে তার ছেলে রিয়াজ উদ্দিন কবলা দানের জন্য পুনঃ সময় চান। এরই মধ্যে দাতার আরেক ছেলে আব্দুর রহিম ২০.৩.২০২০ খ্রি. বিদ্যালয় ভবনের পশ্চিম পাশে রাস্তার ধারে মাঠের উপর জোর খাটিয়ে দোকানঘর স্থাপনের উদ্দেশ্যে ১৪৫৯ দাগে ভিটি নির্মাণ করেন। ২০১৭খ্রি. সহকারী শিক্ষক মোসলে মাহমুদ দায়িত্বে থাকাকালে দাতার ছেলে রিয়াজ ও আবদুর রহিম গং’রা কিছু সন্ত্রাসী নিয়ে বিদ্যালয় মাঠ ও রাস্তার পাশে উত্তর-দক্ষিণে ১৩৫ফুট× ২০ জায়গায় ১২ টি দোকানঘর করে ফেলে।

প্রধান শিক্ষক এ বিষয়ে ১১.৩. ২০২০ খ্রি. শিক্ষা অফিসারের মাধ্যমে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেজাউল করিমকে অবহিত করলে তিনি ৩৩১/২০ স্মারকে দাতার ওয়ারিশগণের উপর নোটিশ করেন। সহকারি কমিশনার (ভূমি)-র নিকট আবেদন করলে তিনি ৮নং সোনাদিয়া ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব দেন। স্মারক নং – ইউভূঅ/সোনাদিয়া /হাতিয়া/২০২০- ৪২ তদন্ত প্রতিবেদনে দাতার প্রতারণাসহ সকল চিত্র উঠে আসে। ওয়ারিশগণ এই প্রতিবেদন আমলে না নিয়ে পরে আরোও সমস্যা সৃষ্টি করে, ফলে আবারও তদন্তের জন্য ২৮.৬.২০২১ খ্রি.সার্ভেয়ার মোশারেফের ওপর দায়িত্ব পড়ে।

সর্বোপরি সমস্যা নিয়ে প্রধান শিক্ষকের সাথে কথা হলে তিনি বিবিসি নিউজ২৪ কে জানান, আমি সরকারী সম্পদ তথা বিদ্যালয়ের দায়িত্ব পালন ও সংরক্ষণ করতে গিয়ে নানান হুমকির সম্মুখীন হচ্ছি, ৭.১২.২০২০খ্রি.নির্বাহি অফিসার কে অবহিত করি, ০১.৮.২০২১ খ্রি. হাতিয়া থানায় জিডি করি। হাতিয়া থানা জিডি নং ২৪,তারিখ- ০১.৮.২০২১ খ্রি. দাতার ওয়ারিশগণ আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন মিডিয়ায় নানান অপপ্রচার করে, মিথ্যা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ আনে যাহা পরে আমি প্রতিবাদও করি।

জিডি প্রসঙ্গে তদন্ত ওসি কাঞ্চন কান্তি দাস বিবিসি নিউজ ২৪ কে বলেন, জিডির দায়িত্বপ্রাপ্ত তদন্ত কর্মকর্তার সাথে আলাপ করে জানাবো।

সার্ভেয়ার মোশারফ থেকে তদন্তের অগ্রগতি জানতে চাইলে তিনি বিবিসি নিউজ২৪ কে বলেন, লকডাউন উঠলে আমরা তদন্তের নতুন তারিখ ঠিক করব। সে রিপোর্ট অনুসারে শুনানি হবে, যদি কেউ আমল না করে- ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ পরে আদালতের আশ্রয় নিতে পারবে।

দাতার ছেলে রিয়াজকে বিদ্যালয়ের জায়গা নিয়ে জোরজবরদস্তি এবং এসিল্যান্ডের দপ্তরে বিচারাধীন জায়গায় অনুপ্রবেশ প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করলে তিনি দিগন্তেরবার্তা টুয়েন্টি ফোর ডটকম কে বলেন, স্কুলের ১২ শতক জায়গা ছাড়া আর নাই।

প্রধান শিক্ষক অসৎ উদ্দেশ্যে আমাদের ফিলার উপড়ে ফেলায়, স্কুল কমিটিতে প্রথমে আমরা থাকলেও, সম্মানি জাগায় আমাদেরকে রাখা হয়নি বলে আমরা পরে আর থাকিনি। তার ইচ্ছামতে স্কুল কমিটি করে।তার প্রয়াত পিতার দানকৃত সম্পত্তির ত্রুটি এবং তার অবর্তমানে সন্তান’রা ইহার সামাধা করন প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, ৮০’র দশকের দলিলগুলোতে নানান সমস্যা আছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত © দিগন্তের বার্তা ২৪
Theme Customized BY Theme Park BD