1. admin@digonterbarta24.com : admin :
মঙ্গলবার, ৩০ নভেম্বর ২০২১, ১১:৫৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
মিরসরাইয়ে শিল্প নগর পরিদর্শনে সৌদি আরবের মন্ত্রীর সেনবাগে জিতেনি নৌকার কোন প্রার্থী চট্টগ্রামের সংবাদপত্র-শিল্পসাহিত্য ও সংস্কৃতির মহীরুহ বটবৃক্ষ এম এ মালেকঃ শুকলাল দাশ স্থানীয় লক্ষ্যভিত্তিক গুচ্ছগ্রাম বাস্তবায়নে ভূমি মন্ত্রণালয় চট্টগ্রামে জেনারেল হাসপাতালে নন কোভিড ইউনিটে আইসিইউ বেড উদ্বোধন দর্শনা থানা পুলিশের অভিযানে মাদকদ্রব্য সহ ২ (দুই) কেজি গাঁজা উদ্ধার কেশবপুরে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশি ২২ জনের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ঝালকাঠিতে ১০০ টাকায় ১৪ তরুণ-তরুণীর পুলিশে চাকরী আন্তঃবাহিনী কাবাডি প্রতিযোগিতা-২০২১ শুরু বিএমপি কমিশনারের সাথে টেলিভিশন চিত্র সাংবাদিক এসোসিয়েশনের সৌজন্য সাক্ষাৎ

গনতন্ত্র,গণঅধিকার ও নির্বাচন 

দিগন্তের বার্তা ২৪ ডেস্ক
  • সময় : শুক্রবার, ৯ জুলাই, ২০২১
  • ২০৪ বার পঠিত

ছায়েদ আহমেদঃ নির্বাচন শব্দটি গণতন্ত্রের পরিপূরক। গণতন্ত্রের আশায় দেশে-দেশে,হাজার- হাজার বছর ধরে নির্বাচন চর্চা অব্যাহত রয়েছে। ২০১৭ সালের গণতান্ত্রিক ইনডেক্সে দেখা যা, ১৬৮ টি দেশের মধ্যে মাত্র ১৯ টিতে (১১.৩শতাংশ) গণতন্ত্র রয়েছে।

অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি যে গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের পূর্বশর্ত, এ যুক্তিটি ধোপে টিকে না। কেননা সামাজিক ক্ষেত্রে এবং দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখার মতো এমন বহু মানুষ আছে, যারা তথাকথিত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রসমূহে ভোটাধিকার কিংবা রাজনৈতিক অংশ গ্রহনে সুখকর পরিবেশ পায়না। কাল থেকে কালান্তরে চলে আসা মূর্খের শাসনে নিমজ্জিত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সহজে শিক্ষিত-সচেতন লোকের শাসন কায়েম সহজে হবে বলে মনে হয় না।
গ্রীক দার্শনিক প্লেটো যথার্থই বলেছেন, গণতন্ত্র মূর্খের শাসন। যা থেকে তৈরী হয় স্বৈরতন্ত্রের। তাই তিনি গণতন্ত্র বাদে বিজ্ঞের শাসনের প্রতি জোর দিয়েছেন। এরিস্টটল গণতন্ত্রকে অধমের মাঝে উত্তম বলেছেন। রাষ্ট্র দর্শনের সেই গ্রীক ধারা পরবর্তী সময়ে অব্যাহত থাকেনি। টমাস একুইনাস রাজতন্ত্রকে একটি উত্তম সরকার বলেছেন। তবে সম্ভাব্য উত্তম সরকার হচ্ছে- রাজতন্ত্র, অভিজাততন্ত্র ও গণতন্ত্রের মিস্র সরকার। সমাজ বিজ্ঞাণী টমাস হবস্ গণতন্ত্রের বিরোধিতা করে একনায়কতান্ত্রিক সরকারকে সমর্থন করেছেন। যে পথে বর্তমানে আমরা চলছি। অন্যদিকে ফরাসী দার্শনিক জ্যাঁ জ্যাক রুশো ছিলেন, আদর্শ গণতন্ত্রের একজন প্রবক্তা। যাহা কেবল আমরা বক্তৃতা- বিবৃতি ও কাগজে-কলমে ব্যাপৃত রাখি।

এখানে রাষ্ট্র দর্শনের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়- প্রথম দিককার দার্শনিকরা গণতন্ত্রের বিপক্ষে আর দ্বিতীয় দিককার দার্শনিকরা রাষ্ট্রের ক্ষমতা সীমিত করা এবং জনঅধিকার নিশ্চিত করার কথা বলেছেন। যেখানে ভারসাম্য নীতি বলবৎ থাকার বিকল্প নেই।

আমেরিকার রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ফরিদ জাকারিয়া গণতন্ত্র সম্পর্কে ভিন্নমত পোষণ করে বলেছে, দেশে-দেশে অবিকশিত গণতন্ত্র রয়েছে। ভারতের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে তিনি বলেন, সেখানে গণতন্ত্র অনেক সংকটের জন্ম দিয়েছে। জাতিগত সংঘাত, দারিদ্র্য, অত্যাচার, যুদ্ধ এবং আন্তর্জাতিক জঙ্গিবাদ তৈরি করেছে। যাকে তিনি ‘সংঘাতের গণতন্ত্র ‘ বলেছেন।
বর্তমান আমেরিকার দিকে নজর দিলে দেখা যায়, সেখানে রাষ্ট্রীয় অভ্যন্তরে অস্থিতিশীলতা বিরাজ করছে। মানুষের মাঝে জমে থাকা দীর্ঘ দিনের সামাজিক অসন্তোষ, উগ্রজাতীয়তাবাদ হঠাৎ করে মাথা ছড়া দিয়ে উঠেছে। যে বিষয়গুলোতে রাষ্ট্র গুরুত্বই দেয়নি।

পৃথিবীর প্রধান প্রধান শক্তিগুলোতেও সময় বিবর্তনে পরিবর্তন আসে। পূর্ব ইউরোপসহ সোভিয়েত ইউনিয়নে সমাজতন্ত্রের অবসানের পর নব্বই দশকের শুরু থেকে গণতন্ত্রের জোয়ার বইতে শুরু করেছে। ১৯৯৩ সালে ফ্রিডম হাউজের প্রতিবেদনে পৃথিবীর ১৮৬টি রাষ্ট্র এবং ৬৬ ভূ- খন্ডের রাজনৈতিক পরিস্থিতি জরিপ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯৯ টি রাষ্ট্র গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

নির্বাচিত সরকারের বিষয়ে ভিন্ন রকমের অভিযোগ হলো- গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হলেও তা কদাচিত টিকে থাকে। ২০১৮ সালে ১১২টি নয়া গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের উপর মার্কিন সমাজবিজ্ঞানী মোহাম্মদ আলি কাদিবারের এক গবেষণায় দেখা যায়, যদি জনগনকে সংগঠিত করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা হয়, তাহলে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে উঠে, নতুন শাসন ব্যবস্থার জন্য নেতৃত্ব গড়ে উঠে। সরকার ও জনগণের মধ্যে একটি সেতুবন্ধ তৈরী হয় এবং ক্ষমতা ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি ভারসাম্য সৃষ্টি হয়।
আরও বলা হয়, গণতন্ত্র থেকে অগণতান্ত্রিক সরকারে পরিবর্তন অব্যাহত থাকবে না, যদি সেখানে জনগণের উত্থানের ফলে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা পায়। আর যদি সেখানে বিপ্লব বা সংঘাতের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সরকার তৈরী হয়,তাহলে তা টেকসই হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। তত্ত্বটিকে আমলে নিলে এ কথা বলা যায় বাংলাদেশের গণতন্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে জন্ম হয়েছে বলে এদেশে গণতন্ত্র টেকসই হয়নি। ধাপে ধাপে ইহা পর্যবসিত হয়েছে। প্রায় সর্বোত্রই গণতন্ত্রের সুখের চারা শুকিয়ে গেছে।

দলীয় ভিত্তিতে ভোটের কারণে যারা নমিনেশন পায়, তাদের মধ্যে কেউনা কেউ নির্বাচিত হয়। এতে দেখা যায় সমাজ বিরোধী, রাষ্ট্র বিরোধীরাও নির্বাচিত হয়ে যায়। ফলে একটি নির্বাচন শেষ হলেই তখন লোকজনের মধ্যে কাউন্টডাউন শুরু হয়ে যায়।

ছায়েদ আহমেদ
সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক,
হাতিয়া উপজেলা ছাত্র লীগ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত © দিগন্তের বার্তা ২৪
Theme Customized BY Theme Park BD