1. admin@digonterbarta24.com : admin :
শনিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২১, ০৪:৫৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
পূজা মন্ডবে পরিদর্শনে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ইঞ্জিনিয়ার মিজানুর রহমান জনি দেশব্যাপি সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে কড়া হুশিয়ারি জানিয়ে পাহাড়তলী থানা ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিল গুইমারায় চার দিন ধরে নিখোঁজ ভাঙ্গারী ব্যবসায়ী শানু মিয়া বিশ্ব খাদ্য দিবস ২০২১ উপলক্ষে বাঘাইছড়িতে র‍্যালী ও আলোচনা সভা উদযাপন চট্টগ্রামে হরতাল প্রত্যাহার নিউ ইয়র্কে এইচআরপিবি’র মতবিনিময় সভা, প্রবাসীদের সম্পত্তি রক্ষায় ট্রাইব্যুনাল গঠনের দাবি মানিকছড়িতে যুবলীগের কর্মী সমাবেশ অনুষ্ঠিত চট্টগ্রামে মণ্ডপে হামলা, হরতালের ডাক আড়িয়াব শ্বারদীয় দুর্গা পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন মেয়র হাছিনা গাজী বাংলাদেশ পুলিশ ক্রিকেট ক্লাবের নতুন কার্যনির্বাহী কমিটির বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত

রাজশাহীর সফল নারী উদ্দ্যেক্তা “মাহবুবা আক্তার জাহান বাঁধন”

দিগন্তের বার্তা ২৪ ডেস্ক
  • সময় : বৃহস্পতিবার, ১ জুলাই, ২০২১
  • ২৯৫ বার পঠিত

দিগন্তেরবার্তা২৪,ডেস্কঃ রাজশাহীর মেয়ে “মাহবুবা আক্তার জাহান বাঁধন”।যিনি একজন সফল উদ্যোক্তা, সফল ব্যবসায়ী। তিনি ২০২০ সাল থেকে চালিয়ে যান জীবন সংগ্রামের একটি অংশ অনলাইন ব্যবসা।তবে থেমে থাকেননি তিনি। দুর্গম পথ এবং ব্যার্থতার গ্লানি উপেক্ষা করে আজ সাফল্যর দ্বারপ্রান্তে”মাহবুবা আক্তার জাহান বাঁধন“।হাটি হাটি পা পা করে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে সাথে নিয়ে তিনি হয়ে উঠেন রাজশাহীর সফল নারী উদ্যোক্তা।

”উদ্যোক্তা হওয়ার গল্প নিয়ে টেকজুমের এবারের আয়োজন।রাজশাহীর মেয়ে “মাহবুবা আক্তার জাহান বাঁধন” এর উদ্যোক্তা হয়ে ওঠা নিয়ে বিস্তারিত জানাচ্ছেন দিগন্তের বার্তা ২৪ এর স্টাফ রিপোর্টার। পাঠকদের উদ্দেশ্যে সাক্ষাৎকারটি তুলে ধরা হলো-

আপনার সম্পর্কে যদি কিছু বলতেন?

আমি মাহবুবা আক্তার জাহান বাঁধন। আমার বাড়ি ক্লিনসিটি, গ্রীনসিটি, সিল্কসিটি, এডুকেশন সিটি ও ম্যাংগোসিটি রাজশাহীর দুর্গাপুর থানার নোনামাটিয়াল গ্রামের মেয়ে। তবে শশুর বাড়ি রাজশাহীর পবা থানার পারিলা ইউনিয়ন বজরপুর গ্রামে।  আমি একজন নারী উদ্যোক্তা।

উদ্যোক্তা আগ্রহ কিভাবে তৈরি হলো?

আমার মাত্র ১৩ বছর বয়সে বিয়ে হয়ে যায়। তাই পড়াশোনা তৎক্ষনাৎ বন্ধ হয়ে যায়।  এরপর ৫ বছর টোটাল পড়াশোনা বন্ধ ছিলো। খুব অল্প বয়সেই দুই টা বাচ্চা হবার পর বুঝি, আমার বর উচ্চ শিক্ষিত কিন্তু আমার শিক্ষাগত যোগ্যতা নেই। তাই আবারো পড়াশোনা শুরু করি। বর্তমানে আমি ডিগ্রি ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী।  নিজের একটা পরিচয় বানাতে চেষ্টা ছিলো খুব। কারো মেয়ে, বউ, মা, এই পরিচয়ে পরিচিত হয়ে বাঁচা টা আমার নিজের কাছে খুব লজ্জাজনক ছিলো। এছাড়া বিভিন্ন সামাজিক সেচ্ছাসেবী সংগঠন এর সাথে জড়িত আমি। সবসময়ই ভালো লাগে অসহায়, দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে কিছু একটা করতে। আর এসব করতেও টাকার প্রয়োজন আছে। তাই বরের কাছে যে চাইবো সে নিজেও বেকার স্টুডেন্ট ছিলো। তাই নিজের কিছু একটা করা দরকার বলে বার বার বিজনেস করতে চেষ্টা করার পরেও বার বার ধাক্কা খেয়ে পড়ে গেছি। কিন্তু মনোবল হারাইনি। প্রতিটি হার থেকেই অর্জন করেছি অভিজ্ঞতা।

আপনি এই অনলাইন বিজনেসে কাকে আইডল হিসেবে দেখছেন?

আমার আইডল  ওমেন এন্ড ই-কমার্স ফোরাম উই এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও উই প্রেসিডেন্ট নাসিমা আক্তার নিশা আপু। বার বার নিজের পরিচয় বানাতে চেষ্টা করার পরেও যখন কিচ্ছু করতে পারিনি। তখন অনলাইন ভিত্তিক ফেসবুক গ্রুপ উই তে জয়েন করার পরে আমি বুঝেছি, উই আমার জীবন বদলে দিতে পারে৷ তাইতো নিয়মিত উইতে সময় দিয়ে নিজেদের জমিতে উৎপাদন করা সব ধরনের ভেজাল মুক্ত গ্রামীণ কৃষি খাদ্য পন্য নিয়ে কাজ করতেছি। শুন্য হাতে বিনা পুজিতে উইতে শুধু পার্সোনাল ব্র্যান্ডিং এর জোরে নিজের একটা পরিচয় বানাতে পেরেছি উই এর প্রায় ১২ লক্ষ সদস্য সম্বলিত গ্রুপে। নিশা আপুর একনিষ্ঠতা দেখে ও রাজিব আহমেদ স্যারের দিকনির্দেশনা ও নিজের পরিশ্রম ও উই এর সকল দিকনির্দেশনা অনুযায়ী চলে  আমি পেয়েছি নতুন জীবনের সন্ধান।

কতটুকু সফলতা লাভ করেছেন বলে মনে করেন?

সফলতা ও প্রাপ্তি দুটো দুই রকম বলে মনে করি। তাই উই তে আমি অনেক কিছু পেয়েছি। যে আমি সামান্য এম্বি কেনার টাকা পেতাম না। সে আজ নিজের খরচ নিজেই চালাই। বাচ্চাদের বেতন, বাসার গ্যাস বিল, বিদ্যুৎ বিল, ওয়াইফাই বিল সহ পরিবারকে সহযোগিতা করতে পারতেছি। পরাধীনতার কবল থেকে মুক্তি পেয়েছি সংসার জীবনে, এগুলো আমার প্রাপ্তি। কিন্তু আমি নিজেকে পুরোপুরি  সফল ভাবিনা। কেননা আমি সেদিনি নিজেকে সফল ভাববো, যেদিন আমি অনেক বেকার মানুষের কর্মের ব্যবস্থা করতে পারবো আমার কাজের মধ্যেই। ইনশাআল্লাহ আমি পারবো, সে আত্মবিশ্বাস আমার আছে।

আপনার ভবিষ্যত পরিকল্পনা কি?

আমার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হলো, আমার নিজেস্ব জমিতে উৎপাদন করা ফসল শুধু নয়, বরং আমার ইচ্ছা আছে আমার পুরো গ্রামের কৃষকের কাছে খাদ্য পন্য সংগ্রহ করে সারা দেশের মানুষের কাছে ভেজাল মুক্ত গ্রামীণ খাদ্য পন্য ছড়িয়ে দেয়া। এবং কৃষকের ন্যাজ্য মূল্য সংযোজন করা, তারা ন্যাজ্য মুল্য পেলে আর খাবারে ভেজাল মেশাবে না। মানুষ ভেজাল যুক্ত খাবার খেয়ে অসহায় হয়ে পড়েছে৷ আমি চাই ভেজালের বিরুদ্ধে খাটি খাদ্য পন্য নিয়ে কাজ করে সারা দেশ সহ বাইরেও এক নামে “বাঁধন ফুডের” সাথে পরিচিত হতে।

আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা বলুন?

আমি ডিগ্রি ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী। নিজের পরিচয় বানানোর পাশাপাশি পড়াশোনা টাও চালিয়ে যাচ্ছি।

আপনার চ্যালেঞ্জ গুলো কিভাবে মোকাবেলা করেছেন?

নারী উদ্যোক্তা মানেই চ্যালেঞ্জ। আমি ছোট বেলা থেকেই খুব চঞ্চল আর দুরন্ত স্বভাবের মেয়ে। তাই আমি চ্যালেঞ্জ নিয়ে কাজ করতেই বেশি পছন্দ করি। ছোট বেলা বাবা মারা যাবার পরে পুরুষ বিহীন সংসারে মা আমাদের তিন  বোনকে অনেক কষ্ট করে বড় করেছেন। প্রতিনিয়ত জীবনের সাথে যুদ্ধ করেই জীবন যাপন আমাদের। তাই জীবনে শত দুঃখ কষ্ট কে মাড়িতে সামনে এগিয়ে যেতে চাই।  হতাশা শব্দটাকে আজকাল ফ্যাশনেবল মনে হয়। মেয়ে বলেই পড়াশোনা না করিয়ে বিয়ে দিয়ে পরাধীন করেছিলো আমার পরিবার আমাকে। কিন্তু আমি নিজের পরিচয়ে পরিচিত হতে চেয়েছি। মেয়ে বলে অনলাইনে বিজনেস শুরু করে পরিবার সহ আশেপাশের মানুষের অনেক কটু কথা শুনেছি। কারো সাপোর্ট পাইনি প্রথমে। কিন্তু আজ  যখন আমার প্রাপ্তির খাতা টা পরিপূর্ণ, তখন পরিবার সহ সবাই সাপোর্ট করতেছে, সহযোগিতাও করতেছে।  আমি কারো সাথে কোন ঝামেলা করিনি। কৌশলে বুদ্ধি করে ম্যানেজ করেছি সব কিছু।

আপনার নতুন প্রোডাক্ট গুলো কি কি?

আমি যেহেতু রাজশাহীর বাসিন্দা। তাই রাজশাহীর  আম, খেজুর গুড়, গরুর ঘানি ভাংগা খাটি সরিষার তেল, আমার নিজেস্ব স্পেশাল রেসিপির ঝাল মুড়ি মসলা, সব ধরনের গুড়ো মসলা, নারিকেল তেল, ঘি সহ সব ধরনের চাল, ডাল, আটা ময়দা, রেডি টু কুক মাংস,  সবজি, সহ সব ধরনের ভেজাল মুক্ত গ্রামীণ কৃষি খাদ্য পন্য।

বর্তমানে কভিড১৯ এ ই-কমার্স?

অনেকেই বলে ২০২০ নাকি তাদের জীবনে অভিশাপ।  কিন্তু আমি বুঝেছি যেখানেই সমস্যা, সেখানেই সমাধান।  আমি অফলাইনে চেষ্টা করে বার বার ব্যর্থ হবার পরে ২০২০ সালের কোভিড কালীন সময়ে উইতে ই-কমার্স বিজনেস শুরু করি এবং সফল হই।

পরিশেষে স্রোতাদের উদ্দ্যেশ্যে কিছু বলুন?

পরিশেষে নতুন করে যারা অনলাইন বিজনেস  শুরু করেছেন, করতে চাইছেন  বা জব পাচ্ছেন না বলে যারা হতাশ, তাদের বলবো, আপনি যেটা পারেন, যেটা সম্পর্কে খুব ভালো বোঝেন, সেটা নিয়েই কাজ শুরু করে দেন, লেগে থাকার বিকল্প নেই। যে কোন কাজেই মন দিয়ে লেগে থাকলে সে কাজের সফলতা অর্জনের পথ পরিস্কার হয়ে যায়।  জীবন টা অনেক ছোট সময়। তাই সকলের একটা নিজের পরিচয় থাকা জরুরি, আর তাতে কে কি বলল কে কি ভাবলো এসব না ভেবে সামনে এগিয়ে যাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত © দিগন্তের বার্তা ২৪
Theme Customized BY Theme Park BD