1. admin@digonterbarta24.com : admin :
শুক্রবার, ২১ জানুয়ারী ২০২২, ১০:৩৫ অপরাহ্ন

অনলাইন প্লাটফর্ম কে কাজে লাগিয়ে নিজের স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করুন – ফারজানা

দিগন্তের বার্তা ২৪ ডেস্ক
  • সময় : বুধবার, ২৩ জুন, ২০২১
  • ৩১৭ বার পঠিত

দিগন্তেরবার্তা২৪,ডেস্কঃ চাঁদপুরের মেয়েফারজানা আলম মুনমুন“।যিনি একজন সফল উদ্যোক্তা, সফল ব্যবসায়ী। তিনি ২০১৯ সাল থেকে জবের পাশাপাশি চালিয়ে যান জীবন সংগ্রামের একটি অংশ অনলাইন ব্যবসা।তবে থেমে থাকেননি তিনি। দুর্গম পথ এবং ব্যার্থতার গ্লানি উপেক্ষা করে আজ সাফল্যর দ্বারপ্রান্তে ” ফারজানা আলম মুনমুন “।হাটি হাটি পা পা করে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে সাথে নিয়ে তিনি হয়ে উঠেন চাঁদপুরের সফল নারী উদ্যোক্তা।

”উদ্যোক্তা হওয়ার গল্প নিয়ে টেকজুমের এবারের আয়োজন।চাঁদপুরের মেয়েফারজানা আলম মুনমুন ” এর উদ্যোক্তা হয়ে ওঠা নিয়ে বিস্তারিত জানাচ্ছেন দিগন্তের বার্তা ২৪ এর স্টাফ রিপোর্টার। পাঠকদের উদ্দেশ্যে সাক্ষাৎকারটি তুলে ধরা হলো-

আপনার সম্পর্কে যদি কিছু বলতেন?
আসসালামু আলাইকুম।আমি ফারজানা মুনমুন আলম। চাঁদপুর জেলার মেয়ে। ঢাকায় বসবাস করছি। আমরা চার বোন কোন ভাই নেই। আমার তিন বোন দেশের বাইরে থাকে।বর্তমানে আমি বাবা মার সাথে  সাথে একা  আছি ঢাকায়। আমার মা একজন গৃহিনী এবং বাবা বিজনেস করতেন এখন অবসরপ্রাপ্ত। চার বোনের  মধ্যে আমি ছোট অনেক আদরের বলা যায়। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরের দিকেই অনলাইন বিজনেস এর যাত্রা শুরু। হাটি হাটি পা করে করে আমার  নতুন   জীবনের পথ চলা।

উদ্যোক্তা আগ্রহ কিভাবে তৈরি হলো?
আসলে ছোটবেলা থেকেই অনেক কিছু হওয়ার স্বপ্ন দেখতাম  কিন্তু দেখা যায় যে বড় হতে হতে স্বপ্নগুলো বদলাতে থাকে। পড়াশোনা করা অবস্থায় অনেক কিছু  করার ইচ্ছে আসতো সাহস হতো না। অনার্স পড়ার সময় ভাবতাম নিজে কিছু করতে চাই সেই সূত্র ধরে কিছুটা আঁগানো।আর ২০১৭/১৮  দিকে অনলাইনের কয়েকটা পেইজ বেশ নামকরা ছিল যাদের লাইভ অনেক দেখা হতো তাদের দেখেই উদ্যোক্তা হওয়ার আগ্রহ টা বেশি অনুভব  হলো।

আপনি এই অনলাইন বিজনেসে কাকে আইডল হিসেবে দেখছেন?

অনলাইন বিজনেসে  আমি আসলে আইডল হিসেবে কাউকে দেখিনাই।সব সময়  নিজের মতো করেই বিজনেসটা করার চেষ্টা করি।কাউকে কপি করে না তবে চারপাশের ধারণা নিয়ে,  সবসময়ই চেষ্টা থাকে আলাদাভাবে কিছু করে নতুন নতুন  জিনিস সামনে তুলে ধরা তবে অবশ্যই সৎভাবে নিজের বিজনেস্টাকে  এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই  এবং সেই লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছি।

কতটুকু সফলতা লাভ করেছেন বলে মনে করেন?
আলহামদুলিল্লাহ। আল্লার কাছে শুকরিয়া কখন ও ভাবিনি এরকম অবস্থানে  আসতে পারবো। অনলাইন বিজনেস করবো নিজের পায়ে দাড়াবো এটা আমার একটা স্বপ্ন ছিল শুকরিয়া আল্লাহর দরবারে  ওটা আমার পূরণ হয়েছে। কতটুকু সফল হতে পেরেছি জানিনা  এত অল্প সময়ে যতো মানুষ আমাকে চিনেছে  ভালোবাসা পেয়েছি  সেটার জন্য ও শুকরিয়া।

আপনার ভবিষ্যত পরিকল্পনা কি?
আমার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হচ্ছে যেহেতু আমার ব্যবসাটা এখন ছোট পরিসরে আছে।  বিজনেস টাকে  বড় পরিসরে করার  চিন্তাভাবনা আছে । নিজের একটা অবস্থান  তৈরি করতে চাই  যেখানে সবাই আমাকে আমার কাজের জন্য চিনবে। নিজের মেধাকে কাজে লাগিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে চাই। যাতে আমাকে দেখে আরও  দশটা মেয়ে সাহস পেয়ে সামনে এগিয়ে আসে।

আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা যদি বলতেন?
আমি চাঁদপুরের  মেয়ে। বর্তমানে ঢাকায়  আছি। ২০০৪ সালে এস এস সি দিয়েছি  ধানমণ্ডি  কামরুন্নেসা স্কুল থেকে। ও ২০০৬ সালে  এইচ এস সি দিয়েছি  রাইফেলস পাব্লিক স্কুল এন্ড কলেজ।  আর অনার্স  ও মাস্টার্স  করেছি ঢাকা সিটি কলেজ থেকে ২০১৪ সালে  মার্কেটিং নিয়ে।

আপনার চ্যালেঞ্জ গুলো কিভাবে মোকাবেলা করেছেন?
উদ্যোক্তা জীবনটাই আসলে একটা চ্যালেঞ্জময়। সবসময়ই কঠিন সময় পার করতে হয়। নিজের আপ্রাণ চেষ্টা এবং আল্লাহর রহমতে এতোদুর  চেষ্টা করে আসতে পেরেছি । তবে সব সময় পরিবারের ভূমিকা বেশি ছিল আমার। সব সময় আমাকে সাহস যুগিয়ে অনুপ্রেরণা দিয়ে মনোবল টাকে  আরও মজবুত করে দিত। এ ব্যাপারে  সবচাইতে বেশি সাপোর্ট পেয়েছি আমি আমার আম্মুর কাছ থেকে।আমার এই টুকু পথ আসা কখনোই সম্ভব হতোনা।   আমার সবচাইতে বড় শক্তি। কঠিন মুহূর্তে ভরসার হাত।

আপনার নতুন প্রোডাক্ট গুলো কি কি?
আমি নরমালি থ্রিপিস ও শাড়ি পাঞ্জাবি নিয়ে কাজ করছি। তবে নানা রকম   উৎসবে নতুন নতুন কালেকশন আনার চেষ্টা করি। নতুনত্ব বজায় রাখার চেষ্টা করি। সব সময় রুচিসম্মত প্রোডাক্ট রাখতে চেষ্টা করি।

বর্তমানে কভিড১৯ এ ই-কমার্স?

করোনা একটি প্রাণঘাতী ও মরণব্যাধি ভাইরাস।
বর্তমানে কোভিড১৯ কারণে ই-কমার্স সাড়া পাচ্ছে সারা দেশ ও সারা বিশ্ব।বাংলাদেশ কম সাড়া পাচ্ছে না কিন্তু ঠকছে তার চেয়ে বেশি।অনলাইনের মাধ্যমে কেনাকাটা করার জনপ্রিয়তা দিন দিন বৃদ্ধি পেয়েই চলেছে। অনলাইনে মানুষ অর্ডার করে নিমিষেই তার পছন্দের পণ্যটি পেয়ে যাচ্ছে  । সময়ের সাথে সাথে মানুষের চাহিদার পরিবর্তন হচ্ছে সেই সাথে রুচির পরিবর্তন  ঘটছে। সরাসরি বাজারের না গিয়েও অনলাইনের মাধ্যমে ভালো মানের সার্ভিস পাচ্ছে। শুধুমাত্র কিছু প্রতারকের কারণেই অনলাইন বিজনেসে এর নামে নানা রকম কথা ছড়াচ্ছে।তারপরেও  আমরা সবসময় চাই ভালোকাজ   এগিয়ে থাকুক সব সময়।

পরিশেষে স্রোতাদের উদ্দ্যেশ্যে কিছু বলুন?

পরিশেষ এ একটা কথাই বলতে চাই নিজেকে কখনোই দুর্বল  ভাবা উচিত না।  ইচ্ছে থাকলে অসম্ভবকে সম্ভব করা যায়। আমাদের প্রতিটা নারীর  উচিৎ নিজের পায়ে দাড়ানো পায়ের মাটিকে শক্ত করা ,নিজের আলাদা একটা পরিচয় তৈরি করা।আমরা আমরা  চাইলে সব করতে পারি,সব বাধা অতিক্রম করতে পারি,চাই  কিছু কাছের মানুষের অনুপ্রেরণার হাত আর হলো  আমাদের ইচ্ছে শক্তিটা প্রয়োজন।কিছু করতে গেলে বাধা আসবেই তাই বলে পিছপা হওয়া যাবে না মনোবল শক্ত করে সামনে  দিয়ে যেতে হবে।  সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন যেনো নিজের স্বপ্নগুলো কে একটু একটু করে বাস্তবায়ন করতে পারি বাকি আট-দশটা মানুষের মত সম্মানের সাথে বাঁচতে পারি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত © দিগন্তের বার্তা ২৪
Theme Customized BY Theme Park BD