1. admin@digonterbarta24.com : admin :
শনিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২২, ১২:২৫ পূর্বাহ্ন

পূর্ব শক্রতার জেরে সঙ্গীত শিল্পী পিজিতের ঘরে আগুন,মামলা দায়ের

দিগন্তের বার্তা ২৪ ডেস্ক
  • সময় : শনিবার, ১৯ জুন, ২০২১
  • ১৪৬ বার পঠিত

দিগন্তেরবার্তা২৪,ডেস্কঃ রাঙ্গুনিয়া উপজেলাধীন রাজানগর রানীরহাট পুলিশ ক্যাম্প সংলগ্ন হিন্দু পাড়া এলাকায় তরুণ সঙ্গীত শিল্পি পিজিত মাহাজনের বসতি ঘরে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়ার অভিযোগের প্রেক্ষিতে পিজিত মাহাজন তার ব্যক্তিগত ফেইসবুক আইডিতে থেকে শনিবার বিচার চাই শিরোনামে একটি স্ট্যাটাস দেন৷

গত ১০ জুন রাত আনুমানিক ১২.৩০ মিনিটে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা ১নং রাজানগর ইউনিয়নের  ৫নং ওয়াডে ঠান্ডাছড়ি এলাকায় সঙ্গিত শিল্পী পিজিত মাহজনের বসত ঘরে আগুন দেন বলে অভিযোগ করেন পিজিত নিজেই,যদিওব ঘটনার দিন রাঙ্গুনিয়া মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন৷
সঙ্গীত শিল্পী পিজিত মাহজন পিজিত প্রসেনজিৎ মাহজন(Pjeet Prasenjeet Mohajon) নামে ফেইসবুক আইডি থেকে বসতি ঘর পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ তুলে ধরতে গিয়ে তার শৈশসবের ঘটনার বর্ণনা তুলে ধরেন৷খেয়ে না খেয়ে আর্থিক সংকটের গ্লানী মাথায় নিয়ে মায়ের মৃত্যু থেকে শুরু করে ত্যাগ ও বিসর্জনের মাধ্যমে একজন সংগীত শিল্পী হিসাবে নিজেকে গড়ে তোলার কথাও উল্ল্যেখ করেন৷
আবেগময় সেই ফেইসবুক স্ট্যাটাসে পিজিত ঘর পুড়ানোর অভিযোক্ত হিসাবে প্রতিবেশী পূর্ব শক্রুদের দিকে ইঙ্গিত করলেও কারো নাম উল্ল্যেখ করেননি৷
পিজিত মাহাজন দাবী করেন একজন সংগীত শিল্পী হিসাবে ক্যান্সার রোগীদের সহয়তা গান করেছেন,পুলিশ সাংবাদিকসহ সমাজের নানা শ্রেনীর মানুষের আত্ম-মানবেতার সেবায় গান করেন কিন্তু আজ তার সব শেষ বিচার কাকে দিবেন কোথায় চাইবেন এমন হতাশা তার লেখার মাঝে ফুটে উঠে৷৷তিনি আরো লিখেন ঘটনার রাতে তার বৃদ্ধ বাবা ঘরে ছিল মুসলিমদের সহয়তায় মন্দির ও তার বাবার কোনরকমে বাঁচলেও ঘরের কোন আসবাবপত্র ও বিভিন্ন ব্যবহারের সামগ্রী উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি৷
ঘটনার সত্যতা জানতে সঙ্গীত শিল্পীর পিজিতের মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন আমার সব শেষ কিছু অবশিষ্ট নেই,সব জ্বলে পুড়ে চাই হয়ে গেছে,থানায় অভিযোগ করেছি পুলিশ এসে তদন্ত করে গেছে কিন্তু এই ঘটনায় কারা জড়িত তা সবাই জানে জীবনের নিরাপত্তার সাথে হয়তো কেউ মুখ খুলছেনা৷ তিনি আরো বলেন মুসলিমরা এগিয়ে না আসলে আমাদের ধর্মালয় মন্দির রক্ষা করা সম্ভব হতোনা৷
স্থানীয় ইউপি সদস্যদের বিবৃতি জানার জন্য একাদিকবার চেষ্টা করেও মুঠো ফোনে সংযোগ পাওয়া যায়নি৷
ঘটনার তদন্তের অগ্রগতি জানতে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মাহবুব মিলকির সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি এই ঘটনার আসল রহস্য উদঘাটনে পজেটিভ ও আন্তরিক হয়ে কাজ করতেছেন,তিনি বলেন বাদী আমাকে জানানোর পর আমি আমার টীম পাঠিয়ে ঘটনা তদন্ত করতে পাঠিয়েছি তদন্ত চলমান আছে,ভুক্তভোগী নাম না বললে কাউকে সন্দেহজনক হয়রানী করা সম্ভব না,একটু হলেও ক্লো দিতে হয়,সেই কারো নাম বলতে রাজি নয় এরপরও আমরা সর্বচ্চ চেষ্টা করতেছি ঘর পুড়ানো ঘটনা যদি কারো মাধ্যমে হয় আমরা তাদের খুঁজে বাহির করার চেষ্টা করতেছি,শুধু তা নয় গত রাতে ঐ এলাকার পাশে আরেকটি আগুন লাগার ঘটনা ঘটছে আমি তিনটার সময় সাথে সাথে টীম পাঠিয়েছি,আইনি সহয়তা দিতে আমার থানা সর্বদা প্রস্তুত,সুযোগ দিতে হবে এটা না দিয়ে কেউ মনগড়া কিছু বলা উচিত নয়৷

সঙ্গীত শিল্পী পিজিতে দেওয়া ফেইসবুক পোষ্টটি হুবহু দেয়া হল:-

বিচার চাই
…………….
বাবা সারাজীবন মানুষের জন্য করেছেন,
গ্রামের মানুষের যেকোন বিপদে পাশে ছিলেন,
যেহেতু বাবার মুদি দোকান ব্যাবসা ছিল,এবং রানীরহাটের ৫জন ব্যাবসায়ীর একজন ছিল,উনার কাছে সাহায্য চাইতে গিয়ে হিন্ধু মুস্লিম কেউ খালী হাতে ফিরে নাই,হোক গরীব মেয়ের বিয়ে, কিংবা কারো বিদেশ যাওয়ার টাকা লাগবে,কারো ঘরে চাল ডাল।
এই মানুষ টাকে এভাবেই দেখে এসেছি,প্রতি বছর ইন্ডিয়ার সব মন্দির,মাজার,মসজিদ ভ্রমন করতো,
মা ছিল ধার্মিক,মায়ের আরাধনা শুনেই আমাদের ঘুম ভাংত,এলাকার মানুষ আজো মায়ের জন্য কাঁদে,
মা ছিল সবার সুখ দু:খের সাথী,ভাংগা সংসার গুলো গড়ে দেয়ার কারিগড় ছিল মা।
আমাদের জীবন টা বড্ড রাজকীয়,বাবা ঘরেই ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্টিত করেন লোকনাথ সেবাশ্রম,
তখন আসে পাশে মন্দির মহোৎসব,বলতে সেরকম কিছুই ছিল না,সব আমাদের আশ্রমেই হত,হাজার মানুষের সমাগম,গরীর, দুস্থ,মানুষ দের খাওয়ানো হত,বস্ত্র দেয়া হত,আহা সেই সব দিন।
আমার দাদা, আমার একমাত্র ভাই রাজীব মহাজন বন্ধুদের,ঘুরাফেরা-আড্ডা-শপিং নিয়ে বেশি ব্যাস্ত থাকত,প্রথম বাইক এলাকায়,দামী ফোন সব তার হাতেই, সে যাতে অগোছালো না হয় বাবা তাকে
লেখাপড়ার পাশাপাশি বাবার মত ব্যাবসায় নিয়ে আসেন,আগে ছিল এক প্রতিস্টান হিরো স্টোর,
আবার রাজীবের জন্য খুলে এস-এ স্টোর।দোকান হয় দুইটা, তখন থেকে মানুষের চোখে পড়ে যায় শত্রুতা বাড়ে, বিভিন্ন সমস্যায় পড়ে বাবা,লস বাড়ে, সন্তাসী হামলা হয়,দাদাও হুট হাট এত টাকার ব্যাবসা সাম্লাতে হিমসিম খায়,বিভিন্ন ব্যাংকে লোন বাড়ে,এসব দুশ্চিন্তায় সবাই ভেংগে পড়ি,
আমি ছিল স্কুলের গানের দলে প্রথম দিকে,পড়ার দিকে,এক দুই তিন এ, সাইন্সের ছাত্র,খেলা ধুলা,ধর্মীয় সব অনুস্টানে নিজের হাতে সামলানো এসব নিয়ে।।।।
দাদার দোকান ব্যাবসা টা ক্লোজ করে তাকে শহরে
পাঠিয়ে দি জব করতে,আমি টিউসানী করি,বাবা ব্যাবসা বাচানোর চেস্টা করে,মন্দির ঘর নিয়ে থাকে।
কিন্তু বিভিন্ন লোন,ব্যাংক লেনাদেনা উনাকে আর দাড়াতে দিচ্ছে না।
হঠাৎ এসব দুশ্চিন্তায় মা স্টোক করে মারা যায়।
আমাদের সব অগোছালো হয়ে যায়,বাবা আর্থিক,মানষিক,শারীরিক ভাবে ভেংগে পড়ে, তখন দুটো ভাত খেয়ে বেঁচে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে,
যাদের জন্য আজীবন করছে কেউ পাশে নেই।
আমি টিউশান করে গ্রামে টাউনে কলেজে আপডাউন করি,এক বেলা খায়,অন্য বেলা খায়নাই।
বাবা জিরো তখন ঘরে,নিরুপায় হয়ে পড়ে চারদিকের চাপে।
আমি এসব নিতে পারছিলাম না,বাবার সাথে তর্কাতর্কি চলতেতে থাকে।
পড়ে ভাব্লাম এই গ্রামে থাকলে কিছু করতে পারব না,
কি করা যায়,তখন চিন্তা করলাম আমার গান টাকে সংগী করি আগায়,
যাত্রী ছাউনিতে ঘুমায়,রাতে রিক্সায় ঘুমায় কিন্তু বাড়ি ফিরে যাবো না,বড় হয়ে যাব।
১টু ১টু করে আগাতে আগাতে কতোয়ালী মেঘনাতে ছোট দুইহাতের এক রুম নি।
গান নিয়ে পাগলের মত ছুটতে থাকি।
আর গ্রামে বাবার শত্রু বেড়ে যায় তত দিনে,
উনাকে বিভিন্ন ভাবে হেনস্তা করে,জায়গা থেকে তুলে দিতে চাই,
বিভিন্ম সময় এলাকায় বিচার হয়,আবার কদিন পরেই সবাই উনার উপর ঝাপিয়ে পড়ে আঘাত করে,
কি অবাক ব্যাপার, যারা এসব করছে তারা আমার বাবার দোকানে চাকরী করত,আমার বাবা মা তাদের বড় করেছ্র,মানুষ বদলে যায়,এটাই প্রমানিত।
চট্টগ্রামে আমার অবস্তান টা শক্ত করে আমি ঢাকায় গানের জন্য পাড়ি দি,
আমার একের পর এক গান বের হয়,টিভিতে রেগুলার শো করি,
এতে আমার প্রতি হিংসা বাড়ে এলাকার কিছু এলিট হিন্দুর,
যারা আমায় সাপোর্ট দিচ্ছে এরকম টা দেখিয়ে বিভিন্ন সময় নিমন্ত্রন করে এনে মেরে ফেলতে চাই,আজে বাজে মন্তব্য নিয়ে ভিডিও করে রাখে,আমার ক্যারিয়ার নষ্ট করবে বলে হুমকি দেয় কাউকে কিছু জানালে।
আমি কাউকে জানায় নাই ভগবানের জন্য অপেক্ষা করি।
এর মধ্যে আমার ভাইয়ের জব ও ঢাকায় শিফট হয়।
প্রতিদিন এলাকায় শুনি বিচার আর বিচার,বাবার পিছে সামনে শত্রু বাড়ছে প্রচুর,যারা সারাদিন উনাকে নম নম করতো,তারাই উলটা পালটা বিচার মাম্লা তে উনাকে হেন স্তা করে,আমি কয়েকবার আসি সমাধান করতে,ঢাকা ফিরে যাবা পরে এসব আবার হয়।
ভাবছি ঠিক হয়ে যাবে সব,আর হল না।
মন্দিরের আসে পাশে চিহ্নিত এই ৩/৪ জন বখাটে,নেশাখুর যুবক দের বাবা এবং এলাকার মানুষ অনেক বআর দেখে,ডাক দিলে পুড়ে দিবে,মেরে ফেলবে এরকম হুমকি দেয়।
আমি আর দাদা প্লেন করলাম,এবার গিয়ে সব ঠিক টাকা করে বাবাকে ঢাকা নিয়ে আসব,এভাবে উনি বেচে থাকতে পারবে না।
কিন্তু তা আর হল না,
গত ১০ তারিখ রাত ১২.৩০ বাবা যখন আমাদের বাড়ির পাশে মামার বাড়ি ভাত খেতে যায়,
এই নেশা খুর বখাটেরা আমাদের ঘরে আগুন লাগিয়ে সব ছাই করে,বাবাকে ভগবান না বাচালে হয়ত আর দেখতাম না,
এলাকার মুস্লিম রা মন্দির বাচালেও বাড়ি থেকে১টা ফোনের চার্জার ও বের করতে পারে নি সব ছাই,
১০লাখের অধিক টাকার ক্ষয় ক্ষতি হয়।কিছু নেই।সব ছাই,সব কিছুই।
এলাকার মানুষ সব দেখছে সরাসরি বলছে।
থানায় গেলাম মামলা নেয় নাই।
এর বিচার কি পাবো না??
আমি এই দেশের একজন সংগীত শিল্পী,
বন্যার জন্য গেয়েছি,
ক্যান্সার রোগীর জন্য গেয়েছি,দেশের জন্য গেয়েছি,
পুলিশের জন্য গেয়েছি,
ডাক্তার সাংবাদিকের জন্য গেয়েছি,গেয়েছি লিজেন্ডারী সব শিল্পীর সাথে, আরো গাইবো,আমাকে গাইতে দিন,বাঁচতে দিন আপনারা,সবাই পাশে থাকুন)
আর আমি মরে যাওয়ার ছেলে না,যদি কোন দিন কোথাও মৃত পেয়ে যান,ভাববেন এরা মারছে।
আমি আমার পরিবারের ক্ষতি হলে তারাই দায়ী,কারন তারা মামলা না নেয়ার জন্য,না দেয়ার জন্য বিভিন্ন ভাবে প্রেসার দিচ্ছে আমাদের,আমাকে।
বাংলাদেশ পুশিশ,মিডিয়া সবার সহযোগিতা আমি চাইছি। আমার সহশিল্পী,সংগীতের সকল শ্রেনীর মানুষ সবার সহযোগিতা চাই,গত ১০দিন আমি সবার পিছে পিছে দৌড়ালাম প্রসাসনের, কোন বিচার পাইনাই।
(এত গুছিয়ে লিখতে পারিনি মনের অবস্তা ভাল নেই,মায়ের শেষ স্মৃতি গুলো পূড়ে ছাই,কিছুই রইল না,
করোনা কাল চলছে পুরো দুনিয়ার শিল্পীরা ভাল নেই,প্রোগ্রাম নেই,তার উপর এই অবস্তায় যা টুকু ছিল জীবনে সব ছাই,এই পোস্ট ছড়িয়ে দিন সবাই এটাই চাওয়া)
পিজিত মহাজন
সংগীত শিল্পী
বাংলাদেশ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত © দিগন্তের বার্তা ২৪
Theme Customized BY Theme Park BD