1. admin@digonterbarta24.com : admin :
মঙ্গলবার, ৩০ নভেম্বর ২০২১, ১২:০৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
মিরসরাইয়ে শিল্প নগর পরিদর্শনে সৌদি আরবের মন্ত্রীর সেনবাগে জিতেনি নৌকার কোন প্রার্থী চট্টগ্রামের সংবাদপত্র-শিল্পসাহিত্য ও সংস্কৃতির মহীরুহ বটবৃক্ষ এম এ মালেকঃ শুকলাল দাশ স্থানীয় লক্ষ্যভিত্তিক গুচ্ছগ্রাম বাস্তবায়নে ভূমি মন্ত্রণালয় চট্টগ্রামে জেনারেল হাসপাতালে নন কোভিড ইউনিটে আইসিইউ বেড উদ্বোধন দর্শনা থানা পুলিশের অভিযানে মাদকদ্রব্য সহ ২ (দুই) কেজি গাঁজা উদ্ধার কেশবপুরে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশি ২২ জনের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ঝালকাঠিতে ১০০ টাকায় ১৪ তরুণ-তরুণীর পুলিশে চাকরী আন্তঃবাহিনী কাবাডি প্রতিযোগিতা-২০২১ শুরু বিএমপি কমিশনারের সাথে টেলিভিশন চিত্র সাংবাদিক এসোসিয়েশনের সৌজন্য সাক্ষাৎ

ক্ষুদে সাংবাদিক মোল্লা তানিয়া ইসলাম তমার আপন বৃত্তান্ত 

দিগন্তের বার্তা ২৪ ডেস্ক
  • সময় : বুধবার, ১৬ জুন, ২০২১
  • ১৩৯ বার পঠিত

মোল্লা তানিয়া ইসলাম তমাঃ

খুব আগ্রহ থেকে এবং বাবার অনুপ্রেরনায় দেশ ও মানুষের সেবার ব্রত নিয়ে অল্প বয়সেই সাংবাদিকতায় হাতে খড়ি । শুরু থেকে দূরু দূরু বুকেই পা ফেলছিলাম চরম এ পিচ্ছিল পথে । কিন্তু মাঠে গিয়ে যখন শুনি অমুক সাংবাদিক অমুকের এ অপরাধের জন্য হুমকি দিয়ে এতো টাকা দাবি করছে, যখন শুনি জুয়া খেলার ক্লাবে ক্যামেরা, ভিডিও, কলম খাতা নিয়ে একদল সাংবাদিক হাজির হয়েছে…তখন নিজের অজান্তেই মনের ভিতর আশা জেগে উঠে এই বুঝি ক্লাবটা বন্ধ হয়ে যাবে । সেখানকার জুয়ার পর্দা আর উঠবে না, মধ্যরাতে নাচ গান মদ গেলার হৈ হুল্লোর আর থাকবে না; কিন্তু হায়!! আমার সব আশার গুড়েই যে বালি মিশে যাবে তা তো কল্পনাও করিনি । ক্লাবটিতে দিব্যি চলছে নাচ গান হৈ হুল্লোড় । সবই চলছে আগের চেয়েও বেশি মাত্রায়। দু’ ধাপ এগিয়েই জানা গেল সেদিন যে সাংবাদিক সাহেবরা এসেছিলেন তাদের ১১ জনকে ২০ হাজার টাকা দিয়ে খুশি করে রীতিমত গ্যারান্টি কার্ড নিয়েছেন। আর তাদের অপকর্মে কেউ ডিস্টার্ব করবে না, কোনো পত্রিকাতেও এ ক্লাব নিয়ে লেখালেখি করবে না কেউ । প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তারা । আমি নতুন এবং ক্ষুদে রিপোর্টার হিসেবে ভেবে নিয়েছি, এ ক্লাবটার সঙ্গে যেহেতু সিনিয়র ভাইদের চুক্তি হয়েছে অতএব জুনিয়র হিসেবে আমি ক্লাবের বিরুদ্ধে রিপোর্ট করলে আমারই উল্টো ক্ষতি হতে পারে। সেদিন দেখলাম বাসার পাশেই এক মহিলা নিজেকে জীনের বাদশা দাবী করে বিশাল আকারে ব্যানার ফেস্টুন সাটিয়ে বড়সড় করে এক আস্তানা গেড়ে বসেছে । আর সে সকল সমস্যার সমাধান করে দেওয়ার কথা বলে শত শত মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিত এবং মাঝে মাঝে ভুক্তভোগীদের কান্নার রোঁ শুনতে পেতাম । তার পর জীনের বাদশাকে নিজ চোখে এক নজর দেখতে একদিন বিকাল বেলা তার আস্তানার দিকে যাই । আস্তানার কাছাকাছি যেতেই দেখি বড় বড় ক্যামেরা হাতে আস্তানা থেকে বেড়িয়ে আসছেন একদল সিনিয়র সাংবাদিক । অবশ্য তাদের সাথে একটি দৈনিক পত্রিকার সম্পাদকও রয়েছেন । কয়েক মিনিট পরেই দেখি স্থানীয় থানা পুলিশের দুই কর্মকর্তাও বেড়িয়ে আসছেন ঐ জীনের বাদশার আস্তানা থেকে । আর এই দৃশ্য দেখে আমি থমকে গেলাম আর ভাবলাম আমার বুঝি আর এই জীনের বাদশা দেখা হল না । তাই কিছুক্ষণ দাড়িয়ে থেকে বাসায় ফিরে আসলাম । আর মনে মনে ভাবলাম জীনের বাদশার আস্তানা তারা গুড়িয়েই দিয়ে গেছেন । পরের দিন দেখি জীনের বাদশার আস্তানায় অনেক লোকজনের সমাগম । সেখানে আজ খাওয়া দাওয়ার আয়জন । গতকাল যারা এসেছিলো তারা নাকি ১লাখ ৭০ হাজার টাকা নিয়ে তাকে পারমিশন দিয়ে গেছেন । আর এই কারনেই আজকের এই খাওয়া দাওয়ার আয়জন । বিষয়টি আমি কয়েকজন সিনিয়র সাংবাদিক ভাইদের জানাই । তারা আমার কাছে বিস্তারিত শোনার পর কেমন যেন চুপ হয়ে যায় । বিষয়টি নিয়ে আমি চরম হতাশায় পড়ে যাই । কয়েকদিন পর বুকে সাহস নিয়ে “জীন বাবার অপারেশন প্রতারিত জন সাধারণ” শিরোনাম দিয়ে একটা সংবাদ লিখি । তার পর উক্ত সংবাদটি ছাপানোর জন্য কয়েকটি পত্রিকা অফিসে পাঠাই । পরের দিন ৬টি পত্রিকায় গুরুত্বের সহিত আমার লাখা সংবাদটি প্রকাশিত হয় । তার পর দেখি নিকটতম থানার এক দল পুলিশ এসে বিপুল পরিমান চিকিৎসা সরাঞ্জামসহ জীনের বাদশাকে ধরে নিয়ে যায় । থানায় নেওয়া পর গভীর রাত পর্যন্ত থানা থেকে জীনের বাদশাকে ছাড়িয়ে নিতে বিভিন্ন কৌশলে তব্দির করে আমার ঐ সিনিয়র সাংবাদিক গ্রুপের ভাইয়েরা । কিন্তু বেরসিক পুলিশ ভাইয়েরা ঐ দিন আমার সিনিয়র সাংবাদিক গ্রুপের ভাইদের কথা না রেখে মামলা ঠুকে দেন জীনের বাদশার বিরুদ্ধে । পরের দিন আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে চলে যান ঐ লেডি জীনের বাদশা । কিন্তু এর জন্য বড় ধরনের খেসারত দিতে হয়েছে আমার পরিবারকে । আমরা জানি ও বিশ্বাস করি সাংবাদিকতা একটি মহান সেবা মূলক পেশা । সমাজ সেবার মহান ব্রত নিয়েই অনেকে এ পেশায় নিজের নাম লিখিয়ে নেন । জাতির নানান ক্রান্তিকালে সাংবাদিকরাই একমাত্র দিক নির্দেশনা দিতে চেষ্টা করেন। জাতীয় যে কোনো সংবাদ তাঁরা নিষ্ঠার সঙ্গে পরিবেশন করেন । তাই সংবাদের গুরুত্বও অনেক বেশী তাৎপর্য বহন করে । তাই সাংবাদিকতারও গুরুত্ব অপরিসীম । কিন্তু নানান কারনে খুব কম সংখ্যক সাংবাদিকই এ পেশায় সততা বজায় রাখতে পারেন । অনেকেই শখের বসে সাংবাদিকতা করেন । এদের অনেকেরই ‘সাইড ইনকাম’ হিসাবে আছে ঠিকাদারি, চাকরি, ব্যবসা বা অন্যান্য আয়ের উৎস। কেউ কেউ এর সুবাদে এদিক সেদিক টুকটাক আয় রোজগারও করেন। কিছু কিছু জায়গা থেকে কারো কারো বখরাও আসে। ঝুঁকি নিয়ে খবরাখবর পাঠালে এগুলো বন্ধ হয়ে যাবে। তাই তারা ঝুকিপূর্ণ সংবাদ পারত পক্ষে এড়িয়ে চলেন । সাংবাদিকতা করতে এসে তাঁরাতো আর উপোস মরবেন না । তাই তাঁরা প্রভাবশালী শিল্পপতি জোতদার মহাজন আর প্রসাশনের বৃত্তের মধ্যেই ঘুরাফিরা করতে বেশী স্বাচ্ছন্দ বোধ করেন। এর বাইরে আর কোনো সংবাদের প্রতি তাঁদের কোন আগ্রহ নেই । অবশ্য দু’একটি ব্যতিক্রম ছাড়া । আর যাঁরা সত্যি সত্যিই সাংবাদিকতা করতে চান তাঁরা কোনো রকম ঝুঁকিকেই তোয়াক্কা করেননা । আবার অনেকেই আছেন আন্তরিক ভাবেই তাঁরা সাংবাদিকতা করেন কিন্তু কোনো রকম ঝুঁকি তাঁরা নিতে চাননা । ঝুঁকি এড়িয়ে তাঁরা সংবাদ পরিবেশন করেন । সাংবাদিকতায় এটা অন্যরকম একটা কৌশলও বটে । নিজেকে ঝুঁকির মধ্যে না ফেলে আকারে ইঙ্গিতে ঘটনা বয়ান করার অন্য রকম কারিশমা । এর মাধ্যমে অন্যায়ের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে উঠার ক্ষেত্র গুলো তৈরি হয়। তাৎক্ষনিক ভাবে এ সংবাদে কোনো প্রতিক্রিয়া না ঘটলেও সুদূরপ্রসারী একটা প্রভাব বিস্তার করে । আবার অনেক সময় দেখা যায় সাংবাদিকরা এ ধরনের সংবাদ পরিবেশনে তেমন দক্ষ নন । ফলে এ ক্ষেত্রে অনাকাঙ্খিত ঘটনার শিকার হন তাঁরা । অনেক ক্ষেত্রেই এর হিতে বিপরিত হয়ে পড়ে । সৎ ভাবে সাংবাদিকতা করতে গেলে ঝুঁকিতো রয়েছেই । সাংবাদিকতায় মূল পেশা হিসাবে একে বেছে নেয়া দুরুহ । কারণ তিনি যে পত্রিকার হয়ে কাজ করবেন সে পত্রিকা থেকে যে বেতন তিনি পাবেন তা দিয়ে তাঁর চলার কথা নয় । অনেক পত্রিকা আবার কোনো পয়সাই দেয়না । সাংবাদিকতা যারা করেন তারা এটা বুঝেশুনেই করেন । কিন্তকরেন তা অন্যদের থেকে কিছুটা ভিন্ন । তিনি কিছুটা বিদ্রোহী আবার সমাজ সংস্কারক । সমাজের বৈসাদৃশ্যগুলো তাঁকে বিচলিত করে তোলে । যেহেতু তিনি সমাজের মানুষ। সবার সঙ্গে তাঁর নীবিড় আত্মীয়তার সম্পর্ক গড়ে উঠে । সামাজিক জীব হিসেবে এই সম্পর্ক ডিঙ্গিয়ে যাওয়া তাঁর জন্য কঠিন হয়ে পড়ে । কোনো ঝুঁকির প্রশ্ন আসলে তিনি চরম দ্বিধার মধ্যে পড়েন । এখানেই সাংবাদিকতার চরম ব্যর্থতা । ঝুঁকি নিয়ে যাঁরা একে অতিক্রম করতে পেরেছেন তাঁরাই সত্যিকারের সাংবাদিক হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছেন । অন্যেরা ফাঁপা টাউট দালাল চাঁদাবাজ সুযোগসন্ধানী চামচা হিসাবে চিহ্নিত হয়েছেন । যাঁরা প্রকৃতই সাংবাদিকতা করেন তাঁদের উচিৎ সংঘবদ্ধ হয়ে এদেরকে রুখে দেয়া । কারন এরা সাংবাদিকতার নামে এই পবিত্র পেশাকে কলুষিত করে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলে । সাংবদিকদের প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিও কিছুটা ভিন্ন । তাই সমাজও এদের প্রতি সর্বদা দৃষ্টি নিবদ্ধ করে রাখে । এদের গতিবিধির উপরও সমাজ নজর রাখে । সুতরাং সাংবাদিক হিসাবে সমাজের উপর স্বয়ংক্রিয় ভাবে এদের আরো বেশী দায়িত্ব অর্পিত হয়ে থাকে । এইসব কিছুর উপর অবজ্ঞা করে কারো এ পেশায় আসা সমীচীন নয় । যদিও এ পেশায় হলুদ সাংবাদিক আর পাপারাজ্জিদের বিচরণ বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে । কাঙ্গাল হরিনাথ মজুমদার(১৮৩৩)সালে গ্রামীন সাংবাদিকতার পথিকৃত প্রাণপুরুষ। প্রায় পৌনে দু’শ বছর আগে বাংলার নিভৃত গ্রামে স্থানীয় সাংবাদিকতা নিয়ে যে গ্রামীণ সাংবাদিকতা শুরু করেছিলেন তা আজ কিংবদন্তিসম সংবাদকর্মীদের দিকনির্দেশক হিসাবে পরিগনিত । ১২-১৩ বছর বয়সে কাঙ্গাল হরিনাথ প্রতিজ্ঞা করেছিলেন কুষ্টিয়ার কুমারখালী অঞ্চলে জমিদারদের প্রজাপিড়নের ঘটনা তিনি প্রকাশ করবেন পত্রিকা প্রকাশের মাধ্যম । ১২৭০ সালের ১ বৈশাখ(এপ্রিল ১৮৬৩ইং) তিনি ‘গ্রামবার্ত্তাপ্রকাশিকা’ প্রকাশ করেন। সে কালের নদী ও প্রয়ঃপ্রণালীর সংস্কার জনসাধারনের জলকষ্ট, পুলিশ বিভাগ প্রভৃতি বিষয়ে আলোচনা করে ‘গ্রামবার্ত্তা’ জনকল্যানে কেবল নয় জমিদার নীলকর মহাজন প্রশাসনিক আমলা গোরা পল্টনের (ইউরোপীয় সৈন্য) অন্যায় অত্যাচারের ঘটনা সবিস্তার প্রচার করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন । ১৮৭২-৭৩ সালে পাবনার কৃষক-প্রজা বিদ্রোহের সময় ‘গ্রামবার্ত্তা’ প্রথম রাজশক্তির দৃষ্টি আকর্ষণ করে। সে সময় শিলাইদহে ঠাকুর জমিদারদের কৃষক-প্রজা নিগ্রহ নিপীড়নের ঘটনার খবরাখবর প্রকাশ করে হরিনাথ বিপদগ্রস্ত হন ।(কাঙ্গাল হরিনাথ: গ্রামীণ মনীষার প্রতিকৃতি ॥ আবুল আহসান চৌধুরী) তিনি নিজেও নানান নিগ্রহের শিকার হয়েছিলেন । তবুও কারো সাথে তিনি আপোষ করেননি। সাংবাদিকতার আর এক প্রবাদ পুরুষ প্রয়াত চারণ সাংবাদিক মোনাজাত উদ্দিন । সাংবাদিকতার নবতর আধুনিক ধারা তিনি চোখে আঙ্গুল দিয়ে হাতে কলমে সংবাদকর্মীদের শিখিয়েছেন। চরম ঝুঁকির মধ্যে থেকে কি করে সংবাদ রচনা করতে হয়, তিনি তা বুঝিয়ে দিয়ে গেছেন। পথ থেকে পথে, লীটারী, কাগজের মানুষেরা, কানসোনা মুখ প্রভৃতি সংবাদ সিরিজে তিনি যেমন চিত্র এঁকেছেন মতার বৃত্তের বাইরের ভুখানাঙ্গা সারিসারি পোড় খাওয়া মানুষদের তেমনি তীব্র লেখনির মাধ্যমের সমাজের তথাকথিত সভ্যতার আব্র“ উন্মোচন করে দিতে কুন্ঠাবোধ করেননি। সাংবাদিকরা হবেন সেই মানুষ, যাঁরা সকল ভয়ভীতি লোভলালসা ডিঙ্গিয়ে তার সমাজের জন্য উপযাচক হয়ে অকাতরে কাজ করে যাবেন। নিজ নিজ এলাকায় তাঁরা সার্বিক উন্নয়নে ব্যাপক অবদান রাখতে পারেন। গণমানুষের কল্যানই হোক সাংবাদিকতার একমাত্র ব্রত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত © দিগন্তের বার্তা ২৪
Theme Customized BY Theme Park BD