1. admin@digonterbarta24.com : admin :
শনিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২১, ১১:০৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :

মাংস বিক্রিকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় হামলা ভাংচুর গুলিবর্ষণ,১০ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ

দিগন্তের বার্তা ২৪ ডেস্ক
  • সময় : সোমবার, ১০ মে, ২০২১
  • ৭২ বার পঠিত

কক্সবাজার প্রতিনিধিঃ

কক্সবাজার শহরে গরুর মাংস বিক্রিকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় চলছে হামলা ভাংচুর এবং গুলিবর্ষণ।এ ঘটনায় স্বাভাবিক মানুষের মাঝে ছড়িয়ে পড়েছে নানান আতংক। ঘটনার বিবরণে জানাযায়, কক্সবাজার শহরের বড়বাজারে গরুর মাংসের ব্যবসা করেন পৌরসভা ৮ নং ওয়ার্ড বৈদ্য ঘোনা এলাকার নুরুল ইসলাম (৪৮) এবং ৯ নং ওয়ার্ড পেয়ারা বাগান এলাকার রাজা মিয়া (৪৩)। দুজনেই সম্পর্কে মামা ভাগিনা। দুজনের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান একই স্থানে অর্থাৎ মাত্র বিশ ফিট দুরত্বে এবং সামান্য আগে পিছে। যেহেতু ব্যবসায়ীদের তুলনায় মাংসের বাজারটি খুবই সংকীর্ণ তাই এমন অবস্থান। গতকাল রবিবার (৯ মে) সকাল দশটার দিকে একজন গ্রাহক মাংস কিনতে আসলে সামনের দোকানী রাজা মিয়া ঐ ক্রেতার সঙ্গে মাংসের ভালো খারাপ নিয়ে কথা বলে বিক্রির চেষ্টা করে। পিছনে থাকা নুরুল ইসলাম ও এগিয়ে এসে ঐ ক্রেতাকে তার কাছথেকে মাংস কিনতে উৎসাহিত করেন।

যদিও এই মাংস বাজারে প্রচলনটা তাদের মাঝে পূর্বে থেকে চলমান আছে। ক্রেতা টানাটানির সুত্রধরে তৎক্ষনাৎ দুজনের মাঝে শুরু হয় মারামারি। ওখানেই বিভক্ত হয়ে যায় দুজনের নিকট আত্নীয়ের দুটি গ্রুপ। এক পর্যায়ে রাজা মিয়া গ্রুপের হাতে আহত হয় নুরুল ইসলামের ছেলে জাহেদ (৩২) এবং একইসাথে বিক্রির উদ্দেশ্যে রশি বেঁধে ঝুলিয়ে রাখা গরু মাংসের দেহাবশেষ গুলো কেটে মাটিতে ফেলে দেয় তারা।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এ ঘটনায় নুরুল ইসলাম কক্সবাজার সদর মডেল থানায় ব্যবসায়ি রাজা মিয়া এবং তার মেয়ের জামাই রমজানসহ কয়েকজনের নামে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের সুত্রে থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে দু’পক্ষের সাথে বসে বিষয়টি সুরাহা করা হবে বলে জানান। এবং এবিষয়ে পুনরায় ঝামেলা সৃষ্টি না করার জন্য সতর্কতা করা হয়। পরবর্তিতে সারাদিন যে যার মতো ব্যবসা শেষ করেন এবং আগে পরে সবাই চলে যান। তবে সন্ধ্যা সাত টার দিকে রাজা মিয়া ব্যবসা শেষে মোটরসাইকেল যোগে বাড়ি ফেরার পথে শহরের গোলদিঘির পাড় নামক এলাকায় নুরুল ইসলামের ছেলে জাহেদের সাথে সামনাসামনি হলে পূণরায় ঝগড়া লেগে যায়। তখন রাজা মিয়ার সাথে ছিলেন তার বন্ধু ব্যবসায়ি আবদুল খালেক। জাহেদের সাথেও ছিলেন তার এক বন্ধু। যদিও দু’পক্ষই ছিলেন মোটরসাইকেল যোগে। ঘটনার দশমিনিটের ব্যবধানে দুপক্ষের হৈ-হুল্লোড়ে জনগণ এগিয়ে আসলে জাহেদ এবং তার বন্ধু তাদের ব্যবহুত মোটরসাইকেলটি ফেলে পালিয়ে যায়।

তৎক্ষনাৎ রাজা মিয়ার তথ্য মতে তার গতিরোধ করে জাহেদ দশ লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে গেছে। যা ছিলো রাজা মিয়ার সারাদিনে গরু বিক্রির টাকা। এ ঘটনায় রাজা মিয়া পুলিশের জরুরি সেবা ৯৯৯ -এ ফোন করলে কক্সবাজার সদর মডেল থানার এস আই মানিকের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং জাহেদের ফেলে যাওয়া মোটরসাইকেলটি থানায় নিয়ে যায়।

তবে পুলিশ আসার পূর্বে উৎসুক জনতার ভিড়ে রাজা মিয়ার পরিবারের সদস্যদের পক্ষ হয়ে ছুটে আসা বাদশা ঘোনা এলাকার আয়েশা বেগমের ছেলে শাকিল (৩০) ঘটনাস্থলে গুলিবর্ষণের মিসফায়ার করে ভীতি প্রদর্শন করেন। পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত হলে তিনি সটকে পড়েন। পুলিশ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করলেও গুলিবর্ষণের বিষয়টি গোপন করা হয়। তবে রাজা মিয়া বলছেন আমার ছিনতাই করা টাকার বিরোধিতা করতে শাকিল হঠাৎ এমনটা করেছে।

যদিও চিহ্নিত এই শাকিল রাজা মিয়ার স্ত্রীর বড়ো বোনের ছেলে এবং ঘটনাস্থলে এসেছিল তারই পক্ষ হয়ে। পরবর্তীতে ছিনতাইয়ের অভিযোগ দায়ের করেন রাজা মিয়া। অভিযোগের প্রেক্ষিতে রাজা মিয়ার সাথে থাকা টাকার ব্যাগ এবং ছিনতায়ের সত্যতা নিশ্চিত করতে পুলিশ পাশ্চাত্য বিভিন্ন স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে সন্ধান চালায়।

একইদিন রাত বারোটার দিকে শাকিল পূণরায় নুরুল ইসলামের বৈদ্যঘোনা এলাকায় তার বাড়ির পাশে গুলিবর্ষণ করে এবং হামলা ভাংচুর করে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। খবর পেয়ে একদল পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরদিন সোমবার (১০ মে) বেলা বারোটার দিকে দু’পক্ষই নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে ব্যবসা করতে গেলে আবারও ঝগড়া লেগে যায়।

এতে রাজ মিয়ার অনুসারীদের আক্রমণের শিকার হয় নুরুল ইসলামের অনুসারী একই এলাকার এবং একই স্থানে ব্যবসায়ি শহিদুল্লাহ (৪০)। এ ঘটনায় আহত শহিদুল্লাহ রাজা মিয়াসহ তিন জনকে অভিযুক্ত করে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তবে রাজা মিয়ার কাছ থেকে দশ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে যাচ্ছেন ছিনতাইয়ে অভিযুক্তের পিতা নুরুল ইসলাম। তিনি বলেন রাজা মিয়া আমাদের দায়েরকৃত অভিযোগ থেকে বাঁচতে এমন মিথ্যা ঘটনা সৃষ্টি করার অপচেষ্টা করছেন।

তাই আমরা প্রশাসনের প্রতি এর সুষ্ঠু সমাধান আশা করছি। এঘটনায় দুপক্ষের লিখিত অভিযোগ আমলে নিয়ে পুলিশের সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি শেখ মনিরুল গীয়াস।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত © দিগন্তের বার্তা ২৪
Theme Customized BY Theme Park BD