নিজস্ব প্রতিনিধি : চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচলাইশ থানাধীন পূর্ব নাছিরাবাদ মৌজায় প্রবাসীর জমি দখল, আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এপিএস পরিচয় ব্যবহার করে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে সাফওয়ানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার প্রতিবাদে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা ও সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, পূর্ব নাছিরাবাদ মৌজার বি.এস. ২৮২ নম্বর খতিয়ানের সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। অভিযোগকারী মোহাম্মদ মুসলিমের দাবি, বিভিন্ন দলিলের মাধ্যমে সম্পত্তি ক্রয়ের পর তিনি বৈধভাবে ভোগদখলে ছিলেন। পরবর্তীতে মালিকানা ও দখল নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হলে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। এ নিয়ে নিম্ন আদালত, জেলা জজ আদালত এবং উচ্চ আদালতে একাধিক মামলা ও আপিল চলমান রয়েছে।
অভিযোগকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, সম্পত্তি নিয়ে আদালতের স্থিতাবস্থা সংক্রান্ত আদেশ বহাল থাকা অবস্থায় জনৈক সাফওয়ান নিজেকে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এপিএস পরিচয় দিয়ে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেন। একই ঘটনায় আলেমুল হকের নামেও সম্পত্তি সংক্রান্ত বায়নানামা দলিল সম্পাদনের অভিযোগ করা হয়েছে।
মানববন্ধনে বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নাম ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে হয়রানি ও সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করা হচ্ছে। তারা এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন জজ কোর্টের আইনজীবী শাহাদুল ইসলাম, মোঃ আবুল কাশেম, প্রবাসী এনামুল হক, নির্যাতিত ভুক্তভোগী নাসরিন সুলতানা, আনজুমান আরা, সীমা আক্তার এবং কেয়ারটেকার ইনসান।
বক্তারা বলেন, প্রবাসীদের সম্পত্তি দখল ও হয়রানি বন্ধে প্রশাসনকে কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে। একই সঙ্গে আদালতের আদেশ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের পরিচয় ও কর্মকাণ্ড তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
এদিকে অভিযোগকারীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ ঘটনায় পাঁচলাইশ থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে এবং জাতীয় দৈনিক আজাদী পত্রিকায় সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করা হয়েছে।