চট্টগ্রাম: ফটিকছড়িতে চিরকুট লিখে আত্মহত্যা করা আয়েশা সিদ্দিকার মৃত্যুকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেছেন মেয়ের পিতা কাতার প্রবাসী মোহাম্মদ ফারুক। ১৫-২০ দিন আগে তার মেয়ে স্বামীকে নিয়ে আলাদা হয়ে গেলে শ্বশুর-শাশুড়িসহ দেবর মুরাদ ও ননদ এ্যানি নিয়মিত নির্যাতন শুরু করে।
তার অভিযোগ, আমি মেয়েকে রেখে দিলে কাবিনের ১৮ লাখ টাকা দিতে হবে বলে ওরা মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে।
মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) রাতে প্রবাস থেকে দেশে এসে নিজ বাড়িতে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি জানান, মেয়েকে শ্বশুরবাড়িতে ধারাবাহিক নির্যাতনের কারণে ৩ ডিসেম্বর তিনি শ্বশুরবাড়ি থেকে নিয়ে আসেন। মেয়ের স্বামী টাকা দাবি করতেন, বিদেশ যাওয়ার সময় এবং পরে ঘর নির্মাণের সময়ও তিনি ১ লাখ টাকা দেন। ঘটনার দিন সকাল ১১টা ২৫ মিনিটে তাদের জানানো হয় আয়েশার মৃত্যুর খবর, কিন্তু তার আগেই স্থানীয় দুই ব্যক্তিকে দিয়ে দরজা ভেঙে এ ঘটনাকে ‘আত্মহত্যা’ হিসেবে সাজানোর চেষ্টা করা হয়। মেয়ে ফাঁস নেওয়ার মতো পরিস্থিতি ছিল না উল্লেখ করে তিনি জানান, ঘর এলোমেলো, গলায় থাকা চেইন ছেঁড়া অবস্থায় নিচে পড়ে ছিল, মেয়ের ডান হাত পুরো কালো হয়ে গিয়েছিল।
তার দাবি- ফাঁসি নিলে হাত কালো হয় না। দরজা বন্ধ করে জানালা দিয়ে লম্বা লাঠি দিয়ে দরজার লক আটকানো হয়েছিল। মেয়ের জামাই ঘটনার পর আমার কোনো ফোন রিসিভ করেননি। দোষ না থাকলে কথা বলবে না কেন? নিশ্চয়ই সে ঘটনার সাথে জড়িত।
ফারুক অভিযোগ করেন, থানাকে প্রভাবিত করে ঘটনাটি ‘আত্মহত্যা’ হিসেবে চালিয়ে দিতে চেষ্টা চলছে। থানা ৩০২ ধারায় মামলা নিচ্ছে না। পোস্টমর্টেম রিপোর্ট এলে আমরা হত্যা মামলা করব।