মনপুরা (ভোলা) প্রতিনিধি: ভোলার মনপুরায় স্বামী পরিত্যক্ত এক নারীকে মারধর ও শ্লীলতা হানির ঘটনায় মামলায় ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সভাপতিকে আটক করেছে পুলিশ।
বুধবার দুপুর ১২ টায় থানার সামনে মারধরের ঘটনা ঘটে। পরে ভুক্তভোগী স্বামী পরিত্যক্ত নারী নুরনাহার ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সভাপতি সহ ৬ জনকে আসামী করে থানায় মামলা করে।
পরে দুপুর ৩ টায় মামলার প্রধান আসামী সাবেক যুবদল নেতাকে আটক করে আদালতে সোর্পদ করে পুলিশ।
আটকৃত মোঃ মাকছুদ হাজীরহাট ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সভাপতি। মামলার অপর আসামীরা হলেন, রাসেল, তৈয়ব, সোহেল, ফজলু ও লাভলী বেগম। এদের সবার বাড়ি হাজিরহাট ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুর সাড়ে ১১ টায় পাওনা টাকা চাইতে হাজিরহাট বাজারে গেলে থানার সামনে সাবেক যুবদল সভাপতি মাকছুদের নেতৃত্বে স্বামী পরিত্যক্ত নারী নুরনাহারকে মারধর করে মামলার আসামীরা। এমনকি শাড়ী টেনে ছিঁড়ে শীলতাহানীর অভিযোগ নুরনাহারের। পরে সাবেক যুবদল সভাপতিসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন ভুক্তভোগী নারী। পরে বুধবার দুপুর তিনটায় আটক করে আদালতে সোর্পদ করে পুলিশ।
এই ব্যাপারে আটককৃত সাবেক যু্বদল সভাপতি মাকছুদের ভাতিজা সুমন ও মামুন জানান, রাজনীতির প্রতিহিংসায় যুবদলের একটি গ্রুপ ওই নারীকে দিয়ে মামলা করিয়েছে। তারা আরও জানান, এই নারীর বিরুদ্ধে কিছুদিন আগে এলাকার বাসিন্দারা পতিতাবৃত্তির অভিযোগে মানববন্ধন করে।
এই ব্যাপারে ভুক্তভোগী নারী নুরনাহার জানান, পাওনা টাকা চাইতে গেলে যুবদল নেতা মাকছুদের নেতৃত্বে ৫-৬ জন মারধর করে হেনস্তা করে৷ এর আগে মাকছুদ আমাকে মারধর করে প্রাণনাশের হুমকি দেয় এবং মারধর করার ভিডিও আমি মুঠোফোনে ধারন করি।পরবর্তীতে থানায় অভিযোগ করে কোন সুফল পাইনি, বিষয়টি আমি স্থানীয় এমপি নুরুল ইসলাম নয়নকে অবহিত করি। পরে মাকছুদসহ ছয় জনকে আসামী করে মামলা করেছি। এখন তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান ওই নারী।
এই ব্যাপারে মনপুরা উপজেলা যুবদলের আহবায়ক শামসুদ্দিন মোল্লা জানান, নারীকে হেনস্তাকারী সাবেক যুবদলের ওয়ার্ড সভাপতি মাকছুদ বর্তমানে যুবদলের রাজনীতির সাথে জড়িত নয়। তবে তিনি যেই কাজটি করেছেন নিন্দনীয়।
এই ব্যাপারে মনপুরা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাজহারুল ইসলাম জানান, স্বামী পরিত্যক্ত নারীকে মারধর ও হেনস্তা করার অভিযোগ মামলার আসামী মাকছুদকে আটক করে আদালতে সোর্পদ করা হয়েছে।