বিনোদন ডেস্ক: দেশীয় বিনোদন অঙ্গনে নতুন প্রজন্মের সম্ভাবনাময় মুখ হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে চান দুই বোন আফসানা আক্তার ঈশা ও আফসিন আক্তার শশী। অভিনয়ে পথচলা খুব বেশি দিনের নয়, তবে এরই মধ্যে ‘নসিব’ চলচ্চিত্রে কাজ করে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিয়েছেন তারা। ছোটবেলা থেকেই মিডিয়ায় কাজ করার স্বপ্ন দেখতেন দুই বোন। সেই স্বপ্ন পূরণের পথে এবার বড় পর্দায় কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন তারা।

ঈশা ও শশীর বাড়ি চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রায়পুর গ্রামে। দুই বোনের বাবা মোহাম্মদ ইয়াসিন একজন ব্যবসায়ী এবং মা শারমিন আক্তার নারী উদ্যোক্তা। বড় বোন ঈশা ইন্টারমিডিয়েটের প্রথম বর্ষে পড়ছেন। আর ছোট বোন শশী দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। অভিনয়ের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাদের পরিচিতি রয়েছে। সেখানে বিভিন্ন ধরনের ভিডিও ও কনটেন্ট তৈরি করে দর্শকদের কাছ থেকে সাড়া পেয়েছেন তারা।
অভিনয়ে আগ্রহের বিষয়ে ঈশা ও শশী বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই মিডিয়ায় কাজ করার স্বপ্ন দেখতাম। কিন্তু সেভাবে সুযোগ না পাওয়ায় অনেক সময় মন খারাপ হতো। আমাদের আব্বা-আম্মার কাছ থেকে সব সময় উৎসাহ ও ভালোবাসা পেয়েছি। মিডিয়ার সব অভিনয়শিল্পীকেই আমাদের ভালো লাগে। তবে শাকিব খান ও অপু বিশ্বাসের অভিনয় আমাদের বেশি অনুপ্রাণিত করেছে। তাঁদের অভিনয় দেখেই অভিনয়ের প্রতি আমাদের আগ্রহ আরও বেড়েছে।’

অভিনয় ও মডেলিংয়ে নিজেদের প্রস্তুত করার বিষয়ে তারা বলেন, ‘চট্টগ্রামের স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান স্টার ফেয়ার ফ্যাশন ইনস্টিটিউটের কর্ণধার আলমগীর হোসেন আলো দাদার তত্ত্বাবধানে আমরা মডেলিং ও অভিনয় শেখার মাধ্যমে নিজেদের প্রস্তুত করতে থাকি। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের ভিডিও ও কনটেন্ট তৈরি করতাম। সেখান থেকে দর্শকদের অনেক উৎসাহ পেয়েছি। তবে অনেকেই আমাদের নিয়ে নেতিবাচক ও বাজে মন্তব্য করেছেন। মাঝেমধ্যে মন খারাপ হলেও কখনো নিজেদের অবস্থান থেকে পিছিয়ে যাইনি। আমাদের দৃঢ় ইচ্ছা ছিল, একদিন সবাই আমাদের কাজের প্রশংসা করবেন।’
চলচ্চিত্রে কাজের সুযোগ পাওয়ার প্রসঙ্গে তারা বলেন, ‘আলো ভাই আমাদের ঢাকার কাস্টিং ডিরেক্টর জাহিদ চৌধুরী ভাইয়ের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। পরে তিনি আমাদের একটি সিনেমায় অভিনয়ের সুযোগ করে দেন। এ জন্য তাঁর কাছে আমরা চিরকৃতজ্ঞ।’

পরিচালক ইকবালের ‘নসিব’ চলচ্চিত্রে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে ঈশা ও শশী বলেন, ‘সিনেমাটিতে অভিনয় করতে পেরে আমাদের খুব ভালো লাগছে। শুটিংয়ের পুরো টিমের আন্তরিকতা আমাদের মুগ্ধ করেছে। সবার সঙ্গে কাজ করে একবারও মনে হয়নি, আমরা প্রথমবার ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছি। পুরো টিমের প্রতি আমাদের অনেক কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা রইল। সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন, যেন স্বপ্নপূরণের পথে এগিয়ে যেতে পারি।’

ভবিষ্যতে ছোট পর্দা ও বড় পর্দায় নিয়মিত কাজ করে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করতে চান এই দুই বোন। অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকদের ভালোবাসা অর্জন করে বিনোদন অঙ্গনে নিজেদের স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করাই এখন তাদের লক্ষ্য।