চট্টগ্রাম, ১৮ জুলাই: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, চট্টগ্রাম মহানগরীর ডবলমুরিং থানা উলামা বিভাগের উদ্যোগে 'জুলাই বিপ্লবের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি' শীর্ষক উলামা-মাশায়েখের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১৮ জুলাই) ডবলমুরিং থানা উলামা বিভাগের সভাপতি হাফেজ শহিদুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, "২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে দেশের আলেম-ওলামা ও মাদরাসার শিক্ষার্থীদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভূমিকা জুলাই আন্দোলনকে সফলতার মঞ্জিলে পৌঁছে দিয়েছে। ছাত্র-শ্রমিক-জনতার আন্দোলনে তারা জীবন বাজি রেখে স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাজপথে নেমে ফ্যাসিবাদী শাসনের পতনে অবিস্মরণীয় অবদান রেখেছেন।"
তিনি বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে শুরু করে ফ্যাসিবাদবিরোধী গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত আলেম সমাজ রাজপথের মিছিল-সমাবেশে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন। আন্দোলনের সম্মুখসারির যোদ্ধাদের পাশাপাশি আহত ও শহীদদের মধ্যেও আলেম ও মাদরাসার শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ ছিল। হক্কানি আলেম-ওলামারা সবসময় জুলুম ও জালিমের বিরুদ্ধে নৈতিক ও আধ্যাত্মিক অবস্থান গ্রহণ করেছেন। আন্দোলনের পক্ষে বিবৃতি প্রদান, দোয়া মাহফিল আয়োজন এবং বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক প্ল্যাটফর্ম থেকে ছাত্র হত্যার প্রতিবাদ জানিয়ে তারা সাধারণ মানুষকে আন্দোলনের পক্ষে উদ্বুদ্ধ করেছেন।
তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে কওমী মাদরাসার শিক্ষার্থীরা ঢাকার যাত্রাবাড়ীসহ দেশের বিভিন্ন রণক্ষেত্রে সরাসরি অংশগ্রহণ ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনকে বেগবান করেন। সংকটময় সময়ে বহু আন্দোলনকারী বিভিন্ন মসজিদ ও মাদরাসায় আশ্রয় লাভ করেন। জুলাই অভ্যুত্থানে মাদরাসার শিক্ষার্থীদের এই বীরত্বগাথা ও আত্মত্যাগ জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।
মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, আলিয়া মাদরাসার শিক্ষার্থীদের ভূমিকাও ছিল অত্যন্ত গৌরবোজ্জ্বল। ঢাকার যাত্রাবাড়ী, উত্তরা, গাজীপুর এবং চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তারা সামনের সারিতে থেকে আন্দোলনে অংশ নেন এবং অনেকেই পুলিশের গুলিতে শহীদ হন। আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখার কারণেই চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী বায়তুশ শরফ মাদরাসার শহীদ হাফেজ আবদুর রহীম ছাত্রাবাস ব্লক রেইড করে শতাধিক শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং রিমান্ডে নিয়ে হয়রানি করা হয়।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক ধর্মীয় দলের নেতৃবৃন্দ ছাত্রদের ৯ দফা দাবির প্রতি প্রকাশ্যে একাত্মতা ঘোষণা করেন এবং তৎকালীন সরকারের দমন-পীড়নের তীব্র নিন্দা জানান। অগ্নিঝরা জুলাই আন্দোলনে এ দেশের আলেম সমাজ বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়ে দেশকে ফ্যাসিবাদমুক্ত করার ক্ষেত্রে যে ঐতিহাসিক ভূমিকা রেখেছেন, তা জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে, ইনশা আল্লাহ।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ডবলমুরিং থানা আমীর ফারুকে আযম, থানা সেক্রেটারি সালাউদ্দিন আহমেদ, থানা অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি সাইফুল ইসলাম, থানা কর্মপরিষদ সদস্য মাসুদুল কবির, ২৪ নম্বর ওয়ার্ড আমীর ইমরানুল হক, ২৩ নম্বর ওয়ার্ড আমীর আবদুর রহিম, ২৪ নম্বর ওয়ার্ড সেক্রেটারি মাকছুদুর রহমান এবং ২৪ নম্বর ওয়ার্ড উলামা বিভাগের সভাপতি মাওলানা আইয়ুব আলী আনসারী।
বক্তারা বলেন, জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা ছিল একটি বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক ও মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। সেই প্রত্যাশা বাস্তবায়নে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশাপাশি আলেম-উলামাদের দায়িত্বশীল ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইসলামী মূল্যবোধ, সামাজিক সম্প্রীতি, নৈতিকতা ও জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করার মাধ্যমে একটি কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তারা।
সভায় ডবলমুরিং থানার বিভিন্ন এলাকার উলামা-মাশায়েখ, দায়িত্বশীলবৃন্দ এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। প্রাণবন্ত আলোচনা, মতবিনিময় এবং দেশ, জাতি ও জুলাই আন্দোলনের শহীদদের রূহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়ার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।