নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রামের রাজনীতি ও সমাজসেবার পরিচিত মুখ, আজন্ম প্রতিবাদী ও আপোষহীন নারী নেত্রী শিরিন আক্তার মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সংগঠনের শীর্ষ পদে মনোনীত হয়েছেন। তাঁর এই দ্বৈত দায়িত্ব প্রাপ্তিতে চট্টগ্রামের রাজনৈতিক মহলে যেমন উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে, তেমনি বিভিন্ন সামাজিক ও ব্যবসায়ী সংগঠনের পক্ষ থেকে তাঁকে অভিনন্দন জানানো হচ্ছে।
জাতীয়তাবাদী শক্তির নীতি ও আদর্শকে তৃণমূল পর্যায়ে আরও বেগবান করার লক্ষ্যে প্রথমে ‘জিয়া পরিষদ’ চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির গুরুত্বপূর্ণ ‘মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা’ পদে মনোনীত হন শিরিন আক্তার। সংগঠনের সম্মানিত উপদেষ্টামণ্ডলীর বিশেষ সুপারিশে চট্টগ্রাম মহানগর জিয়া পরিষদের সভাপতি জসীম উদ্দীন সিরোজ এবং সাধারণ সম্পাদক মোতাসসিনা জামান সুমী চৌধুরী এই দায়িত্ব অর্পণ করেন।
এর পরপরই গত ২৪ আগস্ট ‘তারেক রহমান রাজনৈতিক দর্শন চর্চা ও গবেষণা কেন্দ্র’ চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির ‘মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা’ হিসেবে তাঁর নাম ঘোষণা করা হয়। সংগঠনের চেয়ারম্যান, বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মোঃ আলমগীর নূর শিরিন আক্তারের এই মনোনয়ন চূড়ান্ত অনুমোদন দেন। এই গবেষণা কেন্দ্রের মাধ্যমে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের রাজনৈতিক দর্শন ও রাষ্ট্র সংস্কারের চিন্তাধারা নারীদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে তিনি কাজ করবেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শিরিন আক্তার দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া উত্তর পদুয়া জাগদলের (JAGDAL) কম্বাইন্ড কমিটির কনভেনার, রাঙ্গুনিয়া থানা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও সহ-সভাপতি এবং শহীদ জিয়ার আস্থাভাজন ব্যক্তিত্ব মরহুম আলহাজ্ব খায়ের আহমেদ তালুকদারের (যিনি এলাকায় ‘ইংলিশ খায়ের’ নামে সুপরিচিত ছিলেন) সুযোগ্য কন্যা। এছাড়াও তিনি চট্টগ্রামের প্রখ্যাত ও প্রভাবশালী সাংবাদিক, একুশে পত্রিকার প্রয়াত দূরদর্শী সম্পাদক আজাদ তালুকদারের আপন বড় বোন।
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে শিরিন আক্তারের পিতা আলহাজ্ব খায়র আহমেদ তালুকদারের ভূমিকা ছিল অবিস্মরণীয়। যুদ্ধকালীন সময়ে তিনি বিভিন্ন সময়ে ৮০ থেকে ১২০ জন মুক্তিযোদ্ধাকে বাসস্থান, খাদ্য, বস্ত্র ও পরম মমতায় নিজের আশ্রয়ে রেখে সহযোগিতা করেছেন। এমনকি মুক্তিযোদ্ধারা বিদায় নেওয়ার সময় তিন-চার দিনের শুকনো খাবারও সাথে তৈরি করে দিতেন তিনি। মুক্তিযোদ্ধাদের এই বিপুল সহায়তার কারণে তৎকালীন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসররা তিন তিনবার তাঁর বাড়ি পুড়িয়ে দেয়। দেশ স্বাধীনের পর অসংখ্য স্কুল ও মাদ্রাসা স্থাপন করলেও তিনি কখনো কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা পদের লোভ করেননি। নিঃস্বার্থ এই দেশপ্রেমিককে মুক্তিযুদ্ধের সরকারি সনদ নেওয়ার জন্য বারবার অনুরোধ করা হলেও তিনি কোনো সনদ গ্রহণ করেননি।
বাবার সেই আদর্শের পথ ধরে সফল নারী উদ্যোক্তা ও সমাজসেবক হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে মাঠপর্যায়ে নারীদের অধিকার রক্ষা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে অবদান রেখে চলেছেন শিরিন আক্তার।
জোড়া পদবীতে ভূষিত হওয়ার পর এক প্রতিক্রিয়ায় শিরিন আক্তার বলেন, "রাজনীতি ও সমাজসেবা আমার জীবনের ব্রত। দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং शुभাকাঙ্ক্ষীরা আমার ওপর যে আস্থা রেখেছেন, আমি জীবন দিয়ে হলেও তার মর্যাদা রক্ষা করব। চট্টগ্রামের নারীদের আত্মনির্ভরশীল ও রাজনৈতিকভাবে সচেতন করতে আমি আমার সংগ্রাম অব্যাহত রাখব।"
চট্টগ্রাম মহানগর মহিলা দলের এই লড়াকু নেত্রীর নতুন পথচলাকে স্বাগত জানিয়ে চান্দগাঁওসহ পুরো চট্টগ্রামের রাজনৈতিক কর্মীবাহিনীর মধ্যে এখন ব্যাপক উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।